মাছের খাবারের নামে শূকরের বর্জ্যযুক্ত পণ্য আমদানি

৩টি চালান জব্দ

আজাদী প্রতিবেদন

বৃহস্পতিবার , ২৫ জুলাই, ২০১৯ at ১০:১৮ পূর্বাহ্ণ
470

চট্টগ্রাম বন্দরে ফিস ফিডের তিনটি চালান জব্দ করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। কাস্টমস কর্তারা জানিয়েছেন, মাছের খাবারের নাম দিয়ে শূকরের অথবা গবাদি পশুর বর্জ্যযুক্ত পণ্য আমদানি করা হয়েছে। আমদানি নীতির শর্ত মতে, ‘মিট অ্যান্ড বোন মিল’ আমদানি নিষিদ্ধ। এ সমস্ত খাবার খেলে মুরগির বাচ্চা দু’ সপ্তাহের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ আকার ধারণ করে। চালানে জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ আমদানি নিষিদ্ধ উপকরণ থাকায় তিন আমদানিকারকের বিপুল পরিমাণ ফিস ফিড জব্দ করা হয়।
চালানগুলোর মধ্যে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের আয়েশা করপোরেশনের ৪০ ফুট দীর্ঘ ২৫ কন্টেনার, মানিকগঞ্জের স্পেক্ট্রা ফিডস লিমিটেডের ১০ কন্টেনার ও ঢাকার মগবাজারের প্রমিক অ্যাগ্রো অ্যান্ড ফিড প্রডাক্টস লিমিটেডের ২৫ কন্টেনার ফিস ফিড রয়েছে। ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড ও ইন্দোনেশিয়া থেকে তিন প্রতিষ্ঠানের ১ হাজার ৪০৯ টন পণ্য এসেছে। এর মধ্যে কিছু কন্টেনার খালাসও নিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। তবে পণ্যগুলো বিক্রি বা হস্তান্তর না করার জন্য চিঠি দিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
জানা গেছে, জব্দ চালানের নমুনা কাস্টমস পরীক্ষাগারের পরীক্ষায় ‘মিট অ্যান্ড বোন মিল’ হিসেবে চিহ্নিত হয়। একই পণ্য ঢাকার আইসিডিডিআরবি এবং চট্টগ্রামের সিভাসুর পোল্ট্রি রিচার্স অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টারে (পিআরটিসি) পাঠানো হয়। যাতে মিট অ্যান্ড বোন মিলের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। যা দ্য ইমপোর্টার্স অ্যান্ড এঙপোর্টার্স কনট্রোল অ্যাক্ট ১৯৫০ ও আমদানি নীতি আদেশ ২০১৫-১৮ এর অনুচ্ছেদ-১৭, পরিশিষ্ট-১ এর খ অংশের বিধান লংঘন, মিট অ্যান্ড বোন মিলকে ফিস ফিড ঘোষণা দেওয়ায় দ্য কাস্টমস অ্যাক্ট ১৯৬৯ এর ৩২ ধারা এবং মিথ্যা ঘোষণার মাধ্যমে মানি লন্ডারিং প্রিভেনশন (সংশোধন) আইন ২০১৫-এর লংঘন। এছাড়া এক পণ্যের স্থলে অন্য পণ্য আমদানি করা দ্য স্পেশাল পাওয়ার অ্যাক্ট ১৯৭৪ অনুযায়ী চোরাচালান হিসেবে শাস্তিযোগ্য।
গতকাল চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে চালান তিনটি জব্দ করার বিষয়ে সংবাদিকদের কাছে ব্যাখ্যা দেন কাস্টমস কমিশনার মোহাম্মদ ফখরুল আলম। এ সময় তিনি বলেন, আমাদের কাছে তথ্য ছিল ‘মিট অ্যান্ড বোন মিল’ আমদানি নিষিদ্ধ হওয়ায় অসাধু ব্যবসায়ীরা ভিন্ন নামে ফিস মিল বা ফিস ফিড বলে আমদানির অপচেষ্টা চালিয়ে আসছেন। খালাস পর্যায়ে যেসব চালান ছিল সেগুলো বিন লক করার নির্দেশ দিই। মাছের খাবার (ফিস ফিড) নাম দিয়ে শূকর বা গবাদি পশুর বর্জ্যযুক্ত উপকরণ থাকায় চালানগুলোর নমুনা পরীক্ষা শেষে খালাস কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। দেশের আমদানি নীতির শর্ত অনুযায়ী ‘মিট অ্যান্ড বোন মিল’ আনা নিষিদ্ধ। উন্নত দেশগুলোতে শূকর ও গবাদি পশুর বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে রফতানি করে। এসব খাবার খেলে মুরগির বাচ্চা দ্রুত বেড়ে উঠে।
তিনি আরো বলেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী জনস্বাস্থ্যর হুমকির কথা চিন্তা না করে এসব ক্ষতিকর পশুখাদ্য বা মৎস্যখাদ্য আমদানি করে। পশুখাদ্যে ‘মিট অ্যান্ড বোন মিল’ এবং ফিস ফিডের ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক ‘নাইট্রোফুরান’ এবং ‘ক্লোরামফেনিকল’ নিষিদ্ধ। যেগুলোর বিল অব এন্ট্রি হয়েছে সেগুলোর বিন লক করেছি। এ জাতীয় ঘোষণায় যেসব আমদানি হয়েছে তা আইজিএম খতিয়ে দেখে বিএল লক করেছি। যাতে আমাদের অনুমতি ছাড়া বিল অব এন্ট্রি দাখিল করতে না পারে। এ ধরনের অনেক চালান বন্দরে আছে। পরীক্ষার পর জানা যাবে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সিঅ্যান্ডএফ প্রতিনিধি, এআইআর, জেটি কাস্টম, মৎস্য অধিদফতর বা প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের প্রতিনিধির উপস্থিতিতে দৈবচয়নের ভিত্তিতে নমুনা তোলা হয়। সৎ ব্যবসায়ীরা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে জন্য টেস্ট রিপোর্ট আসার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত খালাসের ব্যবস্থা করছেন জানিয়ে কাস্টমস কমিশনার বলেন, শুধু রাজস্ব আহরণ নয়, একই সঙ্গে দেশের বিনিয়োগ, উৎপাদন ও কর্মসংস্থানের বিষয়ও আমাদের বিবেচনা করতে হয়। আটক করা চালানের আমদানিকারকদের বিরুদ্ধে দুয়েক দিনের মধ্যে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অংশ হিসেবে কারণ দর্শানো নোটিশ জারি করা হবে।

x