মাঠ মাতাবে যারা

সুলতান মাহমুদ সেলিম

বৃহস্পতিবার , ১৪ জুন, ২০১৮ at ১২:৫৭ অপরাহ্ণ
32

মাঠ মাতাবে যারা, তারা আবার কারা। ভালো খেলবে যারা, মাঠ মাতাবে তারাএমনটাই তো হবে। যৌক্তিকভাবে এমনটা হওয়াই স্বাভাবিক। প্রত্যেক বিশ্বকাপের আগেই ফুটবলামোদীদের একটা নজর থাকে কারা ভালো খেলবে এবার। কারা মাঠে নিজেদের আলাদাভাবে তুলে ধরবে। দলীয় খেলা ফুটবল, আর দলীয় দৃষ্টিকোন এড়িয়ে ব্যক্তিগত পারফরমেন্সে কোন ফুটবলার তার ফুটবল শৈলী দিয়ে মাঠ মাতিয়ে রাখবে। দর্শকদের বিশেষ নজর থাকে সেদিকে। সব বিশ্বকাপের আগেই এমন কৌতুহল থাকে। রাশিয়া বিশ্বকাপকে সামনে রেখেও ফুটবল দর্শকদের মাঝে এমন কৌতুহল বিরাজ করছে। মোট ৩২টি দল খেলছে এবার রাশিয়া বিশ্বকাপে। ২৩ কিংবা ২৪ জনের স্কোয়াড ধরে নিলেও এ বিশ্বকাপে সাতশোরও অধিক ফুটবলার অংশ নিচ্ছেন। মানতে হবে প্রত্যেকটা দেশ খুব যাচাই বাছাই করেই তাদের দেশের সেরা ফুটবলারদের নিয়ে এসেছে এ বিশ্ব আসরে। এও মেনে নিতেহ হবে প্রতিটা খেলোয়াড়ই বিশ্বমানের পারফরমেন্সের অধিকারী। আবার এদের মাঝ থেকেই সেরা ১১ জন নামবেন ফুটবলের ময়দানী যুদ্ধে দেশের প্রতিনিধি হয়ে। মাঠে নামারআগেই আমরা স্রেফ অনুমান নির্ভর কিছু খেলোয়াড়ের সম্ভাবনা নিয়ে আলোকপাত করছি। তবে এটা বলে রাখি এরাই যে শেষ পর্যন্ত মাঠ মাতাবেন তেমন না হতেও পারে। মাঠের লড়াইয়ে অনেকে পিছিয়ে পড়তে পারেন। নতুন কোন খেলোয়াড়ের নৈপুন্যের কাছে হার মানতে পারেন তারা। উল্লেখিত খেলোয়াড়দের বাইরেও নতুন তারকার উত্থান দেখতে পার ফুটবল বিশ্ব। এটা অস্বাভাবিক বা অপ্রত্যাশিত কিছু নয়। প্রত্যেক বিশ্বকাপেই নতুন নতুন তারকা সৃষ্টি হয়েছে। যাদের সন্মন্ধে আগে কেউ অনুমান করতে পারেননি। তো আসুন দেখি মাঠ মাতাতে পারেন এমন কিছু ফুটবলারকে।

অমরত্বের জন্য মেসির চাই বিশ্বকাপ

লিওনেল মেসি হলেন বিশ্ব সেরা এমন একজন ফুটবলার যার ক্লাব পর্যায়ে আছে সাফল্য গাঁথা। কিন্তু দেশের হয়ে অর্থাৎ জাতীয় দলের হয়ে তাঁর সাফল্য ক্ষীন। সমর্থকদের কাছে এটাই বড়ো বেশি পোড়ায়। এই অন্ত্বরজ্বালাটা মেসিরও আছে। কারণ পৃথিবীর কিংবদন্তী ফুটবলারদের অনেকেই দেশকে বিশ্বকাপ এনে দিয়েছেন। ভক্তরা চান মেসিও এমনটা করুক। যাতে বিশ্ব ফুটবলে তার অপূরণীয় কিছু না থাকে। মেসিও বোঝেন তার দেশের এবং তাঁর ভক্তদের এই ক্ষুধা। তার চেষ্টাও আছে সে কারণে। গতবার ব্রাজিল বিশ্বকাপে একেবারে কাছে গিয়েও ফিরে আসতে হয়েছে তাদের। এবারও তিনি আশাবাদী। তবে তিনি বিশ্বকাপ একাই এনে দিতে পারবেন তেমনটা বলছেন না। আর্জেন্টিনা অধিনায়ক মনে করেন, বিশ্বকাপে সেরা চারে পৌঁছলেই সফল বলা যাবে তার দলকে। তবে এটা বলেই হতাশ করতে চান না সমর্থকদের। মেসি বলেন ফাইনালে পৌঁছে জিততে না পারাটা একটা চাপ। আর ফাইনালে হারতে চাই না। ক্লাব ফুটবলে এমন কোন শিরোপা নেই যা জিতেনি মেসি। কিন্তু জাতীয় দলের হয়ে এখনও কোনো বড় শিরোপা জয় করতে পারেননি।

