মহামুনি গ্রামের পেছনে চলছে পাহাড়-টিলা কাটার মহোৎসব

মীর আসলাম, রাউজান

মঙ্গলবার , ১১ জুন, ২০১৯ at ১০:৪১ পূর্বাহ্ণ
95

দক্ষিণ রাউজানের পাহাড়তলী ইউনিয়নের মহামুনি গ্রামের পূর্ব পার্শ্বে বিশাল এলাকা জুড়ে থাকা পাহাড় টিলা কেটে বিরান ভূমিতে পরিণত করা হয়েছে। গত কয়েক মাস ধরে এখানে পাহাড় টিলা কাটার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে একাধিক শক্তিশালী স্কেভেটর। এলাকাটি নিরিবিলি হওয়ার কারণে পাহাড় নিধনকারীরা এই পর্যন্ত অন্তত ১০ একর পাহাড় কেটে ফেলেছে। সমপ্রতি পাহাড় কাটার ভয়াবহ দৃশ্যটি দেখে স্থানীয় জনসাধারণ সংবাদ কর্মীদের এব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করে। বিষয়টি জেনে সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখা যায়, পাহাড় টিলা কাটার ভয়াবহতা চলছে মহামুনি মন্দিরের পূর্ব পাশে রাউজান রাঙ্গুনিয়া সীমান্তে। এখানে ইতিমধ্যে কেটে ফেলা হয়েছে প্রায় ১০ একরের মত পাহাড় টিলা।
পরিদর্শনে যাওয়ার পথে প্রায় অর্ধকিলোমিটার আগে পথে পথে সাঁটানো হয়েছে জুতা, টুপি খুলে যাওয়ার নির্দ্দেশনায় একাধিক সাইনবোর্ড। কেটে ফেলা টিলা ভূমি পেরিয়ে যেতে যেতে দেখা যায় পাহাড় কাটার অবর্ণনীয় দৃশ্য। সমতল করে ফেলা পাহাড় টিলার অবস্থা দেখতে দেখতে সামনের দিকে এগিয়ে গেলে নজরে আসে কয়েক এক॥র এলাকা জুড়ে থাকা একটি পাহাড়ের মাথা কেটে সমতল করে সেখানে নির্মাণ করা হয়েছে বিদেশি নঙায় একটি দৃষ্টিনন্দন ভবন। এই ভবনের দিকে যাওয়ার অনন্ত দুই গজ আগে একটি কুটিরে স্থাপন করা আছে বিশাল একটি বুদ্ধ মূর্তি। পাশে আছে আধাপাকা লম্বা একটি ঘর। মূর্তির কাছে অবস্থানকারী এক মহিলা নিজেকে সেবিকা পরিচয় দিয়ে সামনের দিকে না যাওয়ার অনুরোধ করে বলেন ওই কুঠিরে ভান্তে আছেন। তার অনুমতি ছাড়া সেখানে যাওয়া যাবে না। সংবাদ কর্মী পরিচয় দিলে জানতে চান কে পাঠিয়েছেন। কথার ফাঁকে বলেন, পাড়ার লোকজন ভান্তের বিরুদ্ধে লেগেছে। যারা ভান্তের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে তার বদনাম করছে তাদের প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে। তার কাছে জানা যায়, বিশাল এলাকা জুড়ে এই মন্দিরটি করছেন ধুতাঙ্গ ভান্তে নামের এক বৌদ্ধ ভিক্ষু। বর্তমানে তিনি বিদেশে অবস্থান করছেন।
কুঠিরে কেউ আছে কিনা জানতে চাইলে বলেন ,একজন ভান্তে আছেন। তার সাথে কথা বলতে যেতে চাইলে ওই সেবিকা বাঁধা দিয়ে বলেন, আমি আগে তার অনুমতি নিয়ে আসি। তার পর যাবেন। এই অপেক্ষার মধ্যে ওই কুটির থেকে একজন ভান্তেসহ অপর এক ব্যক্তি নিচে নেমে এসে মাঠে কিছুক্ষণ পায়চারি করে মোবাইলে কথা বলতে দেখা গেলেও, পরে তারা আবার উপরে উঠে যায় কথা না বলে। মহামুনি বৌদ্ধ পল্ল্লীর কয়েকজন বাসিন্দার সাথে ওই মন্দির নিয়ে কথা বললে তারা জানায় ওই মন্দির প্রতিষ্ঠার সাথে মহামুনি বৌদ্ধ পাড়ার বেশির ভাগ মানুষের সম্পর্ক নাই।
ভিন্ন মতাবলম্বি একটি গোষ্ঠি মহামুনির ঐতিহাসিক মন্দিরকে পাশ কাটিয়ে ওই মন্দির নির্মাণ করছেন। উল্ল্লেখ করা যেতে পারে , সাইন বোর্ডে জুতা, টুপি খুলে যাওয়ার নির্দ্দেশনা থাকলেও সেখানে দেখা যায় কাটা পাহাড়ের মাঠে কয়েকজন নারী পুরুষ জুতা পায়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে।বিশাল এলাকা জুড়ে পাহাড় কাটার বিষয়ে রাউজান উপজেলা নির্বার্হী কর্মকর্তা জোনায়েদ কবির সোহাগের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন বিষয়টি সরেজমিনে পরিদর্শন করে রিপোর্ট দিতে স্থানীয় তহশিলদারকে নির্দ্দেশ দেয়া হয়েছে। প্রমান পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

x