মাদক ও জঙ্গি নিয়ন্ত্রণকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে

মতবিনিময়কালে সিএমপি কমিশনার

আজাদী প্রতিবেদন

বৃহস্পতিবার , ১৪ জুন, ২০১৮ at ৪:৫৮ পূর্বাহ্ণ
193

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) সদ্য যোগদানকৃত কমিশনার মো.মাহাবুবুর রহমান বলেছেন, বর্তমান সরকারের প্রায়োরেটি মাদক ও জঙ্গি নিয়ন্ত্রণ। সরকার যেভাবে নির্দেশনা দিয়েছে সেভাবে আমরা কাজ করতে চাই। মাদক ব্যবসায় কিংবা অপরাধী দমনের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা পুলিশের দায়িত্ব। তবে এটাও সত্য যে কতিপয় পুলিশ সদস্যের সাথে অপরাধীদের সখ্যতা আছে। এমন কাউকে পুলিশ বলে গণ্য করা হবে না। তাদের অপরাধী হিসেবে গণ্য করা হবে। অপরাধ করলে কেউ পুলিশ পরিচয়ে মাফ পাবে না। মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সখ্যতা আছে, প্রমাণ পেলে পুলিশ সদস্যদেরকে চট্টগ্রামে কাজ করতে দেয়া হবে না। গতকাল বুধবার নগরীর দামপাড়াস্থ পুলিশ লাইনে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। মাহাবুবর রহমান বলেন, সরকারি একটি পদক্ষেপে আমরা বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছি। সেজন্য সরকারি দল কিংবা ওপর মহল থেকে কোনো তদবির আমি গ্রহণ করব না।

নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের তুলনায় ভালো মন্তব্য করে তিনি বলেন, কোন সেনসেটিভ ঘটনা যাতে না ঘটে এবং ঘটে গেলে দ্রুত উদঘাটন করে আইনের আওতায় আনা আমার অন্যতম কাজ। সাধারণ মানুষকে হয়রানি, মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, পুলিশ হয়ে কেউ যদি মানুষকে হয়রানি করে তাহলে মাফ পাবে না। চট্টগ্রামে খুব বেশি চাঞ্চল্যকর মামলা নেই দাবি করে তিনি বলেন, ‘মিতু হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে আমি খবর নিয়েছি। এরসাথে সম্পৃক্ত বেশির ভাগ গ্রেপ্তার হয়েছে ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। আমরা মামলাটির চূড়ান্ত পর্যায়ে আছি। এটা নিয়ে আমরা বসব। স্কুলছাত্রী তাসফিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় ময়না তদন্ত প্রতিবেদন পেতে পুলিশ অপেক্ষায় আছে বলে জানান নতুন সিএমপি কমিশনার। নগরবাসীকে সেবা দিতে তিনি তাদের সহযোগিতা কামনা করেন।

সাম্প্রতিক সময়ে ‘সাংবাদিক’ পরিচয়ে চাঁদাবাজির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে হলে মূলধারার সাংবাদিকদের সংগঠনগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে। আপনাদের সংগঠন যদি বলে এরা সাংবাদিক নয়, তখন আমরা ব্যবস্থা নেব। এছাড়া রাস্তায় চলাচলরত সাংবাদিক কিংবা প্রেস স্টিকারযুক্ত অবৈধ যানবাহনগুলোকে আইনের আওতায় আনার কথাও বলেছেন সিএমপি কমিশনার। নগরীর যানজট নিরসনে রিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণের পদক্ষেপ নেবেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই শহরে রিকশা না চললে আমি সবচেয়ে বেশি খুশি হব, তবে এ সিদ্ধান্ত আমাদের আওতার বাইরে। এর সঙ্গে রাজনৈতিক, মানবিক ও জনগণের চাহিদার বিষয় জড়িত। তবে এটা নিয়ন্ত্রণ দরকার। প্রতীকী হিসেবে নগরীর কিছু রাস্তা রিকশামুক্ত করার চেষ্টা করব।’