মেসি নিজেও খুব করে চাইছেন, অন্তত তার জীবনে এই অপূর্ণতাটা ঘুচে যাক। তিনি নিজেই বার বার বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে বলছেন, ‘ফুটবলের দায় শোধ করার এখনই সময়, আমার হাতে একটি ট্রফি তুলে দিয়ে।কিংবা এমনও বলছেন, ‘ইশ্বর চান, আমার হাতে বিশ্বকাপ ট্রফিটা তুলে দিতে।বিশ্বকাপ ট্রফিটা জেতার জন্য এতটাই উতালা হয়ে উঠেছেন তিনি। এই একটিমাত্র ট্রফি মেসিকে এভারেস্টের চূড়া থেকে আসমানে তুলে দেবে, সন্দেহ নেই। এমন এক উচ্চতায় তিনি চলে যাবেন, যেটা দেখে হয়তো পেলেম্যারাডোনারও ঈর্ষা হতে পারে। যদিও আকারেইঙিতে ইতোমধ্যে সাবেক এই দুই বিশ্বসেরা জানিয়ে দিয়েছেন, তাদের ঈর্ষার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন মেসি।রাশিয়া বিশ্বকাপের বাছাই পর্বে দলের উদ্ধারকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। যে কারণে সমালোচকরা মেসির জন্য রাশিয়া বিশ্বকাপটাকে বোনাস; হিসেবে আখ্যায়িত করেও থাকেন। একটি শিরোপা জিততে না পারার আক্ষেপ মেসির রয়ে গেছে। রাশিয়া বিশ্বকাপে না হলে রয়ে যাবে চিরদিন।

বিশ্বকাপটা জেতা হবে না রোনালদোর!

ক্লাব পর্যায়েই নয় শুধু, জাতীয় দলের জার্সি গায়েও সমানভাবে সাফল্যের অংশীদার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। নিজের দেশকে প্রথম কোনো বড় শিরোপা, ২০১৬ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ উপহার দিয়েছেন তিনি। ২০০৪ সালের ইউরোর ফাইনালে উঠে গিয়েছিল লুই ফিগোডেকোদের পর্তুগাল। সেবারও দলে ছিলেন রোনালদো।

নিজের শো কেসে স্থান দিয়েছেন ২৫টি ট্রফির। এর মধ্যে ৫টি লিগ শিরোপা, চারটি উয়েফো চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা, একটি ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপও রয়েছে। মেসির চেয়েও এগিয়ে দুটি ক্ষেত্রে রোনালদো। সেটা হচ্ছে ইউরোপের সেরা ৫টি লিগের মধ্যে সর্বোচ্চ গোলদাতা তিনি (৩৯৩টি)। অন্যটি, চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সর্বোচ্চ গোলাদাতা তিনি (১২০টি)। ক্লাব এবং দেশের হয়ে ৬৫০টি গোলের মালিক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। কিন্তু একটি বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে ওঠেনি বিশ্বসেরা এই তারকার। ওঠার সম্ভাবনা যে তৈরি হবে তাও নয়। ইউরো শিরোপাটা হয়তো তিনি জিততে পেরেছেন; কিন্তু বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের স্বপ্ন রোনালদো দেখেন না। পর্তুগালের দলটি শিরোপা জয় নয়, সর্বোচ্চ কতদুর যাওয়া যায় সে চিন্তায় ব্যস্ত। বিশ্বকাপে চমক দেখিয়ে বড় কিছু করে ফেলতে পারলে সেটা পরের কথা; কিন্তু রোনালদোর চিরকালের আক্ষেপ থেকে যাবে, একটি বিশ্বকাপ শিরোপা জিততে না পারার।

