ভেলায় করে কবরস্থানে

রামু প্রতিনিধি

মঙ্গলবার , ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ at ৪:২০ পূর্বাহ্ণ
124

সড়ক নেই। কলাগাছের ভেলায় করে কবরস্থানে নিয়ে যেতে হলো মরদেহ। সেতুর অভাবে কক্সবাজারের রামু উপজেলার মনিরঝিলের সোনাইছড়ি গ্রামে ঘটল এ ঘটনা। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে ওই এলাকার বাসিন্দা জনৈক মনির আহম্মদের মৃত্যু হয়। সেতু না থাকায় তার মরদেহ মনিরঝিল বড় কবরস্থানে নিয়ে যেতে দুর্ভোগে পড়েন স্বজন ও গ্রামবাসী। পরে বাধ্য হয়ে গ্রামবাসী কলাগাছের ভেলা বানিয়ে মরদেহটি ভেলায় করে কবরস্থানে নিয়ে যান। গতকাল সোমবার এ ছবিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আব্দুল মালেক জানান, গত ২৫ জানুয়ারি বার্ধক্যজনিত কারণে রামুর কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মনিরঝিল সোনাইছড়ি গ্রামের বাসিন্দা মনির আহম্মদ মারা যান (৮৫) যান। কিন্তু তাদের কবরস্থানটি অবস্থিত দুই কিলোমিটার দূরে মনিরঝিল গ্রামে। সমপ্রতি চাষাবাদের জন্য সোনাইছড়ি খালে রাবার ড্যামের মাধ্যমে পানি আটকানোর কারণে আশপাশের নিচু এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে রাস্তাটির উপর জলাবদ্ধতা হয়। এতে করে মরদেহ নিয়ে বিপাকে পড়েন গ্রামবাসী। পরে বাধ্য হয়ে ভেলায় করে মরদেহটি পার করিয়ে করবস্থানে নিতে হয়।
স্থানীয়রা জানান, মাঝখানে বাঁকখালী নদীর অবস্থানের কারণে মনিরঝিল গ্রামটি উপজেলা এবং ইউনিয়ন সদর থেকে বিচ্ছিন্ন। এছাড়া বিচ্ছিন্ন এ গ্রামটির অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা অনুন্নত। যে কারণে দীর্ঘদিন ধরে মনিরঝিল-সোনাইছড়ি সড়কের ওই স্থানে এলাকাবাসী একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছিল। এ দাবির প্রেক্ষিতে একটি সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করা হলেও বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। স্থানীয় কাউয়ারখোপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাক আহম্মদ জানান, যেখানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে ওই স্থানটি মূলত একটি ছরা। এই স্থানে শুধু একটি মাত্র বাড়ি আছে। তাই ওখানে ব্রিজ বা কালভার্ট নির্মাণের কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই। মূলত চাষাবাদের জন্য পাশের সোনাইছড়ি খালের উপর স্থাপিত রাবার ড্যামে পানি আটকানোর কারণে সাময়িক অসুবিধা হয়েছে। সপ্তাহ দেড়েকের মধ্যে পানি কমে গেলে এ সমস্যা আর থাকবে না। তাছাড়া ওই স্থানের ১৫০-২০০ দূরে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের অর্থায়নে প্রায় ৩৪ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে। বর্তমানে ৮০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে।
তিনি বলেন, বারার ড্যামের পানি বেড়ে যাওয়ায় নির্মাণাধীন সেতুটি এখন পানির নিচে। এর ফলে দুই সপ্তাহ ধরে কাজ বন্ধ রয়েছে। পানি কমে গেলে কাজ আবার শুরু হবে। এটির নির্মাণ কাজ শেষ হলে যাতায়াতে আর দুর্ভোগ থাকবে না।

x