মন্ত্রিসভার সদস্যদের অভিনন্দন সর্বাঙ্গীন সফলতা কাম্য

মঙ্গলবার , ৮ জানুয়ারি, ২০১৯ at ১০:৩৩ পূর্বাহ্ণ
44

শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে নতুন সরকারের মন্ত্রিসভার শুভ সূচনা ঘটলো। টানা তৃতীয়বারের মত রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিলো বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা চতুর্থ মেয়াদে বাংলাদেশের সরকার প্রধানের দায়িত্ব নিয়ে গড়লেন নতুন ইতিহাস।
রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বঙ্গভবনের দরবার হলে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ বাক্য পড়ালেন। নিয়ম অনুযায়ী প্রথমে প্রধানমন্ত্রী এবং পর্যায়ক্রমে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং উপমন্ত্রীরা শপথ নেন। শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম।এবার আগেভাগেই জনগণ জানতে পেরেছে মন্ত্রিসভায় কারা অন্তর্ভুক্ত হচ্ছেন। রাষ্ট্র পরিচালনায় এবার শেখ হাসিনার সঙ্গী হচ্ছেন কারা। বড় ধরনের একটা চমক জনগণ প্রত্যক্ষ করলো।
উল্লেখ্য, ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর থেকে ক্ষমতার বাইরে থাকা আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালে সপ্তম সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতায় ফেরে। ২০০৮ সালে নবম সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে দ্বিতীয়বার সরকার গঠন করেন হাসিনা। বিএনপি ও তাদের শরিকদের বর্জনের মধ্যে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম সংসদ নির্বাচনের ভোট হয়, যাতে ২৩১টি আসনে জয়ী হয়ে আবারো নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় আওয়ামী লীগ। সেই সরকারের মেয়াদ শেষে গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিবন্ধিত সব দলই অংশ নেয়। ভোটের ফলাফলে ২৯৮ আসনের মধ্যে ২৫৭টিতে জয় পায় আওয়ামী লীগ। জোটগতভাবে তারা পায় ২৮৮ আসন। ৩ জানুয়ারি সকালে জাতীয় সংসদে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথের পর আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের বৈঠকে শেখ হাসিনাকে সংসদ নেতা নির্বাচিত করা হয়।
আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মন্ত্রিসভার সকল সদস্যকে অভিনন্দন জানাই। পাশাপাশি তাঁদের কাছে জাতির প্রত্যাশার কথাও তুলে ধরতে চাই। কেননা তাঁরা এবার বিপুল বিজয় নিয়ে সরকার গঠন করেছেন। তাই এই সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশাও অনেক বেশি। সে বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।
নতুন সরকারের কাছে প্রথম প্রত্যাশা হলো যে অঙ্গীকার তাঁরা নির্বাচনের আগে জনসাধারণকে দিয়েছেন, অর্থাৎ নির্বাচনী ইশতেহারে যে সব প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, তার বাস্তবায়নে নতুন মন্ত্রিসভার আন্তরিক প্রচেষ্টা। দুর্নীতি প্রতিরোধ ও সামাজিক অসঙ্গতি দূর করে সুন্দর সমাজ গঠনে সরকার কাজ করবে, এটিই অন্যতম প্রত্যাশা।
নবীন-প্রবীণের সংমিশ্রণে নতুন যে মন্ত্রিসভা গঠিত হলো, সেটি নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। তবে যাঁরা নতুন এসেছেন, তাঁদের অবশ্যই মনিটরিংয়ে রাখার অনুরোধ করেছেন রাজনীতিবিশেষজ্ঞরা। তাঁরা বলেন, অপ্রত্যাশিত কোনো সমস্যা দেখা দিলে মন্ত্রিসভা পুনর্বিন্যাস করতে হবে। সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণে কাজে গতি আনতে নতুনদের সচেষ্ট থাকতে হবে। অল্প সময়ে তাঁদের সাফল্য নির্ভর করবে তাঁদের অন্তর্ভুক্তির উদ্দেশ্যের ওপর।
সাধারণ মানুষ কে মন্ত্রী হলেন বা কে হলেন না- তা নিয়ে তত ভাবে না। তারা যেটা ভাবে, সেটা হলো সরকার দেশের মানুষের জন্য নতুন কিছু করলো কিনা। নতুন মন্ত্রীরা যেন সৎ থাকেন, মানুষের কল্যাণে কাজ করেন- এমন প্রত্যাশা তাদের। তবে রাজনীতিবিশেষজ্ঞরা মন্ত্রিসভা আশাবাদী। তাঁরা মনে করেন, নতুন যাঁদের মন্ত্রিসভায় নেওয়া হয়েছে তাঁদের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাঁরা নতুন মন্ত্রী হিসেবে নিশ্চয়ই ভাল কিছু করার চেষ্টা করবেন। বিশ্লেষকদের মতে নতুন এই মন্ত্রীদের ঝুঁকি যেমন আছে তেমনি সুযোগও আছে। আমাদের প্রত্যাশা-তাঁরা ভাল কিছু করার চেষ্টা করবেন।
৩০ ডিসেম্বরের দেশের সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল দেশবাসীকে যেমন আনন্দ দিয়েছে, তেমনি দিয়েছে স্বস্তি। তাঁরা নির্বাচনের ফলাফল সানন্দে গ্রহণ করে আগামী পাঁচটি বছরে কী কী উন্নয়ন চান তা নিয়ে ভাবছেন। সারাদেশে এ মুহূর্তে মন্ত্রিপরিষদে অন্তর্ভুক্ত সদস্যদের নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয়ের ফলে যে কোনো সহিংসতা নেই, সেটাই বড় আনন্দ। মাদকতার বিরুদ্ধে যেভাবে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা অব্যাহত রাখতে হবে। জেএসসি- পিএসসি পরীক্ষার মতো অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা বাতিল করে শিশু-কিশোরদের মনোগত চাপ থেকে রেহাই দিতে হবে। তরুণদের কর্মসংস্থান বাড়াতে ইতোপূর্বে নেওয়া পরিকল্পনার বাস্তবায়ন করতে হবে। সর্বোপরি দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখতে হবে। আমরা চাই নতুন সরকারের সর্বাঙ্গীন সফলতা।

- Advertistment -