মনোনয়ন দৌড়ে আ.লীগের ৪ প্রার্থী

তবে দলের বিজয় নিশ্চিতে এক নৌকায় উঠবেন সবাই

শুকলাল দাশ ও এম. নুরুল ইসলাম

বুধবার , ৩ অক্টোবর, ২০১৮ at ১০:২৮ পূর্বাহ্ণ
1088

বঙ্গোপসাগরের মোহনা এবং কর্ণফুলীর তীরবর্তী অঞ্চল হিসেবে চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনটির গুরুত্ব এখন অনেক বেড়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের একেবারে নিকটবর্তী এই উপজেলার পারকি অংশে বন্দর সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কন্টেনার টার্মিনালসহ রিফাইনারি গড়ে তোলার জন্য বিপুল পরিমাণ জমি ক্রয় করেছে। চট্টগ্রাম বন্দরের অপর প্রান্তে পারকি সৈকতের পাশ ঘেঁষে নির্মিত হচ্ছে দেশের প্রথম ট্যানেল(কর্ণফুলী টানেল) এবং দুটি ইকোনমিক জোনের ব্যাপক কর্মযজ্ঞে প্রাণচাঞ্চল্য ভরপুর পুরো উপজেলা জুড়ে। আছে দেশের দুটি বৃহৎ সার কারখানা কাফকো ও সিইউএফএল। ব্যাপক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে কেইপিজেডকে ঘিরে। অপরদিকে কর্ণফুলী উপজেলাটি শিল্পাঞ্চলে পরিণত হয়েছে। গড়ে উঠেছে অনেকগুলো বিদ্যুৎ কেন্দ্রও। সবমিলে চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনটি এখন অত্যধিক গুরুতপূর্ণ আসনে পরিণত হয়েছে। ব্যাপক আর্থ সামাজিক উন্নয়নে ভরপুর এই সংসদীয় আসনটিতে দেশের অন্যান্য আসনের তুলনায় নির্বাচনী ঢামাডোল বেজে উঠেছে অনেক আগে। ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ ও সমমনা দলগুলোতে বেশ কয়েকজন মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রার্থী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। বর্তমান সংসদ সদস্য ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এমপিকে ঘিরে আবর্তিত হচ্ছে নির্বাচনী ঢামাডোল। গত ৫ বছরে তিনি সাধ্যমত তার নির্বাচনী দুই উপজেলা আনোয়ারা-কর্ণফুলীতে ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। সরকার প্রধানের ইচ্ছায় এই এলাকায় বড় বড় অনেকগুলো মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে। এই কারনে সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
আওয়ামীলীগের অন্যান্য প্রার্থীরাও বসে নেই। প্রচার-প্রচারণার পাশাপাশি নেতাকর্মীদের সাথে সার্বক্ষনিক যোগাযোগ রেখে চলছেন সবাই। এলাকার বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ওয়াসিকা আয়েশা খান বেশ তৎপর এই আসনে এবার নির্বাচনের জন্য। একইভাবে অন্যান্য প্রার্থীরাও এলাকামুখী হয়েছেন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। বর্তমান সংসদ সদস্য ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের পাশাপাশি দলের আরো তিনজন মনোনয়নের দৌড়ে মাঠে রয়েছেন। যার যার অবস্থান থেকে সকলেই দলের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। মনোনয়ন প্রত্যাশী অনেকের সাথে কথা হলে তারা জানান, নেতৃত্বের প্রতিযোগিতায় হয়তো কিছুটা মনের দূরত্ব থাকতে পারে তবে নৌকার জন্য দূরত্ব নেই। নৌকা প্রতীক যেই পান না কেন নির্বাচনে সবাই এক নৌকাতেই উঠবেন দলীয় প্রার্থীকে জয়ী করতে। সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ওয়াসিকা আয়েশা খান, দক্ষিণ জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নুরুল কাইয়ুম খান সিআইপি এবং দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহজাদা মহিউদ্দিনও মনোনয়ন চাইবেন বলে কথা বলে জানা গেছে।
ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ গত ৫ বছরে এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। একই ভাবে এলাকায় থেকে সাধ্যমত উন্নয়ন করার পাশাপাশি সরকারের উন্নয়ন অগ্রগতি জনগনের মাঝে তুলে ধরেছেন সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ওয়াসিকা আয়েশা খান। একই ভাবে দলের জন্য কাজ করছেন আওয়ামীলীগ নেতা নুরুল কাইয়ুম খান এবং দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহজাদা মহিউদ্দিনও।
আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতির ব্যাপারে ভূমি প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এমপি আজাদীকে বলেন , গত ৫ বছরে আনোয়ারা-কর্নফুলীতে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকারও বেশি উন্নয়ন হয়েছে। আমার পিতার মতো আমিও সারাটা বছর জুড়ে এলাকার মানুষের সাথে থাকি। দলের নেতাকর্মী ও নানান শ্রেনী পেশার মানুষ চায় আমি আবারো নির্বাচন করি। গত ৬/৭ বছর ধরেই এলাকার উন্নয়নে নিজেকে আত্মনিয়োগ করেছি। প্রস্তুতি তখন থেকেই নেয়া আছে। দলের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ আছেন।
তিনি বলেন, আনোয়ারা-কর্ণফুলীর উন্নয়নে আমার মরহুম পিতা আলহাজ্ব আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর অসমাপ্ত কাজ সমাপ্তির পাশাপাশি এলাকার মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে নিজেকে উৎসর্গ করেছি। আওয়ামীলীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে আবারো নৌকা প্রতীকে দলীয় মনোনয়ন দিলে আসনটি উপহার দিতে সক্ষম হব।
কর্নফুলী ট্যানেল, চায়না ইকোনমিক জোন, পারকি সৈকতের আধুনিকায়ন, উপকূলীয় বেড়িবাঁধ নির্মানের মত বড় বড় মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। আনোয়ারা কলেজ ও আনোয়ারা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়কে সরকারিকরণ, আনোয়ারা-কর্ণফুলীতে শতভাগ বিদ্যুতায়ন, বটতলী শাহ মোহছেন আউলিয়া ডিগ্রি কলেজকে ৫ কোটি ১৮ লক্ষ টাকা মূল্যের ৩.৫ একর ভূমি হস্তান্তর, ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণ, নতুন থানা ভবন নির্মাণ, দেশের প্রথম হাইড্রোলিক রাবার ড্যাম প্রকল্প শঙ্খ নদীতে বাস্তবায়ন, স্কুল, কলেজ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত, ব্রিজ, কালভার্ট, সড়ক যোগাযোগ উন্নয়নসহ এলাকার ব্যাপক উন্নয়নের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গঠিত আওয়ামীলীগ সরকারের যাবতীয় সুযোগ সুবিধা ও সুফল আনোয়ারা-কর্ণফুলীবাসী শতভাগ পেয়েছে। কাফকো, সিইউএফএলএ গ্যাস সরবরাহের মাধ্যমে ব্যাপক উন্নয়ন কাজ করা হয়েছে। কেইপিজেড এর মাধ্যমে এলাকার ব্যাপক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। এলাকার মানুষের আর্থ সামাজিক মান উন্নয়নে নানা প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।
কর্ণফুলী উপজেলা বাস্তবায়ন আরেকটি বড় সাফল্য দাবি করে সাইফুজ্জামান জাবেদ বলেন সুখে-দুঃখে আমি জনগণের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। কর্ণফুলী বাসীর জন্য অসম্ভবকে আমি সম্ভব করে দেখিয়েছি। আনোয়ারা কর্ণফুলীকে বিশ্বের মডেল উপশহর হিসেবে গড়ে তোলার সকল কার্যক্রম হাতে নিয়েছি। কর্ণফুলী ট্যানেল ও চায়না ইকনোমিক জোন বাস্তবায়ন শেষ হলে অচিরেই আনোয়ারা মডেল শহরে পরিণত হবে।
