‘মনে রেখ’য় মন ছুঁয়ে যাওয়া সম্ভার

আজাদী প্রতিবেদন

বুধবার , ২২ মে, ২০১৯ at ৪:১৬ পূর্বাহ্ণ
258

থিমভিত্তিক সাজের চল এখন। তাই ঈদের পোশাক পরিকল্পনার আগে নির্দিষ্ট থিম ঠিক করে নেন নারীরা, কখন কোন পোশাক পরবেন। ঈদের দিন সকাল কিংবা সন্ধ্যা, ঈদের পরদিন, তার পরেরদিন- এভাবে একেক দিন একেক থিমে সাজেন নারীরা। তার সঙ্গে মিলিয়ে নেন শাড়ি, গয়না ও অন্যান্য অনুষঙ্গ। রং, সাজ আর পোশাকে থাকে সামঞ্জস্য। তাই এসব বিষয় মাথায় রেখেই এবারের ঈদে মন ছুঁয়ে যাওয়া সব সম্ভার নিয়ে এসেছে ‘মনে রেখ’।
ঈদের বাকিতে আর বেশি দিন নেই। ইতোমধ্যে ঈদের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে ক্রেতা-বিক্রেতা সবার মাঝে। ব্যস্ততাও তাই আগের চেয়ে বেড়েছে। ‘মনে রেখ’র কর্ণধার ওসমান গণি বলেন, আমাদের ৮০ শতাংশ ক্রেতাই ফিক্সড, যারা সবসময় শুধু মনে রেখ থেকেই কেনাকাটা করেন। অন্য কোথাও যান না। দীর্ঘদিন ধরে আসা-যাওয়ায় সেলসম্যানদের সাথেও তাদের একধরনের সখ্যতা সৃষ্টি হয়েছে। তাই তাঁরা এলে নির্দিষ্ট সেলসম্যান তাঁর সামনে গিয়ে পছন্দের পোশাকটি মেলে ধরেন। তারাও জেনে গেছেন, কোন ক্রেতা কী ধরনের পোশাক কিনতে আগ্রহী। এটা মনে রেখ’র জন্য একটা বিশাল প্রাপ্তি। আর বাকি ২০ শতাংশ ক্রেতা আসেন কৌতূহল বশত:, কিংবা চেনা জানা অন্যদের মুখে নাম শোনে। দেখা যায়, তারা আজ এলেন, দুদিন পর নিয়ে এলেন আরো দু’জনকে। মনে রেখ দীর্ঘ ১২ বছর ধরে এভাবেই সততা আর বিশ্বস্ততার সাথে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে।
‘মনে রেখ’র কর্ণধার বলেন, ‘মনে রেখ’র স্লোগান ‘ঐ রূপ লুকোবে কোথায়’? আসলে মনে রেখতে এলে পণ্যের গুণগত মান আর রঙ ও বৈচিত্রের ভিন্নতায় নারী মাত্রই নিজের রূপ লুকোতে পারে না।
তিনি বলেন, নারী মানেই শাড়ি। বাঙালি নারী কল্পনা করলেই আমাদের চোখে ভেসে উঠে শাড়ি পরিহিতা ললনার চিত্র। শাড়ির ধরনে, বর্ণে আছে রকমফের। এখানে আছে ক্রেতার পছন্দের জামদানি, ঢাকাই বেনারসি, রাজশাহী সিল্করেশমি শাড়ি, তসর সিল্ক, টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ি, কাতান শাড়ি, আরোও কত কী। শিফন, টিস্যু কাতান, জর্জেট এগুলো তো আছেই। বড় উৎসব বা আয়োজনে নিজেকে জামাদানিতে সাজাতে ভালোবাসেন বেশিরভাগ নারী। পূর্বে জামদানির দাম বেশি হওয়ায় অনেকের সাধ্যের বাইরে থাকলেও এখন সুতি জামদানি পাওয়া যায় সুলভ মূল্যে।