এক প্রশ্নে সিএমপির নতুন কমিশনার বলেন, অপরাধ শুধু অপরাধীই করে না। অপরাধ নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে যারা থাকে তাদের মধ্যে কেউ কেউ এর সাথে থাকে। সেটা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। কিন্তু আমার কমিটমেন্ট হচ্ছে, যারা অপরাধীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখে, তাদের (অপরাধীদের) সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলে, আমি তাদের পুলিশ হিসেবে গণ্য করবো না। যেকোনও পর্যায়ের অপরাধই হোক, আমরা অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যকে ক্রিমিনাল হিসেবে দেখবো এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেবো।

সভায় মাহবুবুর রহমান বলেন, আমরা মাদক নিয়ন্ত্রণ ও জঙ্গিবাদ দমনে কাজ করবো। আমি জঙ্গিবাদ ও মাদককে অগ্রাধিকার দিয়ে এগুলো নির্মূলে কাজ করবো। পাশাপাশি নগরীর বিদ্যমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটিয়ে চট্টগ্রামকে একটি বাসযোগ্য নিরাপদ নগরীতে পরিণত করবো। তিনি বলেন, যদি মাদক সংশ্লিষ্ট কোন অপরাধের সঙ্গে পুলিশ সদস্য জড়িয়ে পড়েন, তাহলে তার ন্যূনতম শাস্তি হচ্ছে বরখাস্ত। কোন পুলিশ সদস্য মাদকের সঙ্গে জড়ালে প্রথমে তাকে ডিপার্টমেন্ট থেকে বরখাস্ত করা হবে। এরপর তার বিরুদ্ধে অন্যান্য প্রক্রিয়া অনুসরণ করে শাস্তি আরোপ করা হবে। তিনি আরও বলেন, আমার আমলে কোন পুলিশ সদস্য যদি মাদক ব্যবসার সঙ্গে সামান্যতমও জড়ায় এবং আমি এ ধরনের কোন খবর পাই, অবশ্যই আমি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবো। আমার আমলে অপরাধ করে কোন পুলিশ সদস্য ছাড় পাবে না। তদন্ত করে আমরা জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবো। এসময় মাদক ও জঙ্গি নিয়ন্ত্রণকে প্রাধান্য দিয়ে নগরীর আইনশৃঙ্খলা আরও উন্নত করার ঘোষণা দেন তিনি।

সিএমপি কমিশনার বলেন, ঈদে বাড়ি ফেরা মানুষের হয়রানি রোধে নগরীর দুটি বাসস্ট্যান্ড ও রেলস্টেশনে অস্থায়ী নিয়ন্ত্রণকক্ষ খোলা হয়েছে। তিনি বলেন, ঈদে বাড়ি ফেরা মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। ঈদকে আনন্দঘন করতে নগরীতে প্রায় চার হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হবে। আশা করছি, নগরবাসী নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন পরিবেশে ঈদ উদযাপন করতে পারবেন।

মাহাবুবর রহমান বলেন, আমি বদলিসূত্রে চট্টগ্রামে যোগদান করেছি। আপনাদের সকলের সহযোগিতা কামনা করছি। ঢাকার পরেই চট্টগ্রামের স্থান। এটার গুরশুত্ব কখনো কখনো ঢাকার চেয়েও বেশি। আমি মনে করি, এখানে সব সচেতন নাগরিকের বসবাস। আমরা এখানে জনগণের মন জয় করতে চাই। আমাদের উদ্দেশ্য, ভিশন ও মিশন আপনারা সবাই জানেন। আমরা এ শহরকে বাসযোগ্য করতে চাই। সুনাগরিকের জন্য যতটুকু ফ্যাসিলিটি দরকার পুলিশের পক্ষ থেকে সেটুকু কার্যকর করার চেষ্টা করতে চাই। আমরা বিশ্বাস করি, আপনাদের সহযোগিতা পেলে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ আগের মতো, কিছু ক্ষেত্রে আগের চেয়েও বেশি স্বাচ্ছ্যন্দভাবে নগরবাসী যাতায়াত এবং অন্যান্য সুবিধা গ্রহণ করতে পারে। সভায় অতিরিক্ত কমিশনার (প্রশাসন) মাসুদ উল হাসান, অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) কুসুম দেওয়ান, অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) আমেনা বেগম, উপকমিশনার এস এম মোস্তাইন হোসেন, মো.আব্দুল ওয়ারিশ খান, হারুন অর রশীদ হাজারী ও মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ, অতিরিক্ত উপ কমিশনার অলক বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন।

x