মাটিরাঙায় মৌ চাষে সাফল্য

সমির মল্লিক, খাগড়াছড়ি

রবিবার , ১১ নভেম্বর, ২০১৮ at ৭:১১ পূর্বাহ্ণ
85

খাগড়াছড়ির মাটিরাঙায় সাফল্য পেয়েছে মৌ-চাষীরা । স্থানীয়রা কৃষি বা অন্য পেশার পাশাপাশি মৌ চাষ করে বাড়তি আয় করেছে । পুরো উপজেলা জুড়ে মৌ চাষে আগ্রহীদের সংখ্যা দিনদিন বাড়ছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহ আলমের উদ্যোগ ও পরিকল্পনায় মাটিরাঙায় মৌ চাষ শুরু হয়েছে। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে মৌ চাষে দারুণ সাফল্য পেয়েছে। বর্তমানে পুরো উপজেলায় প্রায় ৩০ জন চাষী মৌ বক্সে মধু উৎপাদন করছে।
পাহাড়ের নানা রকমের বুনোফুল ও ফলদ গাছের মধু সংগ্রহ করে মৌমাছিরা। পাহাড়ের চারপাশে প্রচুর ফুলের কারণে মৌমাছিরা সহজেই মধু সংগ্রহ করতে পারে। তবে মৌ বক্সে মধু চাষের শুরুটা বেশ কঠিন ছিল।
মাটিরাঙায় কৃষি কর্মকর্তা শাহ আলম জানান, মৌ চাষ উপজেলাজুড়ে বেশ জনপ্রিয়। তবে এর শুরুটা বেশ কঠিন ছিল। রানী মৌমাছির সংকট,মৌ বক্সেও সংকট এবং বক্সে মধু উৎপাদনের জটিলতা ছিল। পরে স্থানীয় মৌ চাষী মাহবুবুর রহমান শরীফের সহযোগিতায় শুরু হয় প্রশিক্ষণ। মাঠ কর্মীদের মাধ্যমে স্থানীয় তরুণদের মধ্য থেকে মৌ চাষীদের বাছাই করা হয়।
প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণদের মৌ চাষ সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয় এবং প্রশিক্ষণ পাওয়া মৌ চাষীদের মাঝে মৌ বক্স বিতরণ করা হয়। এরপর থেকে বাড়তে থাকে মধু উৎপাদনের পরিধি । বর্তমানে প্রায় ৩০জন চাষী মধু উৎপাদন করছে । ’
মৌ চাষী মাহবুবুর রহমান শরীফ জানান, ২০০৬ সালে বিসিক থেকে মধু চাষের উপর প্রশিক্ষণ নিই। জেলার অন্য উপজেলা মধু চাষে সাফল্য আসলেও মাটিরাঙা পিছিয়ে ছিল। নিজ উদ্যোগে বিনামূল্যে আগ্রহী কয়েকজনকে বক্স বিতরণ করি। কিন্তু আর্থিক অসঙ্গতি, বিপণনের সমস্যার কারণে প্রশিক্ষণ নিয়েও মধু চাষের স্বপ্ন থমকে যায়। পরবর্তীতে আমার মৌ চাষ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। তবে ২০১৭ সালে কৃষি কর্মকর্তা’র অনুপ্রেরণায় আবার মৌ চাষ শুরু করি।
জঙ্গলে জঙ্গলে ঘুরে রাণী মৌমাছি সংগ্রহ করি। মৌ বঙ তৈরি করি। শুরু হয় পুনরায় মধু উৎপাদন। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের সহযোগিতায় মৌ চাষের উপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। তিনি আরো জানান, মাটিরাঙ্গা সদর ছাড়াও শান্তিপুর,তাইন্দং, বেলছড়ি, আর্দশপাড়া বিভিন্ন এলাকায় মুধ উৎপাদন করছে প্রশিক্ষিতরা। বর্তমানে প্রায় ৩০ জন মৌ চাষে সম্পৃক্ত।
সফল মৌ চাষী মাহবুবুর রহমান শরীফ জানান, বর্তমানে প্রায় ২০টি বঙে মধু উৎপাদন করছি। এতে ভালোই লাভ হচ্ছে। মধুর চাহিদা বেশী হওয়ার কারণে বিপণনে কোন ঝামেলা পোহাতে হয় না। প্রতি কেজি খাঁটি মধু বিক্রি হয় প্রায় ১২শ টাকায়। প্রতিটি বঙ থেকে বছরে ৫-৭ কেজি মধু পাওয়া যায়। মৌ চাষীদের মধু বিপণন করার জন্য গড়ে তোলা হয়েছে ‘জাগরণ মৌ চাষ কল্যাণ সমিতি। মৌ চাষীদের উৎপাদিত খাঁটি মধু সমিতির মাধ্যমে বিক্রি করা হয়।
মাটিরাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহ আলম জানান, কৃষকদের সাথে নিয়ে বন থেকে রাণী মৌমাছি সংগ্রহ করি। এরপর মৌ চাষীদের বিনামূল্যে মৌ বঙসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম বিতরণ করি। পাহাড়ে বুনোফুল,লজ্বাবতী,আম,লিচু,পেয়ারা, আমলকি,আমড়াসহ বিভিন্ন ফলদ গাছে সারা বছরই কোন না কোন ফুল থাকে । পাহাড়ে ফুলের মধু বেশ সহজলভ্য । তিনি আরো জানান, বর্তমানে প্রতি বছর মাটিরাঙ্গায় ৭৫০ কেজি মধু উৎপাদিত হয়। স্থানীয় বাজারে উৎপাদিত মধু বিক্রি হয়।

x