পর্তুগাল জাতীয় দলের হয়েও রোনালদো নিজেকে প্রমাণ করেছেন অনেকবার। ২০০৪ ইউরোয় নিজের দেশকে তুলে ফেলেন ফাইনালে। ২০০৬ বিশ্বকাপে তুলেছিলেন সেমিফাইনালে। তবে রোনালদোর সবচেয়ে সেরা সাফল্য, দেশকে প্রথমবারের মত ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ উপহার দেয়া।

ব্রাজিলকে বিশ্বকাপ দিতে চান নেইমার

গত বিশ্বকাপের কথা স্মরন করতে চান না ব্রাজিল সুপার স্টার নেইমার। তবে এবার রাশিয়া বিশ্বকাপ নিয়ে কিছুটা হলেও শংকায় আছেন তিনি। কারন নিজের ফিটনেস ফিরে পাওয়ার লড়াই আর ব্রাজিলকে ঘিরে প্রবল দর্শক চাপ। তবে এই চাপ এবং ভয়কে জয় করতে চান তিনি। গত ফেব্রুয়ারিতে ফরাসি ফুটবল লিগ লিগ ওয়ানে মার্শেইয়ের বিপক্ষে ম্যাচে ডান পায়ের পাতার মেটাটারসাল হাড় ভাঙার পর থেকেই খেলার বাইরে নেইমার। শংকা দেখা দিয়েছিল বিশ্বকাপ খেলতে পারবেন কিনা সেটা নিয়ে। তবে এসব পেছনে ফেলে নেইমারকে নিয়েই রাশিয়া বিশ্বকাপের ২৩ সদস্যের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেন ব্রাজিল কোচ তিতে। সবাই জানেন মাঠে নেইমার কেমন দুর্দান্ত। কিন্তু মানসিকভাবে তিনি এখন কোন পর্যায়ে। নেইমার বলেন, এটা একটা কঠিন সময়। শুধু তাই নয় আমার মুখোমুখি হওয়া সবচেয়ে কঠিন সময়গুলোর একটির সামনে এখন আমি দাঁড়িয়ে। নেইমার বলেন আমি জানি সবাই স্নায়ুচাপে আছে।

নেইমারের ওপর নির্ভর করেই ২০১২ অলিম্পিকে প্রথমবারের মত স্বর্ণ জয়ের স্বপ্ন দেখে ব্রাজিল। কিন্তু দলকে ফাইনালে তুলেও তিনি ব্যর্থ হন। মেঙিকোর কাছে নেইমাররা হেরেছিল ২১ গোলের ব্যবধানে। তবে চীনের বিপক্ষে ৮০ গোলে জয়ের ম্যাচে ব্রাজিলের হয়ে প্রথম হ্যাটট্রিক করার গৌরব দেখান তিনি।

লুই ফেলিপে স্কলারির অধীনে ২০১৪ সালে বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু করেন নেইমার। কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যনন্তসবই ঠিক ছিল; কিন্তু কোয়ার্টারে কলম্বিয়ান ডিফেন্ডার হুয়ান ক্যামিলো জুনিগার আচমকা এক ট্যাকলের কারণে পাঁজরের হাঁড় ভেঙে চলে যেতে হয় সোজা হাসপাতালে। যে কারণে, সেমিফাইনালে ব্রাজিল ৭১ গোলে পরাজয় বরণ করে জার্মানির কাছে। ২০১৪ বিশ্বকাপের পর ২০১৫ কোপা আমেরিকায় ভালো কিছু করতে পারেননি। তবে ২০১৬ রিও অলিম্পিকে নেইমারের নেতৃত্বে প্রথমবারেরমত অলিম্পিক স্বর্ণ পদক জয় করে ব্রাজিল। ২০১৮ বিশ্বকাপে নেইমাররা নিজের দেশকে সবার আগেই বিশ্বকাপে তুলে এনেছিলেন। এখনও পর্যন্ত নিজের দেশের হয়ে ৮৩ ম্যাচ খেলে ৫৩ গোল করেছেন নেইমার। এখন অপেক্ষায় রাশিয়া থেকে বিশ্বকাপ জয় করে নেয়ার।

