মাঠ গরমের কর্মসূচি দুই দলের

আসন্ন সংসদ নির্বাচন

বিশেষ প্রতিনিধি

রবিবার , ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ at ১:২৩ অপরাহ্ণ
194

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে রাজনীতিক মহলে ততই উত্তাপ বাড়ছে। ইতোমধ্যে বড় বড় দলগুলো নেমে পড়েছে মাঠে। এর মধ্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দেশের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে ছুটে চলছে। কোথাও ট্রেন যোগে, কোথাও সড়ক পথে আবার কোথায় যাচ্ছে নদী পথে। স্পটে স্পটে করছে নির্বাচনী পথসভাজনসভা। পিছিয়ে নেই বিএনপিও। তারাও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করার চেষ্টা করছে। তবে আওয়ামী লীগের মত তারা ব্যাপকভাবে সভাসমাবেশ করার সুযোগ পাচ্ছে না অভিযোগ তুলেছে। এছাড়া বদরুদ্দোজা ও ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় ঐক্যও বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামছে।

তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে সৃষ্ট বিভেদ মিটিয়ে ঐক্যবদ্ধ করতে এবং নির্বাচনকে সামনে রেখে তাদের উজ্জীবিত করতে গত ৮ সেপ্টেম্বর থেকে কর্মসূচি গ্রহণ করেছে আওয়ামী লীগ। ঐদিন ঢাকা থেকে উত্তরাঞ্চলের উদ্দেশে ট্রেন যাত্রা শুরু করেন কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীরা। এরপর গতকাল চট্টগ্রামকক্সবাজারের উদ্দেশে সড়ক পথে নির্বাচনী রোডমার্চ করে দলটি। পথে নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, কুমিল্লা ও ফেনীতে পথসভা ও জনসভায় বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় নেতারা। সভাসমাবেশ ঘিরে ঢল নামে নেতাকর্মীদের। পরে মীরসরাই, সীতাকুণ্ড হয়ে নেতারা প্রবেশ করেন চট্টগ্রামে। আজ সকালে তারা সার্কিট হাউজ থেকে যাত্রা শুরু করবেন দক্ষিণ জেলা ও কক্সবাজারের উদ্দেশে। এসময় তারা বিভিন্ন স্থানে পথসভার পাশাপাশি জনসভায়ও বক্তব্য রাখবেন। ১৩ পৃষ্ঠার ৭ম কলাম

কেন্দ্রীয় নেতাদের চট্টগ্রাম সফরকে ঘিরে ইতোমধ্যে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি বিভেদ ভুলে বিভিন্ন ইউনিটের নেতারাও ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন।

এ বিষয়ে নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও চসিক মেয়র আজম নাছির উদ্দীন বলেন, নির্বাচনের আগ মুহূর্তে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে জেলাসহ বিভাগীয় এই সফরে সংগঠন যেমন প্রাণ ফিরে পাবে তেমনি নেতাকর্মীরাও অনেক বেশি উজ্জীবিত হবেন। সড়ক পথে দলের নির্বাচনী এই যাত্রায় নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহউদ্দীপনা বিরাজ করছে। তারা নির্বাচনমুখী হচ্ছেন। এই সফর দলের নেতাকর্মীদেরকে একটা বড় বার্তা দিয়ে যাবে নির্বাচনের আগে সকল বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য।

এদিকে আওয়ামী লীগের মত কেন্দ্রীয় কোনো প্রোগ্রাম না থাকলেও বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে বিএনপি নেতারা তৃণমূল নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করার চেষ্টা করছেন। তবে দলটি নির্বাচন কেন্দ্রিক বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সাথে মাঠে নামার উপর জোর দিচ্ছে। গতকাল বিকালে নাসিমন ভবনস্থ দলীয় কার্যালয় মাঠে সাবেক হুইপ ও চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের শোক সভায় এমনটাই ইঙ্গিত দিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এসময় তিনি ‘নিরাপদ বাংলাদেশ’ আন্দোলন শুরু করারও ঘোষণা দেন।

জাতির ক্রান্তিলগ্নে যেসব রাজনৈতিক দল ও নেতা পাশে দাঁড়াবে না তাদেরকে জবাবদিহি করতে হবে উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে গেছে। তারা তাদের প্রত্যাশা পূরণে রাজনীতিবিদের দিকে তাকিয়ে আছে। যেসব রাজনৈতিক দল বা নেতা আজকের ক্রান্তিলগ্নে জাতির পাশে দাঁড়াবে না, স্বৈরাচারীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিবে নাতারা আগামী দিনে জাতির কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হবেন। তারা আগামী দিনে কলংকিত হবেন। দেশের মানুষ প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দল ও রাজনৈতিক নেতার কর্মকাণ্ড নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। যারা জাতির পাশে দাঁড়াবে না তাদেরকে জবাব দিতে হবে।

জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া সম্পর্কে আমীর খসরু বলেন, যারা গণতন্ত্র বিশ্বাস করে, যারা মানবাধিকার বিশ্বাস করে, যারা আইনের শাসন বিশ্বাস করে, যারা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বিশ্বাস করে এবং জনগণের নিরাপত্তা বিশ্বাস করে তারা এক জায়গায় একত্রিত হয়েছেন। তার বিপরীতে, সমস্ত জাতির বিপরীতে একটি স্বৈরাচার ও রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস অবস্থান নিয়েছে। এর থেকে মুক্তি পেতে শীঘ্রই ‘নিরাপদ বাংলাদেশ’ গড়ার আন্দোলন শুরু হবে বলে ঘোষণা দেন আমীর খসরু।

নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যদিও আগামী নির্বাচন কার অধীনে সে বিষয়ে বড় বড় রাজনীতিক দলগুলোর মধ্যে এখনো মতৈক্য হয়নি তবুও তারা নিজ নিজ অবস্থান থেকে তৃণমূল নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করার চেষ্টা করছে। ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী রোডমার্চ ঘিরে তাদের নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপিও নির্বাচনকালীন সরকার কেন্দ্রিক তাদের রূপরেখা ও দাবিদাওয়া নিয়ে মাঠে নামছে। সবমিলিয়ে এ যেন দুই দলেরই মাঠ গরমের কর্মসূচি। তবে এখন দেখার বিষয়, কে কতটুকু সফল হয়।

x