মহররম মাস আমাদের ঈমানি চেতনা জাগ্রত করতে শেখায়

শাহাদাতে কারবালা মাহফিলে অভিমত

শনিবার , ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ at ৪:২১ পূর্বাহ্ণ
99

জমিয়তুল ফালাহ মসজিদে ১০ দিনব্যাপী ৩৩ তম আন্তর্জাতিক শাহদাতে কারবালা মাহফিলের গতকাল শুক্রবার (১৪ সেপ্টম্বর) ৪র্থ দিনে বিদেশি আলোচক মিসর আল আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ ফ্যাকাল্টির ডিন প্রফেসর ড. সৈয়দ জামাল ফারুক বলেছেন, গণবিরোধী স্বৈরতন্ত্র চাপিয়ে দেয়ার কারণে নরপিশাচ ইয়াজিদের নাম যুগে যুগে ধিক্কারের সঙ্গে উচ্চারিত হবে। জনমত ও জনপ্রত্যাশা উপেক্ষা করে ইয়াজিদ সেদিন বর্বরতার রাজত্ব কায়েম করছিল। ফলে সে ধিক্কারের পাত্র। ড. জামাল ফারুক বলেন, প্রায় হাজার বছর ধরে মিসর জামেয়া আযহার বিশ্ববিদ্যালয় আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের প্রতিনিধিত্ব করে আসছে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৪ লক্ষ শিক্ষার্থী এবং ৭০ হাজার শিক্ষক রয়েছেন। এদের প্রায় সবাই আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের মতাদর্শে বিশ্বাসী। বাতিল ওহাবী সালাফীদের স্থান ওখানে নেই। ইসলামের নামধারী সত্যচ্যুত ইবনে তাইমিয়াসহ ওহাবীবাদের বিরুদ্ধে আল আযহার বিশ্ববিদ্যালয় বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে সক্রিয় রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। গতকাল শুক্রবার মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন ফটিকছড়ি ঈসাপুর দরবার শরিফের সাজ্জাদানসীন পীরে তরিকত শাহসূফি আল্লামা সৈয়দ আতাউর রহমান ঈসাপুরী (মাজিআ)। প্রধান অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য এম এ লতিফ। তিনি বলেন, ইসলামের নামে আজ বিকৃতি বিভ্রান্তি দিন দিন বেড়েই চলছে। ইসলাম শান্তির ধর্ম। তাই ইসলামের নামে হানাহানিসহিংসতার কোন সুযোগ নেই। হযরত ইমাম হোসাইন (রা) ইসলামের শান্তিসম্প্রীতির দর্শনই সমুন্নত করার কারণে প্রশংসিত হয়ে আছেন। মাহফিলে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন শাহাদাতে কারবালা মাহফিল পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ও প্রধান পৃষ্ঠপোষক পিএইচপি ফ্যামিলির চেয়ারম্যান আলহাজ সূফী মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, হযরত ইমাম হোসাইন (রা) ও হযরত ইমাম হাসান (রা) জান্নাতের দুটি সুরভিত ফুল। যারা তাঁদের ভালোবাসলো, প্রকারান্তরে তারা যেন আল্লাহ পাক ও প্রিয় নবী () কে ভালোবাসলো। আহলে বায়তে রাসূলের () মহব্বত অন্তরে গভীরভাবে ধারণ করে আমাদেরকে নাজাতের সৌভাগ্য অর্জন করতে হবে। বিদেশি আলোচক ছিলেন লেবানন বৈরুত গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির প্রফেসর ড. শাইখ সৈয়দ জামাল মুহাম্মদ শাকার আল হোসাইনি। তিনি বলেন, মহররম মাস আমাদেরকে ঈমানি চেতনা জাগ্রত করতে শেখায়। হযরত ইমাম হোসাইন (রা) সহ আহলে বায়তে রাসূলের () শাহাদাতের বিনিময়ে আমরা আজ অবিকৃত দ্বীনইসলামের নিয়ামত পেয়ে ধন্য। এজন্য আমাদেরকে আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া জানাতে হবে। খোলাফায়ে রাশেদুন ও আহলে বায়তে নিয়ে আলোচনা করেন ঢাকা নেছারিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ড. আল্লামা কফিল উদ্দিন সরকার সালেহী, কুরআনসুন্নাহর দৃষ্টিতে মহররম উদযাপন নিয়ে আলোচনা করেন আনজুমানে রজভিয়া নূরীয়া বাংলাদেশ এর চেয়ারম্যান পীরে তরিকত আল্লামা আবুল কাশেম নূরী এবং খতিবের হাট তৈয়বিয়া জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মুহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া। আলোচক ড. সালেহী বলেন, খোলাফায়ে রাশেদার আমলে জননিরাপত্তা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। অন্ধকার যুগ থেকে আরববাসী পরিত্রাণ পায়। তাই, শান্তিজননিরাপত্তা ও নাগরিক স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে আমাদেরকে খোলাফায়ে রাশেদার ইনসাফভিত্তিক শাসনব্যবস্থার আদলে দেশ গড়তে হবে। আলোচক আল্লামা আবুল কাশেম নূরী বলেন, আল্লাহর নিকট সর্বাপেক্ষা উত্তম মাসের মধ্যে মহররম মাস উত্তম। আমরা মুসলমান। অথচ দুঃখজনক যে, আমরা আরবি মাসগুলোর নাম জানিনা। হিজরি মাসগুলোর নাম জানা আমাদের জন্য জরুরি।

বিশেষ অতিথি ছিলেন, বোয়ালখালী হাওলা দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন শাহজাদা মাওলানা মুহাম্মদ নাঈমুল কুদ্দুস আকবরী, পিএইচপি ফ্যামিলির ডাইরেক্টর আলহাজ মুহাম্মদ আলী হোসেন চৌধুরী, এপোলো ইস্পাতের ডাইরেক্টর আলহাজ মোহাম্মদ আব্দুর রহমান। কুরআন মজিদ থেকে তেলাওয়াত করেন আন্তর্জাতিক ক্বারী শাইখ আহমদ বিন ইউসুফ আল আযহারী। নাতে রাসূল () পাঠ করেন শায়ের মাওলানা মুহাম্মদ জয়নুল আবেদীন। মাহফিল সঞ্চালনা করেন চবি অধ্যাপক ড. আল্লামা জাফর উল্লাহ, মাওলানা মুহাম্মদ জিয়াউল হক ও মোহাম্মদ আবুল মনসুর সিকদার।

উল্লেখ্য, আগামীকাল রোববার থেকে পর্দা সহকারে মহিলাদের বক্তব্য শোনার ব্যবস্থা থাকবে। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

x