ভোট করা হচ্ছে না খালেদা জিয়ার

আপিলেও বাতিল মনোনয়ন

আজাদী ডেস্ক

রবিবার , ৯ ডিসেম্বর, ২০১৮ at ৩:৫০ পূর্বাহ্ণ
947

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র বাতিলে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তিনটি আসনেই তাঁর প্রার্থিতা অবৈধ ঘোষণা করেছে তারা। গতকাল শনিবার আপিল আবেদনের তৃতীয় দিনের শুনানিতে সংখ্যাগরিষ্ঠ কমিশনারদের ভোটের ভিত্তিতে খালেদা জিয়ার আপিল নামঞ্জুর করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা। নির্বাচন কমিশনারদের মধ্যে শুধু মাহবুব তালুকদার খালেদা জিয়ার মনোনয়ন বাতিলের বিপক্ষে রায় দেন। কিন্তু অন্য তিন কমিশনার রফিকুল ইসলাম, শাহাদাত হোসেন ও কবিতা খানম মনোনয়ন বাতিলের পক্ষে রায় দেন। সিইসি সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। এর আগে সকালে আপিল শুনানি শুরু হলে খালেদা জিয়ার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন তাঁর আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী। তিনি প্রায় ২০ মিনিট সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে যুক্তি তুলে ধরেন। কিন্তু তখন শুনানি স্থগিত রাখা হয় বিকেল পর্যন্ত। পরে বিকেল ৬টায় এই ফলাফল জানানো হয়। ফলে একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকল না কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসনের। অবশ্য ইসির এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে যাওয়ার পথ খোলা রয়েছে খালেদা জিয়ার। কিন্তু দুই বছরের বেশি সাজায় দণ্ডিতদের নির্বাচন করার পথ যে বন্ধ, তা ইতোমধ্যে আদালতেরই
আদেশে এসেছে। তিন যুগ আগে খালেদা জিয়া দলের চেয়ারপারসনের দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রথম তাকে ছাড়াই জাতীয় নির্বাচন করতে হচ্ছে বিএনপিকে। এই অবস্থাকে ‘দুর্দিন’ হিসেবে দেখছেন দলটির নেতারা।
বিডিনিউজ বাংলানিউজসহ বিভিন্ন সংবাদ সংস্থার খবরে জানা যায়, গতকাল শুনানি চলার মধ্যেই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দল ইসিতে গিয়ে জানিয়ে আসে, কোনো চাপের মুখে যেন সাংবিধানিক সংস্থাটি নতি স্বীকার না করে। এরপর সন্ধ্যায় ইসি সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেয় যে খালেদা জিয়ার তিনটি আবেদনের বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তই বহাল।
ইসি সিদ্ধান্ত জানানোর সঙ্গে সঙ্গে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান বিএনপির আইনজীবীরা। বিএনপির যুগ্মমহাসচিব মাহবুবউদ্দিন খোকন তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিকদের বলেন, বেগম জিয়ার মনোনয়নপত্র নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হয়েছে। মাহবুব তালুকদারের সিদ্ধান্ত ‘ফেয়ার’ ছিল বলে দাবি করেন সুপ্রিম কোর্টের এই আইনজীবী।
উল্লেখ্য জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজার রায়ের পর গত ফেব্রুয়ারি থেকে কারাগারে রয়েছেন ৭২ বছর বয়সী খালেদা জিয়া। এর মধ্যে জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট মামলায়ও তার সাজার রায় হয়। তখন থেকে বিএনপির আইনজীবীরা বলে আসছিলেন, বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন খালেদা। কিন্তু সমপ্রতি বিএনপির কয়েকজন নেতার ক্ষেত্রে উচ্চ আদালতের এই আদেশে দণ্ডিতদের নির্বাচন অংশ নেওয়া আটকে যায়।
হাই কোর্টের আদেশে বলা হয়, সংবিধানের ৬৬ (২) (ঘ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কারও দুই বছরের বেশি সাজা বা দণ্ড হলে সেই দণ্ড বা সাজার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না, যতক্ষণ না আপিলে ওই দণ্ড বাতিল বা স্থগিত হয়। তার মধ্যে হাই কোর্টের আরেকটি বেঞ্চ ভিন্ন আদেশ দিলেও আপিল বিভাগে গিয়ে তা আটকে গেলে দণ্ডিতদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পথ আর খোলেনি।
এর মধ্যে ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় নির্বাচনের জন্য খালেদা জিয়ার পক্ষে ফেনী-১ এবং বগুড়া-৬ ও ৭ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেন বিএনপি নেতারা। কিন্তু গত ২ ডিসেম্বর বাছাইয়ের সময় দণ্ডের কারণ দেখিয়ে তা বাতিল করে দেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। দশম সংসদ নির্বাচন বর্জনের আগে ২০০৮ সালের নির্বাচনে এই তিনটি আসন থেকেই নির্বাচিত হয়েছিলেন খালেদা। তার আগে ১৯৯১ সাল থেকে পরের তিনটি নির্বাচনে পাঁচটি আসনে ভোট করে সবগুলোতে জয়ী হয়ে আসছিলেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।

x