মাতামুহুরী তীরে সম্প্রীতির মিলনমেলা

চকরিয়ায় প্রতিমা বিসর্জন

ছোটন কান্তি নাথ, চকরিয়া

বুধবার , ৯ অক্টোবর, ২০১৯ at ১০:৪৫ পূর্বাহ্ণ
52

কক্সবাজারের চকরিয়ার চিরিঙ্গা মাতামুহুরী নদীর তীরে প্রতিবছরের মতো গতকাল মঙ্গলবার বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠানে ঢল নেমেছিল লাখো মানুষের। শিশু থেকে শুরু করে সববয়সের নারী-পুরুষের এই স্রোত নদীর তীরে একাকার হয়ে পড়ে। শুধু হিন্দু সম্প্রদায় নয়, মুসলিমসহ অন্যান্য সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষেরাও ভিড় করে মাতামুহুরীর তীরে। এতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মিলনমেলায় পরিণত হয়ে উঠে মাতামুহুরীর তীর। আর তাদের মাতিয়ে রাখতে দুপুর থেকেই আয়োজন করা হয় সঙ্গীতানুষ্ঠানের।
ফ্রেন্ডস ক্লাবের আয়োজনে বিকেলে মাতামুহুরী প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠানের আহবায়ক প্রণব দাশের সভাপতিত্বে ও সদস্যসচিব সুনিল নাথের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত বিজয়া দশমীর আলোচনা সভার উদ্বোধক ছিলেন চকরিয়া পৌরসভার মেয়র আলমগীর চৌধুরী। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি জাফর আলম। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফজলুল করিম সাঈদী, চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নূরুদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমান, জ্যেষ্ঠ সহকারি পুলিশ সুপার কাজী মো. মতিউল ইসলাম, থানার ওসি মো. বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) একেএম সফিকুল আলম চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান মকছুদুল হক ছুট্টু ও জেসমিন হক জেসি, জেলা আ.লীগ নেতা আমিনুর রশীদ দুলাল, উপজেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী, জেলা পরিষদ প্যানেল চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম লিটু, পৌরপ্যানেল চেয়ারম্যান বশিরুল আইয়ুব, পৌরসভা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক আতিক উদ্দিন চৌধুরী, মাতামুহুরী উপজেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক মহসিন বাবুল, কাউন্সিলর রেজাউল করিম, মুজিবুল হক, কাকারার চেয়ারম্যান শওকত ওসমান, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্যপরিষদ উপজেলার সভাপতি রতন বরণ দাশ, ডা. তেজেন্দ্র লাল দে, হারাধন দাশ, যুবকল্যাণ সমিতির সভাপতি ধনরঞ্জন দাশ, মিলন দাশ, সমীর দাশ, সাবেক কাউন্সিলর লক্ষ্মণ দাশ, নিখিল বসাক, সুধাংশু সুশীল, আশীষ বসাক, জাগো হিন্দু পরিষদ কক্সবাজার জেলার সভাপতি সাংবাদিক ছোটন কান্তি নাথ, যুবলীগ নেতা শহীদুল ইসলাম শহীদ, কাউছার উদ্দিন কছির, হাসানগীর হোছাইন, আজিজুল ইসলাম সোহেল, উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আকিত হোসেন সজিব, কুমার দত্ত, শ্রীদুল রঞ্জন দাশ, লিটন সুশীল, নন্দরাম দাশ, সুমন পাল, লিটন বসাক, মিন্টু আচার্য্য, উপজেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্যপরিষদের সাধারণ সম্পাদক মুকুল কান্তি দাশ, পৌরসভার সভাপতি নারায়ণ দাশ ও সাধারণ সম্পাদক সৌরভ দাশ সুনীপ, আবুধাবী শাখার সাধারণ সম্পাদক উজ্জ্বল দে শিমুল প্রমুখ।
মাতামুহুরী প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠানের সদস্যসচিব সুনিল নাথ বলেন, ‘নদীতীরে প্রতিমা বিসর্জন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করতে দুপুর থেকেই সব বয়সী নারী-পুরুষের ঢল নামে। হিন্দু সমপ্রদায় ছাড়াও মুসলিম সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষের উপস্থিতি ছিল বেশ লক্ষণীয়। এতে অনুষ্ঠানটি সামপ্রদায়িক সমপ্রীতির মিলনমেলায় পরিণত হয়।’
ইউএনও নূরুদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমান বলেন, ‘চকরিয়ার মানুষ সত্যিই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে অনন্য উচ্চতায় অবস্থান করছে। এখানে মুসলিম সম্প্রদায়ের উপস্থিতি আমাকে বেশ আকৃষ্ট করেছে। এই সম্প্রীতি বজায় রাখতে হবে সকলকে।’
চকরিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফজলুল করিম সাঈদী বলেন, ‘চকরিয়াবাসীর জন্য ঐতিহ্য হয়ে ওঠেছে মাতামুহুরী নদীর তীরে প্রতিমা বিসর্জন। প্রতিবছর যাতে এই অনুষ্ঠান চলে সেজন্য সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে।’
জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার কাজী মো. মতিউল ইসলাম ও থানার ওসি হাবিবুর রহমান জানান, পাঁচদিনব্যাপী শারদীয় দুর্গোৎসবে কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
একইভাবে মাতামুহুরীতে প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠানও সুন্দর ও সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। এজন্য পুলিশের পক্ষ থেকে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছিল।প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি জাফর আলম বলেন, ‘শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকলেই পুরো বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠে বিশ্ববাসীর কাছে। মাতামুহুরীর তীরে সম্প্রীতির এই মিলনমেলা তারই দৃষ্টান্ত। আগামীতেও এখানে সম্প্রীতির মিলনমেলা ধরে রাখতে যথাযথ সহায়তা দেওয়া হবে।’

x