মানজুর মুহাম্মদ এর কবিতা

শুক্রবার , ১ জুন, ২০১৮ at ৫:৪২ পূর্বাহ্ণ
26

সুতি, হালকা গোলাপি রঙ

সেদিন দুপুরটি পেখম মেলতে না মেলতেই তুমি ওপাশ থেকে বললেণ্ড

শিল্পকলায় প্রোগ্রামে যাবো, কোন রঙয়ের পোশাক পরবো বলতো’

শিং মাছের ঘাই খেলো বুকটা যেন, আমি এপাশে কঁকিয়ে উঠলাম নিঃশব্দে

অফিসের দেয়ালে অবশ চোখ তখন, দেয়ালের পর দেয়াল, তারপর আঙুর বন

প্রতিদিন শুধু লতিয়ে উঠে দুর্ভেদ্য সময়ের দীর্ঘ প্রহর, জাগে আগুনের চর

মরতে মরতে বেঁচে উঠি, অক্সিজেন খুঁজি তোমার শব্দের গভীর পাতালে,

জানি এসব অলিক আলোর ডাক, অন্ধ বধির হওয়া ভালো বাকী জীবনের কালে।

ওপাশ থেকে তুমি আবার বললে– ’কই বললে না তো কি পরবো, ও অপেক্ষা করছে’

দুপুরের কাঁচ ভেঙে আমাকে ছুঁয়ে দিল নাম না জানা এক চটুল পাখির ইশারা শিস

আত্মগ্লাগায় ধীরে ধীরে থেমে গেলো মাঝ পথে আমার রোদ্রপুরের ট্রেনের বেগ

ওপাশ থেকে ক্ষীণ কণ্ঠ ভেসে আসছে ’যেথা রাম ধনু ওঠে হেসে আর ফুল ফোটে …’

ভাঙা স্বরে বল্লামসুতি, হালকা গোলাপি রঙ, এখানে গরম পড়েছে খুব, ওখানে কি মেঘ?

উত্তর খোঁজে আমার শহর

প্রশ্নগুলো উড়ে যায় কর্ণকুহরের গহ্বরে

উন্মুক্ত আঁধারে হেয়ালী আবহে

আমার উৎকণ্ঠা ঘুমিয়ে গেছে

পানাম সভ্যতার নিঝুমপুরে গভীর মোহে।

স্থির চির অবেলা, তবু বেলা যায়

বলতে না পারা অ ক্ষমতায় বুকের পাঁজর

গুড়ো করে দেয় ছুটন্ত ট্রেন উত্তর সভ্যতায়।

কোনো প্রশ্নের উত্তর খুঁজি না আর

প্রশ্নগুলো ফুটে থাকে যেন সহ্র চাঁদ

চাঁদের হাটে ধ্যানে খুঁজি কৃষ্ণপ্রহর

আমার হয়ে উত্তর খোঁজে আমার শহর।

সে আয়নার সাথে কথা বলছিল

সে আয়নার সাথে কথা বলছিল,

জীবনকে পড়ছিল বিড় বিড়।

তার কোটের দুই পকেট হতে বেরিয়ে আসছিল

বাহারি প্রজাপতির ঝাঁক

উড়ে যাচ্ছিল তার গ্রিবার সীমানা ছেড়ে

চোখের বিস্ময় ভেদ করে অনন্তলোকে।

জীবন খুঁড়ে খুঁড়ে সুগন্ধের তৃষ্ণায়

তার চোখ দু’টো ফেটে পড়ছিল, আর বোবা

কান্নায় টুপ টুপ ঝরছিল হাসির স্মিথ শুভ্র বকুল।

সে আয়না মহলের গহিন অন্দরের মুহুর্মুহু ডাক শুনছিল

সে আয়নার ভেতর ক্রমশ ঢুকে পড়ছিল।

সে আয়নার সাথে কথা বলছিল।

মানুষ শূন্য হতে চায়

সমুদ্রে মিশিয়ে দিলাম সময়

যেখানে মিশে আছে রূপমহলের কত অন্দর

দুপুরাঙ্কিত চকচকে নগর, পড়শি কোকিলের কণ্ঠ

কত বোবা কান্নার বাগান, ঝরা মৌসুমের পালক কাহন

মানুষ হতে চাই শূন্য শুধু

পালকের মতো নির্ভার হাওয়ায় হাওয়ায়

পূর্ণ বৈভবে ফুরিয়ে যেতে চায় নিঃশেষের মায়ায়।

x