আনোয়ারা-কর্ণফুলীতে গত ৫ বছরে ভূমি প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের নেতৃত্বে বিগত যে কোন সময়ের তুলনায় বেশি উন্নয়ন হয়েছে বলে জানান দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক আবু তাহের। তিনি বলেন, আনোয়ারা এখন উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত হয়েছে। আনোয়ারার নেতাকর্মীরা ভূমি প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ। আমরা ছাত্রলীগের প্রতিটি নেতাকর্মী প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে তার নেতৃত্বে নির্বাচনের জন্য প্রস্তত আছি।
এদিকে আনোয়ারা-কর্ণফুলীর পাশাপাশি চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় সরকারি অনুদানসহ নানান ভাবে উন্নয়নে মানুষের পাশে রয়েছেন প্রয়াত প্রেসিডিয়াম সদস্য আতাউর রহমান কায়সারের মেয়ে বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ওয়াসিকা আয়েশা খান এমপি। বিশেষ করে নিজের এলাকার পাশাপাশি পুরো চট্টগ্রামে মহিলাদের সংগঠিত করে সরকারের উন্নয়ন-অগ্রগতির বার্তা পৌছে দেয়ার কাজ করছেন তিনি। সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য হলেও এবার এলাকার লোকমুখে শোনা যাচ্ছে তিনি সাধারন আসনে মনোনয়ন চাইবেন।
এই ব্যাপারে জানতে চাইলে ওয়াসিকা আয়েশা খান এমপি জানান, নির্বাচনে আওয়ামীলীগ সভাপতি-প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যাকে মনোনয়ন দেবেন তার পক্ষে কাজ করবো। রাজনীতি যারা করেন তারা মনোনয়ন চাওয়া স্বাভাবিক। সুতরাং অনেকেই মনোনয়ন চাইবেন। জনগন যদি মনে করেন আমি মনোনয়ন নিলে ভালো হয় তাহলে মনোনয়ন চাইবো। মনোনয়ন দেবেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী যাকেই মনোনয়ন দিবেন তার পক্ষে কাজ করার জন্য প্রস্তুত আছি।
আনোয়ারা উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল বশর বলেন, ওয়াসিকা আয়েশা খান এমপি হওয়ার পর থেকেই আনোয়ারা-কর্ণফুলীর প্রত্যন্ত অঞ্চলে তার সমস্ত বরাদ্দ প্রদান করেছেন। তার সব প্রকল্প শতভাগ বাস্তবায়িত হয়েছে। তিনি সরেজমিনে তা প্রত্যক্ষ করেছেন এবং মনিটরিং করেছেন। এজন্য এলাকায় তিনি বেশ সুমান অর্জন করেছেন। আগামী নির্বাচনে এলাকার জনগন চান তিনি যেন সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রাজিন দাশ রাহুল জানান, ওয়াসিকা আয়েশা খান আনোয়ারা-কর্ণফুলীর মতো চট্টগ্রামের অন্যান্য উপজেলায়ও বরাদ্দ দিয়েছেন। এলাকার প্রায় মসজিদ-মাদ্রাসা, স্কুলে, মন্দিরে-কবরস্থানে সোলার প্যানেল-গভীর নলকূপ-সড়ক যোগাযোগ থেকে শুরু করে নারীদের কর্মসংস্থানে আন্তরিকতার সাথে কাজ করেছেন।
গতবার মনোনয়ন প্রার্থী ছিলেন দক্ষিণ জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নুরুল কাইয়ুম খান সিআইপি। চিটাগং চেম্বারের সহসভাপতি, স্টক একচেঞ্জ ও সোনালি ব্যাংকের পরিচালক ছিলেন তিনি। এফবিসিসিআই নৌ পরিবহন সংক্রান্ত কমিটির কো-চেয়ারম্যান নুরুল কাইয়ুম খান স্থানীয়ভাবে জোরালো রাজনৈতিক কর্মকান্ডে অংশ না নিলেও মনোনয়ন পেলে বিজয়ী হওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী। তিনি বলেন, আগেও তিনবার মনোনয়ন চেয়েছিলাম। এবারও মনোনয়ন চাইবো। দলের জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছি। দলীয় মনোনয়ন পেলে আসনটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দিয়ে সেটা আবারও প্রমাণ করব। আর দলের প্রার্থী যেই হোক তার পক্ষে কাজ করব।
দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহজাদা মহিউদ্দিন স্থানীয় রাজনীতিতে যতটা তৎপর, তার চেয়ে বেশি সক্রিয় কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে। তবে দক্ষিণ জেলার প্রতিটি রাজনৈতিক কর্মকান্ডে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। মাঝে মধ্যে এলাকায়ও যান। এলাকার লোকজনের সঙ্গে দেখা সাক্ষাৎ করেন। সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নেন। আগামী নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংসদ সদস্য হিসাবে এলাকাবাসীর সেবা করার স্বপ্ন সবার থাকে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবকিছুর খোঁজখবর রাখেন। তিনি বলেন, মনোয়ন চাইব, শেষ পর্যন্ত দলীয় প্রধান যাকে মনোনয়ন দেবেন তার পক্ষেই মাঠে কাজ করবো।
আওয়ামীলীগের বাইরে জাতীয় পার্টি ও মহাজোট ঘনিষ্ঠ দলগুলোর ৩ প্রার্থী সক্রিয় রয়েছেন এই আসনে। জাতীয় পার্টির সঙ্গে জোটগত নির্বাচনে অংশ নিয়ে মনোনয়ন চাইবেন মোমবাতি প্রতীকে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী মাওলানা এম এ মতিন। ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় এই নেতা বলেন, নানা সমীকরণে তারা প্রচার চালাচ্ছেন। জাতীয় পার্টি মহাজোটে থেকে আওয়ামীলীগের সঙ্গে নির্বাচন করলে এক হিসাব, বিএনপি নির্বাচনে না আসলে আরেক হিসাব হবে। পীর-আউলিয়ার এলাকা হিসাবে আনোয়ারা-কর্ণফুলীতে ইসলামী ফ্রন্টের বড় ভোট ব্যাংক রয়েছে বলে তিনি জানান।
চেয়ার প্রতীকে ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ থেকে প্রার্থী মনোনয়নের জন্য কেন্দ্রে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সভাপতি স.ম হামেদ হোসাইন ও ঢাকা মহানগরের সাংগঠনিক সম্পাদক এড. অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম রেজভীর নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে আওয়ামীলীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটে যুগপৎ কর্মসূচিতে ব্যাপক সক্রিয় থাকা এই দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী এড. অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম রেজভীর বাড়ি কর্ণফুলী উপজেলায়। আনোয়ারা ও কর্ণফুলী দুই উপজেলার সমন্বয়ে গঠিত এই আসনে কর্নফুলী এলাকা থেকে তিনি একমাত্র প্রার্থী।
এদিকে আনোয়ারা কর্ণফুলীতে জাতীয় পার্টি দুই ধারায় বিভক্ত হলেও এককভাবে নির্বাচন করলে মনোনয়ন চাইবেন গতবারের প্রার্থী তপন চক্রবর্তী ও উপজেলা জাতীয় পাটির সভাপতি আবদুর রব চৌধুরী টিপু। তপন চক্রবর্তী দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। এবারও নির্বাচনে অংশ নিবেন বলে জানান।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনে এক সময় আনোয়ারা উপজেলাকে আওয়ামীলীগের ভোট ব্যাংক ও কর্ণফুলী উপজেলাকে বিএনপির ভোট ব্যাংক মনে করা হতো। কর্ণফুলী উপজেলা বাস্তবায়নের পর সেই চিত্র অনেকটাই পাল্টে গেছে। বর্তমানে কর্ণফুলী উপজেলার ৫ ইউপি চেযারম্যানের সবাই আওয়ামীলীগের টিকিটে নির্বাচিত।