ওসমান গণি বলেন, বিয়ে বলতেই এক সময় চোখের সামনে ভেসে উঠত সুন্দর কাজ করা একটি বেনারসি শাড়ি। এখনও সেই চাহিদা রয়েছে, যদিও লাল এর পরিবর্তে এখন গোলাপি, নীল, বেগুনি রঙ চলছে। পাশাপাশি আছে কাতান শাড়ির চাহিদাও।
তিনি বলেন, তারুণ্য রঙের বয়স, উচ্ছলতায় নিজেকে ভরপুর রাখার বয়স। তরুণীরা তাই ভারি কাজের শাড়ি যেমন পছন্দ করে, ঠিক তেমনি শিফন বা জর্জেটের এক রঙা শাড়িও পছন্দ করে। পাশাপাশি লেহেঙ্গা বেশ জনপ্রিয়। পাশ্চাত্যের অনুসরণে গাউনও যোগ হচ্ছে। পিছিয়ে নেই উপমহাদেশের জনপ্রিয় পোশাক সালোয়ার-কামিজ। বৈচিত্র্য আনতে কখনো কামিজের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হচ্ছে লেহেঙ্গা। লেহেঙ্গা কামিজ বলে পরিচিত এই পোশাকটি এখন হালের ট্রেন্ড। লং কামিজের সঙ্গে লেহেঙ্গার নিচের ঘের দেওয়া ঘাগড়া জুড়ে দিয়ে বানানো হয় এই নতুন পোশাক। শাড়ির পাশাপাশি তাই মনে রেখ’তে চলছে লেহেঙ্গাও।
ওসমান গণি বলেন, মনে রেখ’র একযুগ পূর্তি উপলক্ষে মাসব্যাপী বিক্রয় উৎসব চলছে। এখানে ৫ হাজার টাকার পণ্য কিনলেই দেওয়া হচ্ছে একটি স্ক্র্যাচ কার্ড। কার্ডটি ঘষলে সাথে সাথেই পুরস্কার পাওয়ার সুযোগ থাকছে। ক্রেতাদের ঈদ আনন্দ আরো কিছুটা বাড়িয়ে দিতে তাৎক্ষণিক এ পুরস্কারের ব্যবস্থা বলে জানালেন ওসমান গণি। তিনি বলেন, ধরুন, একটি পরিবারের ছোট বড় মিলে ৫ জন এলেন কেনাকাটা করতে। পেলেন ৫টি স্ক্র্যাচ কার্ড। একেকজন একেকটি কার্ড নিয়ে ঘষে কাঙ্ক্ষিত পুরস্কার পেয়ে মেতে উঠেন উল্লাসে। আমার তখন মনে হয়, ১২ বছর আগে এমন একটি প্রতিষ্ঠান গড়ার স্বপ্নইতো দেখেছিলাম। আজ তার সার্থক বাস্তবায়ন হলো দেখে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করি। এখানে প্রথম ও দ্বিতীয় পুরস্কার থাকছে একটি করে মোটর সাইকেল, তৃতীয় থেকে দশম পুরস্কার ৮টি ডিপ ফ্রিজ, ১১ থেকে ২৬ তম পুরস্কার ১৬টি ওভেন, ২৭ থেকে ৪২ তম পুরস্কার ১৫টি টেবিল ফ্যান, ৪২ থেকে ৭১ তম পুরস্কার ৩০টি রাইস কুকার এবং সান্ত্বনা পুরস্কার হিসেবে থাকছে মগ। তবে ওসমান গণি বলেন, পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে আরো বেশি। কারণ আমি মনে করি, এটা পুরস্কার নয়; ১২ বছর ধরে ‘মনে রেখ’কে মনে রাখার জন্য ক্রেতা সাধারণকে উপহার হিসেবে দেওয়া হচ্ছে এসব সামগ্রী।

x