মশা তাড়াবে যে গাছগুলো!

হুমায়রা আজাদ

রবিবার , ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ at ৬:৪৭ পূর্বাহ্ণ
163

ডেঙ্গু আতঙ্কে ভুগছে পুরো দেশের মানুষ। নিজেকে ও পরিবারের মানুষদেরকে নিরাপদে রাখার জন্য সবার মাঝেই কাজ করছে চিন্তাভাবনা। বাসার ভেতরে ও আশেপাশে কোথাও যেন পানি জমে না থাকে ও মশা জন্মাতে না পারে, সেদিকে সবাই খেয়াল রাখছেন। সন্ধ্যা হওয়ার আগেই ঘরের জানালা বন্ধ করে মশার কয়েল জ্বালাচ্ছেন এবং মশারি ব্যবহার করছেন। কিন্তু এতো প্রস্তুতি সত্ত্বেও বিপত্তি এসে হানা দিচ্ছে ঠিকই।
কারণ নিজের বাড়ি ও বাড়ির আশেপাশের অংশ পরিষ্কার করা হলেও, পুরো এলাকা থেকে যাচ্ছে আগের মতোই। ফলে ময়লা ও জমে থাকা পানি থেকে মশা জন্ম নিচ্ছে এবং সতর্কতা গ্রহণের পরেও কোন না কোনভাবে ঘরে প্রবেশ করছে।
এক্ষেত্রে উপকারে আসবে বিশেষ কিছু গাছ। এখনকার সময়ে নিজ বারান্দায় শখের ছোট বাগান গড়ে তুলতে সকলেই ভালোবাসেন। সে বাগানে এমন কিছু গাছ সংগ্রহ করতে হবে, যা মশাকে প্রতিরোধ করতে সক্ষম। পরিচিত অথবা অর্ধ-পরিচিত এই গাছগুলো ‘মসকুইটো রিপ্যালেন্ট’ তথা মশা নিবারণ করতে বা তাড়াতে কাজ করে। ঘরের সাথে লাগোয়া কিংবা আলোযুক্ত স্থানে উক্ত গাছ রাখলে ক্ষতিকারক মশার হাত থেকে নিজেদেরকে অনেকটা সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হবে।
তুলসি: পরিচিত ঔষধি এই গাছের উপকারী পাতা বহুল ব্যবহৃত উদ্ভিদ হিসেবে পরিচিত। বিভিন্ন ধরনের শারীরিক উপকারিতা সম্পন্ন এই পাতার আরও বড় উপকারিতাটি হল, এই গাছ ও গাছের পাতা মশাকে তাড়াতে কাজ করে। তুলসি পাতায় প্রাকৃতিক এক ধরনের ঘ্রাণ রয়েছে, যা মশারা সহ্য করতে পারে না। এর জন্য গাছে সতেজ পাতা থাকাই যথেষ্ট, পাতা ছিঁড়ে কচলে নেওয়ারও প্রয়োজন নেই।
ক্যাটনিপ: এই উদ্ভিদের এমন নামকরণের পেছনে যথার্থ কারণ আছে। বিড়াল এই গাছ খুবই পছন্দ করে। কারণ এই গাছে নেপিট্যাল্যাক্টন (ঘবঢ়বঃধষধপঃড়হব) নামক এক প্রকারের প্রাকৃতিক উদ্ভিজ কেমিক্যাল রয়েছে। যা বিড়ালদের আকর্ষিত করে এবং মশা, মাছি, পোকামাকড়কে দূর করে।
২০১০ সালের একটি গবেষণা থেকে দেখা গেছে পোকামাকড় তাড়ানোর উপাদানের চাইতেও ক্যাটনিপ বেশি কার্যকরি। আলো-বাতাসযুক্ত স্থানে খুব সহজেই এই গাছ বেড়ে ওঠে এবং যারা বিড়াল পালেন তারা এই গাছ ঘরে রাখলে খুশিও হবেন।
পুদিনা পাতা: রান্নাঘরের জানালায় বা বারান্দায় যে পুদিনা গাছটি আছে, সেটা হরেক রান্নায় স্বাদ বাড়ানোর পাশাপাশি আপনাকে মশার হাত থেকেও সুরক্ষিত রাখবে। দ্রুত বেড়ে ওঠার এই উদ্ভিদ ও এর পাতা থেকে তৈরি তেল (পিপারমিন্ট অয়েল) মশাকে দূরে রাখবে। এছাড়া মশা কামড় দেওয়া স্থানে পুদিনা পাতা কচলে ম্যাসাজ করলেও আরাম পাওয়া যাবে।
লেমন বাম: মিন্ট পরিবারের আরেকটি সদস্য হলো এই লেমন বাম। এই উদ্ভিদটি দেখতেও অনেকটা পুদিনা পাতার মতো, তবে পুদিনা পাতা নয়। একেবারে প্রতিকূল পরিবেশে ও অযত্নেও এই গাছটি খুব দ্রুত বেড়ে ওঠে।
সেইজ: বিভিন্ন পূজা-অর্চনাতে এই পাতা ব্যবহার করা হয় এবং পোড়ানো হয়। সেইজ (ঝধমব) কে ভুঁই তুলসি নামেও ডাকা হয়। এই পাতার ধোঁয়াই মূলত মশাকে দূর করে। ঘরে সন্ধ্যা নাগাদ কয়েকটি সেইজ পাতা পুড়িয়ে ধোঁয়া পুরো ঘরে ছড়িয়ে দিলে ঘরে সুমিষ্ট গন্ধ থাকবে ও মশাও দূর হবে।
ঘরে ও বারান্দায় গাছ রাখার ক্ষেত্রে একটি বিষয় অবশ্যই মনে রাখতে হবে। গাছের টবে যেন কোন পানি না জমে। টবের মাটি শুকিয়ে আসলেই কেবল তাতে পানি দিতে হবে।

x