মাদার্শা এক্সটেনশন সড়কটি গিলে খাচ্ছে ডোমখালী খাল

ব্যক্তিগত উদ্যোগে জনদুর্ভোগ লাঘবের চেষ্টা

মীর আসলাম. রাউজান

রবিবার , ১ এপ্রিল, ২০১৮ at ১২:২৭ অপরাহ্ণ
79

বিগত বর্ষায় রাউজানের ক্ষতিগ্রস্ত অনেক রাস্তাঘাট এখনো ক্ষতবিক্ষত রয়ে গেছে। কোনো কোনো ইউনিয়নে এসব রাস্তাঘাট চলাচল উপযোগী করতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ এলাকার সেচ্ছাসেবীরা কাজ করছে। উপজেলা সংশিষ্ট বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত বর্ষায় স্মরণকালের ভয়াবহ দুর্যোগের শিকার হয়েছিল রাউজানের রাস্তাঘাট। ক্ষতবিক্ষত রাস্তাঘাট চলাচল উপযোগী করতে এখনো সকলকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। সূত্র মতে রাউজানের ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সমূহের উন্নয়নে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সরকারি তহবিল থেকে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। এই পর্যন্ত যা পাওয়া গেছে তা প্রয়োজনের চাইতে একেবারেই কম। তারপরও জনদুর্ভোগ লাগবে রাউজানের সাংসদ এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তঘাট মেরামতে সাধ্যমত সহায়তা দিয়ে আসছেন। ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাঘাট আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে বরাদ্দ পাওয়ার জন্য তিনি মন্ত্রনালয়ে ধর্ণা দিয়ে আসছেন। স্থানীয় জনসাধারণ ও বিভিন্ন ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিরা বলেছেন এখন পর্যন্ত যেসব সরকারি বরাদ্দ পাওয়া গেছে তাদিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো কোনো রকমে চলাচল উপযোগি করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সমূহে জনদুর্ভোগ দেখে স্থানীয় সাংসদ এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী নিজের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে অনেক টাকা দিচ্ছেন। একাজে এলাকার কিছু দানশীল ব্যক্তিও সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন। গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাঘাট মেরামত করার কাজে অনেক এলাকার যুব সেচ্ছাসেবীরা কাজ করছেন। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিদর্শন করে দেখা যায়, বেশির ভাগ রাস্তাঘাট রয়েছে খাল ও নদী পাড়ের সাথে থাকা ইউনিয়ন সমূহে। জানা যায়, বিগত বর্ষায় খাল নদীসমূহ পাহাড়ি পানির চাপ সহ্য করতে না পেরে দুপাড় ভাসিয়ে স্রোতের তীব্রতায় রাস্তাঘাট ধসে দিয়ে গেছে। সরেজমিনে পরিদর্শনে দেখা যায়, সর্বাধিক বিধ্বস্ত রাস্তাঘাট রয়েছে নোয়াপাড়া, পশ্চিম গুজরা, উরকিরচর, বিনাজুরী, গহিরা, চিকদাইর ইউনিয়নে। এসব ইউনিয়ন হালদা,কর্ণফুলী, নদী ও সর্তা, ডাবুয়া খালের সাথে। পশ্চিম গুজরার আজিমেরঘাটডোমখালী সড়কটি এলাকাবাসীর জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক। এই সড়ক পথটি এখন ক্ষতবিক্ষত হয়ে চলাচল অনুপোযোগি হয়েছে। পাশ দিয়ে প্রবাহিত যাওয়া ডোমখালী খাল সড়কটিকে এখন গ্রাস করে নিচ্ছে। এলাকার লোকজন বলেছেন এই সড়ক পথে প্রতিদিন যাতায়াত করতে হয় হাটহাজারী ও রাউজানের কয়েক হাজার মানুষ। গুরুত্বের বিবেচনায় বহু আগেই এই সড়কটির নিয়ন্ত্রন নিয়েছিল সড়ক ও জনপথ বিভাগ। নামকরন করা হয় মার্দাশা এক্সটেশন সড়ক হিসাবে। কিন্তু পর্যাপ্ত বরাদ্দ না পাওয়ার কারণে সড়কটিতে এই পর্যন্ত ঠেকসই উন্নয়ন করা হয়নি। যা হয়েছিল তাও ধংস করে দিয়েছে বিগত বর্ষায় পানির স্রোতে। প্রায় তিন কিলোমিটার সড়কটির বেশির ভাগ অংশ বিধ্বস্ত অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয় চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের সহযোগিতায় কিছু কিছু অংশ চলাচলা উপযোগি করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার এই সড়ক পথ পরিদর্শনে দেখা যায়,স্থানীয় চেয়ারম্যান লায়ন সাহাবুদ্দিন আরিফ তার পরিষদের মেম্বারদের নিয়ে ডোমখালী মাজার গেইট এলাকায় ধসে যাওয়া সড়ক পথ মেরামত করার কাজ দেখছেন। তিনি জানিয়েছেন রাউজানের ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক পথসমূহঞ্জ মেরামতের জন্য বরাদ্দ চেয়ে মন্ত্রনালয়ে তালিকা পাঠানো হয়েছে। সরকারি বরাদ্দ পেতে সাংসদ ফজলে করিম চৌধুরী রাতদিন কাজ করছেন। ইতিমধ্যে যে বরাদ্দ পাওয়া গেছে তা অপ্রতুল। জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনায় নিয়ে তিনি ব্যক্তিগত টাকায় ডোমখালী সড়ক পথটিসহ কিছু রাস্তা মেরামতের উদ্যোগ নিয়েছেন ।

- Advertistment -