মরণোত্তর চক্ষু দান করুন

বৃহস্পতিবার , ১০ জানুয়ারি, ২০১৯ at ৪:৪১ পূর্বাহ্ণ
57

মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। হিন্দু মুসলিম বৌদ্ধ খ্রীষ্টান জাতি ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে সকলের উপরে আমরা মানুষ। সমগ্র মানব সমাজ অখন্ড এবং অবিচ্ছেদ্য অখন্ড আত্মীয়তার সূত্রে আবদ্ধ। একবিংশ শতকের আধুনিক সভ্যতার অংশীদার আমরা। আমাদের জ্ঞান গরিমা বৈজ্ঞানিক কারিগরী দক্ষতা শিক্ষা সংস্কৃতিতে আমরা অনেক আগুয়ান। আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির বদৌলতে সমগ্র পৃথিবীর জানা অজানা সবকিছুই নিমেষে আমাদের হাতের মুঠোতে এসে যাচ্ছে। তবু আমাদের মানবিক শান্তি স্বস্তি আসছে না। খুন জখম সন্ত্রাস দুর্ঘটনায় অপমৃত্যু আমাদের নিত্য সঙ্গী। কিশোরী শিশু অপহরণ ধর্ষণ সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত। এমতাবস্থায় সমাজে ভাল মানুষের প্রয়োজন অনেক বেশি। আর্তমানবতার সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করাতেই জীবনের সার্থকতা আসে। মানুষ স্বীয় প্রচেষ্টায় কল্যাণমুখী সমাজ সৃষ্টি করতে পারে। সকল প্রাণির প্রতি মৈত্রী ভাবনা করে প্রথমে মনের কলুষতা, জড়তা স্বার্থান্ধতা দূর করা যায়। মানুষ লোভ লালসা হিংসা দ্বেষের মত আগুন থেকে মুক্ত হতে পারলেই প্রকৃত মানুষ হওয়া যায়। জীবন সকলের প্রিয়। মানুষ অসীম শক্তির অধিকারী। প্রতিবন্ধীদের সাহায্যে এগিয়ে আসতে পারলে সুখ শান্তি আসতে বাধ্য। বিশেষ করে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের দুঃখ-কষ্টের বর্ণনা সীমাহীন। তাই আপনি যদি আপনার মরণোত্তর চক্ষু দান করেন এর চাইতে বড় পুণ্যের কাজ আর নাই। সামাজিক দায়বদ্ধতার মহৎ দৃষ্টান্ত চক্ষুদান। উল্লেখ্য আমার স্ত্রী অর্পিতা বড়ুয়া ২৯/৪/২০০৮ইং মৃৃত্যুবরণ করার ৩০ মিনিটের মধ্যে প্রথম সন্ধানীকে বলার পর ওনাদের পরামর্শে পাহাড়তলী চক্ষু হাসপাতালের প্রাণ পুরুষ ডাঃ রবিউল হোসেন সাহেবকে বলার ৩০ মিনিটের মধ্যে দুইজন টেকনিসিয়ান হালিশহরের বাসায় এসে ১৫ মিনিটেই কর্ণিয়া নিয়ে যান এবং পরদিনই ২ জন অন্ধলোক পৃথিবীর আলো দেখেন। প্রসঙ্গত আমারও মরণোত্তর চক্ষু এবং দেহ দান করা হয়েছে। সামাজিক দায়দায়িত্বের সেরা মরণোত্তর চক্ষুদান করার আবেদন জানাই।
মুক্তিযোদ্ধা প্রকৌশলী জয়কেতু বড়ুয়া, অব:বিভাগীয় প্রকৌশলী/ বি রেলওয়ে প্রবীণ লেখক ও সংগঠক, হালিশহর, কে ব্লক, চট্টগ্রাম।

x