মহাসাগরের গভীরতম তলদেশ মারিয়ানা ট্রেঞ্চেও প্লাস্টিক বর্জ্য

বুধবার , ১৫ মে, ২০১৯ at ৪:৪২ পূর্বাহ্ণ
48

প্রশান্ত মহাসাগরের গভীরতম অংশ মারিয়ানা ট্রেঞ্চের তলদেশে মানুষের তৈরি আবর্জনা পেয়েছেন মার্কিন এক অভিযাত্রী। পানির প্রবল চাপ সহ্য করার ক্ষমতা সম্পন্ন একটি সাবমেরিনের ভিতরে বসে মারিয়ানা ট্রেঞ্চের প্রায় ১১ কিলোমিটার গভীরে গিয়েছিলেন অভিযাত্রী ভিক্টর ভেসকোভো, যা একটি নতুন রেকর্ড। কিন্তু ওই গভীরতায় গিয়ে যা পেলেন তা বিশ্বের যে কোনো রাস্তার পাশের নর্দমায়ই দেখতে পেতেন তিনি। সেখানে প্লাস্টিক বর্জ্য দেখতে পাওয়ার কথা জানালেন তিনি। খবর বিডিনিউজের।
নিজের সাবমেরিনে বসে মারিয়ানা ট্রেঞ্চের তলদেশে চার ঘণ্টা ছিলেন টেক্সাসের বিনিয়োগকারী ভেসকোভো। সেখানে সামুদ্রিক প্রাণির পাশাপাশি প্লাস্টিকের ব্যাগ ও চকোলেটের প্যাকেট পেয়েছেন তিনি, এগুলোর একটির গায়ে কিছু লেখাও ছিল। এই নিয়ে তৃতীয়বারের মতো মহাসাগরের গভীর তলদেশে পৌঁছল মানুষ। প্রথমবার ১৯৬০ সালে মার্কিন নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট ডন ওয়ালশ এবং সুইস প্রকৌশলী জ্যাক পিকার্ড একটি বিশেষ যানে করে মারিয়ানা ট্রেঞ্চের তলদেশে গিয়েছিলেন। এর অর্ধ শতাব্দী পর ২০১২ সালে চলচ্চিত্র পরিচালক জেমস ক্যামেরন সবুজ রঙয়ের একটি সাবমেরিন নিয়ে একাই সেখানে গিয়েছিলেন। এবারের উদ্যোগে ভেসকোভো ট্রেঞ্চটির ১০ হাজার ৯২৭ মিটার (৩৫,৮৪৯ ফুট) গভীরে পৌঁছান। এ যাত্রায় তিনি ১৯৬০ সালের অভিযাত্রীদের চেয়ে ১৬ মিটার (৫২ ফুট) গভীরে নেমেছিলেন। তার আগে কোনো মানুষ সাগরের এত গভীরে নামেননি। এ যাত্রায় ভেসকোভো অনাবিষ্কৃত বিভিন্ন প্রজাতিরও সন্ধান পান। এর পাশাপাশি মানুষের অগম্য ওই স্থানে তিনি ধাতব বস্তু ও প্লাস্টিক দ্রব্য দেখতে পান। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘মহাসাগরের গভীরতম পয়েন্টে মানুষের সৃষ্ট দূষণের পরিষ্কার নমুনা দেখাটা অত্যন্ত হতাশাজনক।’ এ পর্যন্ত বিশ্বের সাগরগুলোতে ১০ কোটি টন প্লাস্টিক বর্জ্য গিয়ে জমা হয়েছে বলে তথ্য জাতিসংঘের।
মহাসাগরের গভীরে বিচরণকারী তিমির মতো স্তন্যপায়ীদের পেটে বিশাল পরিমাণ প্লাস্টিকের কণা পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

x