মধ্যপ্রাচ্যে দেশীয় পণ্য বিপণনের অন্যতম বাজার আরব আমিরাত  

এম এ মন্নান (আরব আমিরাত) থেকে

শনিবার , ৯ মার্চ, ২০১৯ at ৯:২৫ অপরাহ্ণ
161
দেশে আমরা স্বদেশী পণ্য সামগ্রীর ব্যাপারে কিছুটা হলেও কমবেশী উদাসীন থাকি।
কিন্ত প্রবাসে স্বদেশ প্রেম ও দেশীয় পণ্য সামগ্রীর প্রতি প্রতিটি প্রবাসীর অধীর আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়।
আর দেশীয় পণ্য সামগ্রীর প্রতি প্রবাসীদের ব্যাপক চাহিদার কারণেই মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশী পণ্য সামগ্রীর একটি উজ্জ্বল  সম্ভাবনাময় বাজার হচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।
পণ্যের গুণগতমান নিয়ন্ত্রণ ও বিদ্যমান সমস্যা দূর করা সহ প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে সংযুক্ত আরব আমিরাত হতে পারে বাংলাদেশী পণ্য আমদানীকারক দেশগুলোর মধ্যে একটি অন্যতম দেশ।
বর্তমানে সংযু্ক্ত আরব আামিরাতে বসবাসকারী প্রায় ৮ লাখের বেশি বাংলাদেশী সর্বদা ব্যাকুল থাকেন স্বদেশের পণ্য সামগ্রী কেনা এবং ব্যবহারের জন্য।
প্রবাসীদের এ চাহিদা পূরণে যে দু’চারটি বাংলাদেশী প্রতিষ্ঠান সংযুক্ত আরব আমিরাতে মালামাল আমদানি করছে তারা মূলত  প্রবাসী বংলাদেশীদের চাহিদার একটা ক্ষুদ্র অংশই পুরণ করতে পারছে।
হাতে গোনা যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশী পণ্য আমদানী করছে তারা তাদের নিজস্ব ইচ্ছেমতো নির্দিষ্ট এলাকার দোকান ও সুপার মার্কেটে পণ্যগুলো সরবরাহ করে থাকে এবং পণ্যের দাম নির্ধারণ করে।
ফলে অনেক ক্ষেত্রে ইচ্ছে থাকা সত্বেও প্রবাসীদের ক্রয়সীমার বাইরে চলে যায় নিজ দেশের পণ্য।
তখন বাধ্য হয়েই প্রবাসীরা কিনে ভিনদেশ তথা ভারত, চীন ও পাকিস্তানের পণ্য।
আর বাংলাদেশ হারাচ্ছে বিপুল অংকের বৈদেশিক মুদ্রা।
বাংলাদেশী পণ্য সামগ্রীর মধ্যে ব্যবহার্য্য পণ্য যেমন জামা–কাপড়, শাড়ি, জুতা, সেন্ডেল, পাটের ব্যাগ, খাদ্যদ্রব্য যেমন শাকসবজি, ফলমূল, মুড়ি, বিস্কুট, মরিচ-মশল্লা, তেল, চা পাতা, হিমায়িত মাছ-মাংস ও শুটকি, ঘর সাজানোর মাটি-কাঁচ ও সিরামিকের তৈরি বিভিন্ন জিনিসপত্র, ইলেকট্রিক ও পাইপফিটিংসের জিনিসপত্র উল্লেখযোগ্য।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে পণ্য  আমদানি-রপ্তানি ব্যবসার এ ক্ষেত্রটি সম্পর্কে যথেষ্ট ওয়াকিবহাল নন বাংলাদেশী ব্যবসায়ীরাও। তেমনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীরাও সম্যক অবগত নন বাংলাদেশী পণ্য সম্পর্কে।
ফলে চাহিদা অনুযায়ী যোগান অপ্রতুল এবং সে কারণেই সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশী পণ্যমূল্যেরও তেমন কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই।
উল্লেখ্য, দুবাই আমিরাতের বাণিজ্যিক রাজধানী ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র হলেও দুবাইস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেটের ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারের লক্ষ্যে তেমন কোনো জোরালো ভূমিকা লক্ষ্য করা যায় না।