থমাস মুলার

জার্মানি এমনিতেই তারকায় ঠাসা দল। তবে সবার মাঝে আলাদা একটি জায়গা তৈরি করে নিয়েছেন থমাস মুলার। নিজেকে এমন এক জায়গায় নিয়ে গেছেন তিনি, যেখানে তার আগে রয়েছেন কেবল মাত্র দু’জন ফুটবলার। একজন তারই স্বদেশি মিরোস্লাভ ক্লোসা এবং অন্যজন পেরুর ফুটবলার তিওফিলো কিউবিলাস। বিশ্বকাপের ইতিহাসে কেবলমাত্র তিনজন ফুটবলার টানা দুই বিশ্বকাপে ৫টি করে গোল করেছেন। ক্লোসা, কিউবিলাসের পর সর্বশেষ এই তালিকায় ২০১৪ সালেই নাম লিখে নিয়েছিলেন থামস মুলার। এবার তার সামনে দারুণ একটি রেকর্ড গড়ার সুযোগ। স্বদেশি ক্লোসা এবং কিউবিলাসকে ছাড়িয়ে গিয়ে টানা তিন বিশ্বকাপে ৫টি করে গোল করতে পারলেই ফুটবলের ইতিহাসে নতুন একটি অধ্যায় যোগ করে ফেলবেন তিনি। যেখানে থাকবে শুধুমাত্র মুলারেরই নাম।

বিশ্বকাপ জেতার পর টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সেরার (সিলভার বল) পুরস্কার ওঠে মুলারের হাতে। হলেন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতাও। ২০১২১৩ মৌসুমে বায়ার্ন মিউনিখ যে ঐতিহাসিক ট্রেবল জিতেছিল, তার অন্যতম রূপকার ছিলেন থমাস মুলার। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, বুন্দেসলিগা এবং লিগ কাপ। বায়ার্নের হয়ে তার নিজের ক্যারিয়ারে শুধুমাত্র ২০১১১২ মৌসুমের লিগটা জিততে পারেননি। এছাড়া মোট ৭টি এবং টানা ৬টি লিগ শিরোপা জিতেছেন তিনি। জিতেছেন একটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা। এক ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ ছাড়া আর কোনো ট্রফি নেই, যেটা জিততে পারেননি মুলার।

মুলার এমন ধরনের ফুটবলার, যে তাকে কোচ চাইলে যে কোনো পজিশনেই খেলাতে পারেন। এমনিতেই ফরোয়ার্ডেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন তিনি। সঙ্গে মিডফিল্ড, অ্যাটাকিং মিডফিল্ড, সেকেন্ড স্ট্রাইকার, সেন্টার ফরোয়ার্ড কিংবা উইংয়েও নিজেকে খাপ খাইয়ে নিতে পারেন তিনি। এ কারণেই তাকে বলা হয় বহুমাত্রিক ফুটবলার।

মিশরের নতুন রাজা সালাহ

ইংলিশ ক্লাব লিভারপুলের হয়ে দুর্দান্ত একটি মৌসুম কাটানোর পর মোহাম্মদ সালাহকে কেউ বলছেন নতুন ফারাও, কেউ বলছেন নতুন রাজা। আসলেই রাজা তিনি মিশরের। মিশরে এখন সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বে পরিণত হওয়া মানুষটির নাম মোহাম্মদ সালাহ। আর রাশিয়া বিশ্বকাপে সবার নজর যার ওপর বেশি থাকবে, তিনি নিঃসন্দেহে মোহাম্মদ সালাহ। হয়তো তার দল মিশর বলে তারা খুব বেশি দুরে যেতে পারবেন না। দ্বিতীয় রাউন্ড, কিংবা কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত মিশরকে টেনে নিয়ে যাওয়ার ক্ষমতাও রয়েছে মোহাম্মদ সালাহর। দলীয় পারফরম্যান্স যাই হোক চ্যাম্পিয়ণ্‌সলিগের ফাইনালে পাওয়া চোট কাটিয়ে উঠতে পারলে রাশিয়া বিশ্বকাপ যে মাতিয়ে তুলবেন সালাহ, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। খুবই সাদামাট জীবনের অধিকারী মোহাম্মদ সালাহ এবং খুবই ধর্মভীরু। লিভারপুলের হয়ে গোল করলেই সঙ্গে সঙ্গে সিজদায় লুটিয়ে পড়েন তিনি। বিশ্বকাপেও তিনি এমনটি করতে পারবেন।

