মাদক নির্মূল

সোমবার , ৩ জুন, ২০১৯ at ১০:৩১ পূর্বাহ্ণ
32

‘মাদককে না বলুন’ শহরের বিভিন্ন পাড়ায়-মহল্লায় অলিতে গলিতে স্লোগান সম্বলিত ব্যানার-পোস্টার ও দেওয়ালে চিকা দেখা যায়। মাদক বিরোধী সভা সমাবেশে মাদক নির্মূলে দৃঢ় কণ্ঠ উচ্চারিত হয়। সরকার মাদক বিরোধী কঠোর অবস্থান থাকার পরও মাদক থেকে বিরত রাখা যাচ্ছে না মাদকাসক্ত তরুণ সমাজদের। দিন দিন যেন এ সংখ্যা বেড়েই চলেছে। কিছুতেই রোধ করা যাচ্ছে না। সর্বনাশা মাদকের ছোবলে অনেক পরিবার আজ ধ্বংস হচ্ছে। সংবাদপত্রে প্রকাশিত সংবাদে জানা যায়, যৌন উত্তেজক উপকরণ ইয়াবাসহ বিভিন্ন নেশা জাতীয় দ্রব্যের বেচাকেনা ঢাকা-চট্টগ্রামসহ অভিজাত এলাকায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে আসক্ত হচ্ছে উঠতি বয়সের তরুণ-তরুণীরা। ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষার্থীদের একটি বিশাল অংশ ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকে আক্রান্ত। অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মতে এর পরিমাণ হতে পারে স্কুল ভেদে ৩০ থেকে ৭০ শতাংশ। বিপদগামী তরুণদের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট এগুলো বেচাকেনা করছে এবং গড়ে উঠেছে গোপন বাজার। অনেক শিক্ষিত যুবক ও ধনীর দুলাল এখন এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে জানা যায়। যুব সমাজের এ অর্ধ:পতনের দায় সমাজ এড়াতে পারে না। এ ক্ষেত্রেই অভিভাবকদের উদাসীনতা তো আছেই। পাশাপাশি সামাজিক অবস্থা ও এর জন্য দায়ী। পর্যাপ্ত বিনোদনের সুযোগ-সুবিধা না থাকায় দেশের যুব সমাজ বিপদগামী হচ্ছে। এক সময় পাড়া মহল্লায় স্কুল-কলেজের সামনে বিশাল খেলার মাঠ থাকলেও এখন তা দখল করে বিল্ডিং বানানো হচ্ছে। নগরীতে খোলা জায়গা, পার্ক ও পর্যাপ্ত বিনোদনের অভাব প্রচণ্ডভাবে অনুভব করছে আমাদের তরুণ সমাজ। চার দেওয়ালের মধ্যে টিভি, ফেইসবুক দেখে আর ভিডিও গেমস খেলে বড় হচ্ছে তারা। এতে তরুণদের শারীরিক মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিপদগামী তরুণেরা আমাদেরই সন্তান। এদের সুপথে ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব আমাদের। সর্বনাশা এ জগৎ থেকে তরুণ সমাজকে কিভাবে বের করে আনা যায় তা নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে। মাদক ব্যবসা বন্ধে সীমান্তে পথ ও অন্যান্য রুটে সতর্ক পাহারার পাশাপাশি মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর অ্যাকশন নিতে হবে। তবে আইন বা অভিযান পরিচালনা করে এ থেকে তরুণদের রক্ষা করা যাবে না। এর জন্য প্রয়োজন তরুণদের সুস্থ বিনোদনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করা এবং তাদের সৃষ্টিশীল ও গঠনমূলক কাজে ব্যস্ত রাখা। স্কুল, কলেজ, পাড়া মহল্লায় ক্রিকেট, ফুটবলসহ বিভিন্ন টুর্নামেন্টের আয়োজন করতে হবে। তরুণ সমাজকে সৃষ্টিশীল কাজে ব্যস্ত রাখার জন্য বিতর্ক ও সাধারণ জ্ঞান প্রতিযোগিতা, রক্তদান কর্মসূচি, ফুটবল, ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ও পাঠাগার কেন্দ্রিক কার্যক্রম বাড়াতে হবে। এসব আয়োজনে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষকতার দরকার। খেলাধুলা ও সুস্থ বিনোদনের পর্যাপ্ত সুযোগ তৈরি হলে তরুণরা খারাপ পথ থেকে ফিরে আসবে বলে মনে করি।
-এম.এ গফুর, বলুয়ার দীঘির দক্ষিণ-পশ্চিম পাড়, কোরবাণীগঞ্জ, চট্টগ্রাম।

x