এমন কি আবুধাবিতে অবস্থিত দূতাবাসেরও এ ব্যাপারে তেমন কোনো উদ্যোগ চোখে লাগার মতো নয়। নাই সরকারিভাবে বাংলাদেশী পণ্য সামগ্রী সংযুক্ত আরব আমিরাতে রপ্তানী করার কোনো সুনিদিষ্ট নীতিমালা।
যে সমস্ত বাংলাদেশী পণ্য সামগ্রী এখানে আসছে বা প্রবাসীরা পাচ্ছে তা ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত উদ্যোগে বা বেসরকারি উদ্যোগে। বাংলাদেশী পণ্য সামগ্রী রপ্তানিতে সরকারি এবং বেসরকারি পর্যায়ে যৌথ মেলা, সেমিনার, বাণিজ্যিক দলের সফরের মতো কার্যক্রম বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে বলে অভিজ্ঞ মহলের অভিমত।
সংযুক্ত আারব আমিরাতে বাঙালি/বাংলাদেশী অধ্যুষিত মার্কেটগুলোতে কতগুলো বাংলাদেশী পণ্য অন্যান্য দেশের পণ্যের চেয়ে সস্তা ও উত্তম।
আবার বাংলাদেশ থেকে আমদানিকৃত কতগুলো পণ্যের সাথে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ও পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে আমদানীকৃত পণ্যমূল্যের মধ্যে রয়েছে অনেক পার্থক্য।
আবার একই পণ্যের দামে বাংলাদেশের বাজারের সাথে আরব আমিরাতের বাজারে রয়েছে ব্যাপক পার্থক্য।
বাংলাদেশী এ সব মার্কেটগুলোতে বাংলাদেশী পণ্যের বিপুল সমাহার লক্ষ্যণীয়।
শাকসবজি, আম ,কাঠাল, হিমায়িত মাছ, চাল, তেল, মুড়ি, গুড়, চানাচুর, সেমাই, বিস্কুট, সাবান, জুস, জামা-কাপড়, টুপি-লুঙ্গি, মরিচ-মশল্লা কি নেই এসব মার্কেটে।
কিন্তু ক্রেতাদের অভিযোগ রয়েছে দাম ও মানের ব্যাপারে।
প্রতিদিন মার্কেটগুলোতে প্রচুর সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশী ক্রেতাদের ভিড় থাকলেও ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী এ সব পণ্য সামগ্রী তাদের হাতে সুলভে তুলে দেয়া কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায় বলে জানান অনেক প্রবাসী ব্যবসায়ী।
কারণ হিসেবে জানা যায়, বাংলাদেশ থেকে আসা পণ্যগুলোর উচ্চমূল্য। আবার আমিরাতের প্রতিটি এলাকায় নামকরা সব দোকান, সুপার মার্কেট ও হাইপার মার্কেটগুলোতে বাংলাদেশী পণ্য সামগ্রী পাওয়া যায় না।
ফলে অনেক প্রবাসীর নিতান্তই ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও তারা নিজ দেশের পণ্যগুলো কিনতে পারছে না।
তবে আশার কথা যে ইদানিং বাংলাদেশী কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশী পণ্য সামগ্রী আরব আমিরাতের প্রতিটি এলাকায়  কিছুটা হলেও সরবরাহ করছে বা সরবরাহ করার উদ্যোগ নিয়েছে।
তাদের মধ্যে প্রাণ গ্রুপ ও ওয়েল ফুড গ্রুপ উল্লেখযোগ্য যা অনেক প্রবাসীর আকাঙ্খার সামান্যতম অংশ হলেও পূরণ করতে সক্ষম হচ্ছে।
যদি সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ করে এবং সরকারি–বেসরকারি উদ্যোগে দেশীয় পণ্য সামগ্রী আমিরাতে রপ্তানির ব্যবস্থা করা হয় তাহলে আরব আমিরাত মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশী পণ্যের অন্যতম বাজারে পরিণত হবে।
- Advertistment -