বাসেলের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স নজর কাড়ে চেলসি কর্মকর্তাদের। এফসি বাসেল থেকে সালাহকে কিনে নেয় প্রিমিয়ার লিগের জায়ান্টরা। কিন্তু স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে গিয়ে সালাহকে বসে থাকতে হয় সাইড লাইনে। দুই মৌসুমে খেলেন মাত্র ১৬ ম্যাচ। গোল করেন ৬টি। উপেক্ষার শিকার সালাহ লোনে খেলতে যান ইতালিতে। ২০১৫ সালে প্রথমে যোগ দেন ফিওরেন্টিনায়। এরপর চলে যান এএস রোমায়। শেষে রোমাই সালাহকে কিনে নেয় ১৫ মিলিয়ন ইউরোয়। এএস রোমার হয়ে দেখাতে শুরু করেন দুর্দান্ত পারফরম্যান্স। টানা গোলের রেকর্ডে রোমা ক্লাব ইতিহাসে সর্বো”চ পয়েন্ট নিয়ে ২০১৬১৭ মৌসুমে হয় সিরিএ তে রানারআপ হলো। রোমার পারফরম্যান্স সালাহর দিকে আবারও টেনে নেয় ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগকে। এবার তাকে ৩৬.৯ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে কিনে নেয় লিভারপুল। লিভারপুলের ইতিহাসে পরিণত হন সবচেয়ে দামি ফুটবলারে। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে নিজের দ্বিতীয় স্পেলে সালাহ নিজেকে উইঙ্গার থেকে পরিণত করেন জেনুইন ফরোয়ার্ডে। অভিষেক মৌসুমেই ক্লাবের হয়ে গোলের রেকর্ড ভাঙেন তিনি। প্রিমিয়ার লিগের প্লেয়ার অব দ্য মান্থ পুরস্কার জেতেন তিনবার।

বিদায় বেলায় আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা

ক্যারিয়ারে এমন কোনো শিরোপা বাকি নেই যা তিনি হাতে তুলে ধরেননি। ১টি বিশ্বকাপ, ২টি ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের সঙ্গে ক্লাব ফুটবলে লিগ শিরোপা, উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, ক্লাব বিশ্বকাপ, কোপা ডেল রে, উয়েফা সুপার কাপসবই উঠেছে ইনিয়েস্তার হাতে। বিশ্বকাপে যিনি একটি দেশকে টেনে তুলেছেন ফাইনালে এবং ফাইনালেও তার গোলে একটি দেশ জিতেছে বিশ্বকাপ শিরোপা। ক্যারিয়ারের একেবারে শেষ পর্যায়ে চলে এসেছেন ইনিয়েস্তা। অথচ এখনও স্পেন দলের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে নিজেকে টিকিয়ে রেখেছেন ইনিয়েস্তা। রাশিয়া বিশ্বকাপেও অভিজ্ঞ এই মিডফিল্ডারের ওপর চোখ বন্ধ করে আস্থা রাখতে পারেন কোচ হুলেন লোপেতেগুই। মাঝ মাঠে পায়ের কারুকাজে মুগ্ধ করেন যেমন, তেমনি নিজ দলের খেলা পুরোটাই বলতে গেলে পরিচালনা হয় তাকে ঘিরে। অ্যাটাকিং মিডফিল্ডে এখনও আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার তুলনা সম্ভবত খুঁজে পাওয়া যাবে না আর। স্পেনকে যে রাশিয়া বিশ্বকাপে অন্যতম ফেবারিট হিসেবে ধরা হচ্ছে, তার অন্যতম কারণও এই অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার এবং তাকে ঘিরে থাকা একঝাঁক অভিজ্ঞ ও তরুণ ফুটবলারের সমাবেশ।

