ভেনেজুয়েলার সামরিক বাহিনী ঘিরে নতুন ছক যুক্তরাষ্ট্রের!

সরাসরি যোগাযোগ, পক্ষত্যাগের আহ্বান, স্বঘোষিত প্রেসিডেন্টের দাবি অবৈধ : সুপ্রিম কোর্ট

রবিবার , ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ at ৭:২১ পূর্বাহ্ণ
194

প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আরও চাপে ফেলতে ভেনেজুয়েলা সামরিক বাহিনীকে হাতে আনতে চেষ্টা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ইতোমধ্যেই মাদুরোর পক্ষ ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে লাতিন আমেরিকান এ দেশটির সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ শুরু করে দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। গত বছর প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকে বা মাদুরোবিরোধী আন্দোলনের শুরু থেকেই দেশটির সামরিক শক্তি বামপন্থি এ নেতার পথেই চলছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত ভেনেজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেতা হুয়ান গুইদো’র নিজেকে দেশের প্রেসিডেন্ট ঘোষণার সিদ্ধান্ত অবৈধ বলে রায় দিয়েছে আদালত। শুক্রবার ভেনেজুয়েলার সুপ্রিম কোর্ট এ রায় দেন। এতে বলা হয়, গুইদো’র প্রেসিডেন্সি দাবি অবৈধ ও অকার্যকর।
হোয়াইট হাউসের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলছেন, মাদুরোর ওপর চাপ সৃষ্টি করতে দেশের সামরিক বাহিনীকে এবার দূরে সরানোর চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে করে মাদুরোবিরোধী আন্দোলন আরও বেগ পাবে। তবে এখনও মাত্র কয়েকজন সামরিক সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে দেশটি। এর প্রতিক্রিয়া কি এসেছে, তা-ও নিশ্চিত নয়। সরকার ও বিরোধীদের মুখোমুখি অবস্থানের মধ্যে ভেনেজুয়েলার সেনাবাহিনীর প্রায় ২ হাজার জেনারেলের মধ্যে এখন পর্যন্ত মাত্র একজন জেনারেল গুইদোশিবিরে নাম লিখিয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হোয়াইট হাউসের এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন, ‘আমাদের বিশ্বাস বড় বড় পাথরই পাহাড় থেকে গড়িয়ে পড়বে, এ জন্যই কিছু নুড়ি সরেছে। আমরা এখনো সাবেক হয়ে যাওয়া মাদুরো শাসনব্যবস্থার সদস্য, সেনা সদস্যদের সঙ্গে কথা বলছি। যদিও এই কথোপকথন হয়েছে একেবারেই সীমিত পর্যায়ে।’
জানুয়ারির শেষ সপ্তাহ থেকে লাতিন আমেরিকার তেলসমৃদ্ধ দেশটিতে শুরু হওয়ার রাজনৈতিক দোলাচলে সেনাবাহিনীকে প্রেসিডেন্টের সঙ্গ ত্যাগে বারবারই আহ্বান জানিয়ে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র। মাদুরোর সঙ্গ ছাড়লে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে বলে লোভও দেখিয়েছে তারা। অবশ্য এত কিছুর পরও বড় ধরনের সফলতা আদায় করতে পারেনি ট্রাম্প প্রশাসন; মাদুরোর সঙ্গে সেনাবাহিনীর গাঁটছড়া এখনো ‘অটুটই’ দেখা যাচ্ছে, বলছেন পর্যবেক্ষকরা।
যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি লাতিন আমেরিকা এবং ইউরোপের অনেক দেশও গুইদোকে স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে ওয়াশিংটন চাইলেও শীর্ষ ইউরোপীয় দেশগুলো এখনো কারাকাসের তেল বা গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক খাতগুলোর ওপর কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেনি। যুক্তরাষ্ট্র এখন মাদুরোকে ক্ষমতায় রাখতে ভূমিকা রাখা কিউবান সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞার কথা ভাবছে বলে রয়টার্সকে ট্রাম্প প্রশাসনের অন্য এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন। এদিকে বিরোধীদলীয় নেতা গুইদো যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতায় ভেনেজুয়েলায় ‘অভ্যুত্থান ঘটানোর’ চেষ্টা করছেন জানিয়ে মাদুরো, যুক্তরাষ্ট্র ও এর মিত্রদের যুদ্ধ বাধানোর ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়েছেন। জানুয়ারির শেষ সপ্তাহ থেকে ভেনেজুয়েলার এ প্রেসিডেন্টকে নিয়মিতই সেনাবাহিনীর বিভিন্ন ঘাঁটি সফর করতেও দেখা যাচ্ছে। চলতি সপ্তাহেই দেশটিতে বড় ধরনের সামরিক মহড়া হওয়ারও কথা রয়েছে। বেশিরভাগ পশ্চিমা দেশ বিপক্ষে থাকলেও রাশিয়া, চীন, কিউবা, তুরস্ক, ইরান, সিরিয়া, নিকারাগুয়া ও বলিভিয়া মাদুরোর প্রতি তাদের সমর্থনের কথা প্রকাশ্যে জানিয়েছে। ফ্রান্স, স্পেন, অস্ট্রিয়ার মতো ইউরোপীয় দেশগুলো গুইদোকে স্বীকৃতি দিলেও ইতালি এবং স্লোভাকিয়া ওই পথে হাঁটতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
এদিকে বিচারক জুয়ান মেনডোজা এক বিবৃতিতে বলেন, গুইদো’র অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশের সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। দেশের প্রেসিডেন্টের ক্ষমতায় তিনি অন্যায়ভাবে হস্তক্ষেপ করছেন। ইতোমধ্যেই গুইদো’র দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ভেনেজুয়েলার আদালত। তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টও জব্দ করা হয়েছে। খবর বিভিন্ন সংবাদ সংস্থার।

x