মহেশখালীতে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপ মুখোমুখি, ১৪৪ ধারা জারি

নতুন কমিটি নিয়ে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি

মহেশখালী প্রতিনিধি

বুধবার , ১১ জুলাই, ২০১৮ at ১০:২৯ পূর্বাহ্ণ
72

মহেশখালীতে উপজেলা ছাত্রলীগের সদ্য ঘোষিত কমিটি নিয়ে এক গ্রুপের প্রতিবাদ সমাবেশ ও অন্য গ্রুপের শোডাউনের ঘোষণায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় প্রশাসন গতকাল মঙ্গলবার মহেশখালী পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে। বিকেলে উপজেলা চত্বরে দু’গ্রুপের সমাবেশ করার কথা ছিল। তবে ১৪৪ ধারা জারি করায় কোন গ্রুপ আর সমাবেশ করেনি। বিকাল সাড়ে ৪টায় ১৪৪ ধারা জারি করেন ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (সহকারী কমিশনার ভূমি) হাসান মারুফ। উপজেলা সদরের গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও সড়কে মাইকিং করে সভা সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। একই সাথে উপজেলা পরিষদ চত্বর, গোরকঘাটা বাজার ও আদালত এলাকাসহ বেশকয়েকটি স্থানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

জানা যায়, গত ৯ জুলাই জেলা ছাত্রলীগ কর্তৃক ঘোষিত মহেশখালী উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটিকে সাংগঠনিক গঠনতন্ত্র পরিপন্থি ও বিতর্কিত দাবি করে ছাত্রলীগের ইনজামামুল হক জুসিয়ানের নেতৃত্বে একটি গ্রুপ দুপুর ২টায় উপজেলা চত্বরে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধনের ডাক দিয়েছিল। এর অংশ হিসেবে বেলা ১১টা থেকে ওই গ্রুপের নেতাকর্মীরা উপজেলা চত্বরে জমায়েত হতে থাকেন। অপরদিকে ঘোষিত কমিটির সভাপতি হালিমুর রশিদ ও সাধারণ সম্পাদক পারভেজ আহমদ বাবু গতকাল বিকেলে শোডাউন সহকারে জেলা সদর কক্সবাজার থেকে মহেশখালী যাওয়ার কর্মসূচি দেন। তাছাড়া ঘোষিত কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদক পদ দেওয়া ছাত্রলীগ নেতা ইনজামামুল হক জুসিয়ান ৯ জুলাই কক্সবাজার জেলা সদরে সংবাদ সম্মেলন করে পদত্যাগ করে কমিটি বাতিলের দাবিতে গতকাল উপজেলা সদরে তার পক্ষের কর্মী সমর্থক নিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দেন। এ নিয়ে দু’গ্রুপের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

এ ব্যাপারে মহেশখালী উপজেলার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মারুফ দৈনিক আজাদীকে বলেন, ‘ছাত্রলীগের দু’পক্ষের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনাকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠছিল। এরই প্রেক্ষিতে সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে উপজেলা সদরের পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়।’ গতকাল রাত সাড়ে ৯টায় তিনি জানান, ১৪৪ এখনও বলবৎ আছে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে গেলে রাতের মধ্যে তা তুলে নেয়া হবে। মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ প্রদীপ কুমার দাশ জানান, ছাত্রলীগের দু’পক্ষের মুখোমুখি অবস্থানকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই পুলিশ সতর্ক অবস্থায় ছিলো। ১৪৪ জারির পর পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

এদিকে প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করায় বিক্ষুব্ধ পক্ষ উপজেলা চত্বরে ডাকা প্রতিবাদ সমাবেশ করেনি। অপর দিকে ঘোষিত কমিটির একাংশ জেলা সদর থেকে দলীয় কর্মী সমর্থক নিয়ে শোডাউন সহকারে মহেশখালীতে পৌঁছে। তারাও কোন ধরণের প্রতিবাদ সমাবেশ করেনি।

ঘোষিত কমিটি প্রসঙ্গে বিক্ষুব্ধ পক্ষের ইনজামামুল হক জুসিয়ান বলেন, ‘ওই কমিটি সংগঠনের পরিপন্থী হওয়ায় আমি মনে করি এই কমিটি নীতি আর নৈতিকতার বিরুদ্ধে হয়েছে। আমাকে কেন সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছেআমি তো তাদের কাছে পদ চাইনি। আমাকে না জানিয়ে রাতের অন্ধকারে লক্ষ লক্ষ টাকার বিনিময়ে কমিটি অনুমোদন দেন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। দু’জন বিতর্কিত ব্যক্তিকে কমিটিতে স্থান দেয়ায় আমি উক্ত পদ থেকে পদত্যাগ করেছি। আমার মতো মহেশখালী ছাত্রলীগের সব নেতাকর্মী এই বিতর্কিত কমিটির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। সব মিলে এটি একটি চরম বিতর্কিত কমিটি হয়েছে। তাই আমি সাংগঠনিক পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছি এবং নতুনভাবে সাংগঠনিক পন্থায় কমিটি গঠনের দাবি জানাচ্ছি।’

অপর দিকে ঘোষিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক পারভেজ আহমদ বাবু বলেন, ‘জেলা ছাত্রলীগের সভাপতিসম্পাদক সম্পূর্ণ গঠনতন্ত্র মোতাবেক দলীয় তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে এই কমিটি ঘোষণা করেছেন। ঘোষিত কমিটিতে ইনজামামুল হক জুসিয়ানকে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে। এতে তিনি ক্ষুব্ধ হয়েছেন। সেটি তার একান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপার।’ জেলা কমিটি অনুমোদিত কমিটিই বহাল থাকবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

x