মহাসড়কগুলোর গুরুত্বের কথা ভাবতে হবে

শুক্রবার , ৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ at ৬:২৩ পূর্বাহ্ণ
38

দেশের মহাসড়কগুলো নিয়ে বড় রকমের পরিকল্পনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত ৪ সেপ্টেম্বর দৈনিক আজাদীতে প্রকাশিত ‘মহাসড়ক নিয়ে মহাপরিকল্পনা’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মহাসড়কগুলোর স্থায়িত্ব বাড়ানোর লক্ষ্যে অতিরিক্ত ভারের যানবাহন চলাচল ঠেকাতে ২১টি স্থানে ওজন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এজন্য ‘সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের আওতাধীন গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে পণ্য পরিবহনের উৎস মুখে এঙেল লোড নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র স্থাপন’ শীর্ষক একটি প্রকল্প গত মঙ্গলবার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে একনেকে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেকের এই সভায় এটিসহ মোট ১০টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। ওজন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র স্থাপনের প্রকল্পটিতে ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ৬৩০ কোটি টাকা। ১০ প্রকল্পের মধ্যে আছে ঢাকা-চট্টগ্রাম চার লেন সড়ক সংস্কার প্রকল্প। এই মহাসড়কের দাউদকান্দি-চট্টগ্রাম অংশের চার বছরের জন্য পারফরম্যান্স বেইজড অপারেশন ও দৃঢ়করণ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৯৩ কোটি টাকা। এছাড়া একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের জাতীয় মহাসড়কগুলোকে টোলের আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলছেন, টোল থেকে যে অর্থ পাওয়া যাবে, তা দিয়েই সারা বছর সড়কগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের ব্যয় নির্বাহ করা হবে।
পত্রিকান্তরে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায়, চট্টগ্রামের সঙ্গে সারাদেশের যোগাযোগ রক্ষাকারী জাতীয় অর্থনীতির লাইফলাইন এ মহাসড়কটি দিয়ে প্রতিনিয়ত মাত্রাতিরিক্ত পণ্য বোঝাই যানবাহন চলাচল করছে। ক্রমবর্ধমান পণ্য ও যাত্রীবাহী যানবাহনের জন্য মহাসড়কটির পূর্ণ উপযোগিতা ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করার জন্য নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচর্যা প্রয়োজন। অধিক সংখ্যক এবং অননুমোদিত ভারবাহী যান চলাচলের কারণে মহাসড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অতিরিক্ত ভারবহনকারী যান চলাচলের জন্য সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি হতে রক্ষা করতে মহাসড়কটি প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণের জন্য চার লেনে উন্নীত ঢাকা-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়ক এর পরবর্তী ৫ বছরের জন্য পারফরমেন্স-বেজড রক্ষণাবেক্ষণ ও পেভমেন্ট শক্তিশালীকরণ শীর্ষক একটি প্রকল্প সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ থেকে সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে ৯৪৩ কোটি ৯৯ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে ২০১৮ সালের জুলাই হতে ২০২৩ সালের জুনে বাস্তবায়নের জন্য প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হয় পরিকল্পনা কমিশনে। প্রকল্পটি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের এডিপিতে অন্তর্ভুক্ত না থাকায় এটির অনুমোদন প্রক্রিয়াকরণে সম্মতির জন্য সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হলে তার নির্দেশনা অনুযায়ী প্রকল্পটি নেয়ার যৌক্তিকতা নিরূপণের জন্য ভৌত অবকাঠামো বিভাগের যুগ্মপ্রধানের নেতৃত্বে বুয়েটের প্রতিনিধি সমন্বয়ে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটি ২০১৮ সালের ২৬ ডিসেম্বর প্রতিবেদন পেশ করে। ওই কমিটির প্রতিবেদনের ওপর চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি পরিকল্পনা কমিশনে একটি পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভার সুপারিশ অনুযায়ী সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ একটি কারিগরি কমিটি গঠন করে মহাসড়কটির কোর কাটিং পরীক্ষা করে কমিটির প্রতিবেদন চলতি বছরের ৭ এপ্রিল পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়। কমিটির কার্যক্রম চলমান অবস্থায় সড়ক পরিবহন আগের প্রকল্প প্রস্তাবের পরিবর্তে ৫০০ কোটি ৬২ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে ২০১৮ সালের অক্টোবর হতে ২০২২ সালের জুনে চার লেনে উন্নীত ঢাকা-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়কের ৪ বছরের জন্য পারফরমেন্স-বেজড অপারেশন ও দৃঢ়করণ প্রকল্প প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়।
অভিযোগে প্রকাশ, দফায় দফায় সময় ও ব্যয় বাড়িয়ে চার লেনে উন্নীত হওয়া ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের স্থায়িত্ব প্রকল্প প্রস্তাবনা অনুযায়ী ২০ বছর। অথচ নির্মাণের ২ বছর না যেতেই দেবে যাচ্ছে মহাসড়কের দু’পাশ। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বিটুমিন কার্পেট। সড়কের ডিজাইনে ট্রাফিক প্রবৃদ্ধির হারও কমিয়ে ধরা হয়। এছাড়া, সড়ক নির্মাণের পর যানবাহনের অনুমোদিত লোড দ্বিগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়। উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) প্রণয়ন দুর্বলতার কারণে মহাসড়কটির এ অবস্থা হয়েছে বলে উঠে এসেছে সরকারের প্রকল্প তদারকি সংস্থা বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) প্রতিবেদনে।
এসব বিষয়কেও চিন্তার মধ্যে রাখতে হবে। যানজটবিহীন বাধামুক্তভাবে দ্রুতগতির যানবাহন চলাচলের সুবিধার্থে প্রস্তাবিতএঙপ্রেসওয়ে বাস্তবায়িত হলে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টায় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা যাওয়া যাবে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।

x