(ভ্রমণ মানুষকে প্রশান্তি দেয়)

আশীষ কুমার বড়ুয়া

শনিবার , ২৪ আগস্ট, ২০১৯ at ১০:৫৪ পূর্বাহ্ণ
42

ভ্রমণকে অনেকেই ঘুরোঘুরি বলে। যারা প্রায়ই দিক বিদিক ঘুরে বেড়ায় তাদেরকে বলে পর্যটক।অনেকের কাছে ঘুরোঘুরিটা নেশা। অনেকের কাছে সখ। কেউ টাকা জমিয়ে গাড়ি, বাড়ি, দামি দামি আসবাবপত্র, ঘড়ি, মোবাইল কেনে।আবার অনেকেই টাকা জমিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে পড়ে দেশ-বিদেশ ভ্রমণ করতে।আমাদের দেশে ৭০-৯০’র দশকে মানুষকে খুব একটা ঘুরতে দেখা যেতো না। দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার ক্রমোন্নতিতে মানুষ এখন প্রচুর দেশ-বিদেশ ঘুরছে। বিশেষ করে বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে ভ্রমনের নেশাটা চোখে পড়ার মতো। এরাই সার্চ করে করে নতুন নতুন দর্শনীয় স্পট বের করে মানুষের সামনে তুলে ধরছে। সাথে ইলেক্ট্রনিঙ মিডিয়া, প্রিন্ট মিডিয়া, ফেইসবুক, তথ্য-প্রযুক্তির কল্যাণে মানুষ সহজে জানতে পারছে দর্শনীয় স্থানগুলোর স্থিরও ভিডিও চিত্র।এতে মানুষের ঘুরার আগ্রহ দিনদিন বেড়ে যাচ্ছে। আমাদের ছাত্রবেলায় বান্দরবানের রেমাক্রী-নাফাকুম,বগা লেক, আমিয়াখুম জলপ্রপাত, ঋজুং জলপ্রপাত, কেওক্রেডাং, খাগড়াছড়ির সাজেক রাঙামাটির শুভলং সিলেটের রাহাত্তারকুল, বিছানাকান্দি, পান্তুমাই ঝর্না, লালাখাল, হাকালুকি হাওড়, টাঙুয়ার হাওড়, কাছে সীতাকুণ্ডের খেওয়াছড়া ঝর্না, নাপিত্তাছড়া ঝর্নাসহ এইসব দর্শনীয় জায়গার নামও শুনিনি। বর্তমানে নতুন প্রজন্মের মাধ্যমে আমাদের জানার সুযোগ হচ্ছে। ভ্রমণের গুরত্বকে স্বীকার করে জাতিসংঘ ২৭শে সেপ্টেম্বরকে পর্যটন দিবস ঘোষণা করেছে। ১৯৮০ সাল থেকে বাংলাদেশ এই দিবস জাতীয়ভাবে পালন করলেও এই শিল্পের বিকাশে সরকারের সাফল্য খুবিই ক্ষীণ। বলা যায়, যা কিছু দৃশ্যত উন্নয়ন হয়েছে প্রাইভেটশনের মাধ্যমে। ভ্রমণ করলে স্বচক্ষে নানাকিছু দেখা যায়, স্থানীয় মানুষজন থেকে এদের জীবনযাত্রা -সংস্কৃতি সম্পর্কে জানা যায়। বই পড়লে জ্ঞানের ভান্ডার বাড়ে, ভ্রমণ করলে জ্ঞান -স্মৃতির জগত দুটিই বেড়ে যায়। সাথে বাড়ে মনের প্রশান্তি। সাংবাদিক ও লেখক মার্ক টোয়েন বলেছেন – আজ থেকে বিশ বছর পর আপনি এই ভেবে হতাশ হবেন যে, আপনার পক্ষে যা যা করা সম্ভব ছিল তা করতে পারেননি। তাই নিরাপদ আবাস ছেড়ে বেরিয়ে পড়ুন। নতুন কিছু আবিষ্কারের জন্য যাত্রা করুন, স্বপ্ন দেখুন আর শেষমেশ আবিষ্কার করুন।

x