১৯৭৩ সালে ৭ মার্চ প্রথম সংসদ নির্বাচনে এ আসনে জয়লাভ করেন আওয়ামী লীগের মোহাম্মদ ইদ্রিছ বিকম। ১৯৭৯ সালে ১৮ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হন বিএনপির শাহাদাত হোসেন চৌধুরী। ১৯৮৬ সালে ৭ মে তৃতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করেন আওয়ামী লীগের আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু। ১৯৮৮ সালে চতুর্থ সংসদ নির্বাচনে সাংসদ হন জাসদ প্রার্থী মোখতার আহমেদ। ১৯৯১ সালে ২৭ ফেব্রুয়ারি পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হন আওয়ামী লীগের আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হন বিএনপির সরওয়ার জামাল নিজাম। একই বছর ১২ জুন সপ্তম সংসদ নির্বাচনেও জয়লাভ করেন তিনি। ২০০১ সালে অষ্টম সংসদ নির্বাচনেও বিজয়ী হন বিএনপির সরওয়ার জামাল নিজাম।
২০০৮ সালে নবম সংসদ নির্বাচনে এখানে আওয়ামীলীগের বর্ষীয়ান নেতা আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু সর্বশেষ সাংসদ নির্বাচিত হন। ২০১২ সালে তাঁর মৃত্যুতে ২০১৩ সালের ১৭ জানুয়ারি উপ নির্বাচনে মনোনয়ন পান তারই জ্যেষ্ঠ পুত্র ও চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সভাপতি সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ। নির্বাচনে জাবেদ বিজয়ী হওয়ার পর উন্নয়ন কর্মকান্ডের মাধ্যমে আলোচনায় আসেন নতুন প্রজন্মের এই নেতা। এরপর ৫ জানুয়ারির বিএনপি বিহীন নির্বাচনে দ্বিতীয় বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন জাবেদ। পরে ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে মন্ত্রিসভায় স্থান পেলে আনোয়ারা-কর্ণফুলীবাসী প্রথমবারের মতো মন্ত্রীর স্বাদ পায়। মন্ত্রী হিসেবে জাবেদ দায়িত্ব নেওয়ার পর সরকারি আর্থিক সুবিধা, বেতন ভাতা গ্রহণ না করে আলোচনায় আসার পাশাপাশি এ তরুণ নেতা তার দাপ্তরিক কাজে গতি ও স্বচ্ছতার কারণে সারাদেশে ক্লিন ইমেজ তৈরিতেও সক্ষম হয়েছেন। তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকান্ডের মাধ্যমে বদলে যেতে থাকে পুরো আনোয়ারা-কর্ণফুলীর চিত্র।
তৃণমূল পর্যায়ে আওয়ামীলীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের বেশ কিছু নেতা কর্মী জানান, দলের সংগঠনিক কর্মকান্ড নিয়ে তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মীর মধ্যে হতাশা রয়েছে। দলের অনেক ত্যাগী নেতাকর্মী দলীয় কর্মকান্ড থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে রেখেছেন। নির্বাচনের আগে তাদেরকে উজ্জীবিত করা দরকার বলে মনে করেন তারা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, আনোয়ারার সব ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ডে সমান সুষমবন্টনের মাধ্যমে কাজ হয়নি। উপজেলার সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া এলাকা পরৈকোড়া ইউনিয়নের শিলালিয়া, তিশরী ও তাতুয়া গ্রাম। উপজেলার সর্বশেষ প্রান্তে যোগাযোগ সমস্যা ব্যাপক। নেই সুপেয় পানির ব্যবস্থাও।
কর্ণফুলী উপজেলা যুবলীগের সাধারন সম্পাদক সেলিম হক জানান, এই আসনে জাবেদ সাহেবের(ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ) বিকল্প নেই। তার মতো সৎ ও ত্যাগী নেতা খুব কমই আছে। আনোয়ারা-কর্ণফুলীতে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ চলছে। প্রধানমন্ত্রী তার কর্মকান্ডে খুবই সন্তুষ্ট। আমরা নেতাকর্মীরাও তার উন্নয়ন কর্মকান্ডে বেশ খুশি। আবারো তাকে নির্বাচিত করতে হবে।

x