সুয়ারেসের আকাশছোঁয়া প্রত্যাশা

রাশিয়ার ফুটবল মহাযজ্ঞে দলীয় পারফরম্যান্সের দিকে তো বটেই, ফুটবলপ্রেমীরা আলাদা নজর রাখবেন নির্দিষ্ট কিছু খেলোয়াড়ের ওপরও। যারা প্রতিপক্ষের মনে ভয় ছড়িয়ে পূরণ করবেন নিজ দলের প্রত্যাশা। তেমনই একজন উরুগুয়ের ফরোয়ার্ড লুইস সুয়ারেস। ভালো, মন্দ ও কুৎসিত সব রূপেরই দেখা পাওয়া যাবে সুয়ারেসকে ২০১০ ও ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে। চোখ ধাঁধানো গোলে যেমন ফুটবলপ্রেমীদের প্রশংসা কুড়িয়েছেন, তেমনি বিতর্কিত ঘটনায় শুনেছেন দুয়ো। তবে এখন অনেক বেশি পরিণত সুয়ারেস। বার্সেলোনায় বিশ্বসেরা সব খেলোয়াড়ের সঙ্গে ড্রেসিং রূম ভাগাভাগি করায় মানসিকভাবেও আগের চেয়ে অনেক ভালো অবস্থানে। বিশেষ করে ২০১৪ বিশ্বকাপের কামড়কান্ডের পর নিজেকে ভেঙে নতুন করে গড়েছেন উরুগুইয়ান ফরোয়ার্ড। ন্যু ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার পর সুয়ারেস এখন অনেক বেশি পরিণত। কঠিন জায়গা থেকে বেরিয়ে ফিরে আসেন আগের ছন্দে। নিষেধাজ্ঞার কারণে শুরুতে উরুগুয়ের হয়ে বিশ্বকাপ বাছাই খেলতে না পারলেও পরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন লাতিন দেশটির সরাসরি রাশিয়ার টিকিট নিশ্চিতের পথে। বাছাইয়ের ১৩ ম্যাচে ৫বার লক্ষ্যভেদ করেছেন বার্সেলোনা তারকা।

গ্রিজম্যানকে ঘিরে স্বপ্ন ফ্রান্সের

ফ্রান্সকে আরও একটি বিশ্বকাপ শিরোপা কিভাবে উপহার দেয়া যায় সে পরিকল্পনা এবং প্রস্তুতিতেই ব্যস্ত গ্রিজম্যান। দিদিয়ের দেশমের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি স্কোয়াডেও ইতিমধ্যে যোগ দিয়েছেন গ্রিজম্যান। রাশিয়া বিশ্বকাপে এবারের সেরা যে কয়টি দেশ ফেবারিট, তার মধ্যে অন্যতম ফ্রান্স।

ফ্রান্সের বয়সভিত্তিক দলগুলোর হয়ে একের পর এক দারুণ পারফরম্যান্স সত্বেও ২০১৪ সালের আগে জাতীয় দলে সুযোগ পাননি তিনি। শেষ পর্যন্ত অনুর্ধ্ব১৯, অনূর্ধ্ব২০, অনূর্ধ্ব২১ দলে খেলার পর প্রবেশ করেন জাতীয় দলে। ২০১৪ বিশ্বকাপের আগে প্রথম দিদিয়ের দেশম নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে প্রথম ডেকে নেন গ্রিজম্যানকে। এরপর ডাক পেলেন বিশ্বকাপের দলেও। ফ্রাঙ্ক রিবেরির ইনজুরির কারণে বাম উইংয়ে শুরু থেকেই জায়গা পেয়ে যান। গ্রিজম্যানের কৃতিত্বেই বলতে গেলে ফরাসিরা খেলে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল। যেখানে গিয়ে তারা হেরে যায় জার্মানির কাছে। এরপর থেকে নিয়মিত ইউরো এবং বিশ্বকাপ বাছাই পর্বেও খেলতে শুরু করেন গ্রিজম্যান। গ্রিজম্যানের কল্যাণেই ২০১৬ ইউরোর ফাইনালে উঠে আসে ফরাসিরা। এবার তার কল্যানে বিশ্বকাপে ফ্রান্স কি করে সেটাই দেখার বিষয়।

x