ভুল নিয়ে চুপ করে থাকার দিন আর নেই

ফেরদৌস আরা আলীম

শনিবার , ২৬ জানুয়ারি, ২০১৯ at ৬:৫৮ পূর্বাহ্ণ
305

এবং এ হামলাকারী আর কেউ নন, দুর্গার নিজের শাশুড়ি। কনক দুর্গা মন্দিরে প্রবেশের পর বলেছিলেন শুধু ভক্তি নয়, লৈঙ্গিক সমতার প্রশ্নটিও জড়িত এর সঙ্গে। কিন্তু তাঁর শাশুড়ি লৈঙ্গিক সমতা বোঝেন না। নিষিদ্ধ জায়গায় যাওয়ার মধ্যে তিনি অবাধ্যতা এবং এক্ষেত্রে অভক্তিও দেখেন নিশ্চয়ই। দুর্গাদের লড়াই তাই ১০ হাতেরই বটে।

দূর, বহুদূর, সুদূর শৈশবে, স্কুলের প্রাত্যহিক সারিবদ্ধ প্রভাতী সমাবেশে ‘উড়াও, উড়াও, উড়াও আজি কওমী নিশান’ গাওয়া শৈশবে (এর পর পর গাইতে হতো ধনধান্য পুষ্প ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা; ‘পাক সার জমিন শাদবাদ’ তখনও দিল্লী হনুজ দূর অস্ত) বিশেষ করে বর্ষার বর্ষণমুখর দিনগুলোতে স্কুলে যাবার পথে কিলবিল করা কেঁচো, নানা ধরনের জঞ্জাল এমনকি মনুষ্যবর্জ্যেরও উপদ্রব থাকতো। শুধু পা নয় চোখ বাঁচিয়ে পথচলারও একটা অভ্যেস তৈরি হয়ে যেত আমাদের। বয়সটা ছিল তরতাজা কাঁচা স্মৃতির। ওইসব অনাকাঙ্ক্ষিত বস্তুতে তীক্ষ্ণ নজর পড়লে দিনভর তো বটেই বিশেষ করে আহারে অপ্রবৃত্তি হতো খুব। কিন্তু সেসব কথা তো বলা যেত না কাউকে। আজ মনে হয় অনেক সন্তানের সংসারে সেদিনের মায়েরা চোখে-মুখে এক ধরনের কাঠিন্যের মুখোশ এঁটে রাখতেন যাতে সংসারের শৃঙ্খলা বিপর্যস্ত না হয়। বিশেষ করে মেয়েরা নিজেদের সামলে চলার শিক্ষাটা বেশ ভালোভাবেই রপ্ত করে নিত। পাড়ার কোন বড় ভাইটি চোখ টিপলো, কে শিষ গাইলো, একটু দূর থেকে হাতের ছোট আয়নায় রোদের চাকতি গড়ে কে চোখে ছুঁড়ে দিলো বা অশোভন ভঙ্গিসহ কোনও বাজে কথা বলে বসলো কেউ একজন এসব কিছুই ঘরে কাউকে বলা হতো না বা বলা যেত না। সব হজম করতে হতো। অর্থাৎ শুধু চোখ আর মন নয়, নিজেকে বাঁচিয়ে চলার অভ্যেসটাও তৈরি হয়ে যেত আমাদের। ২০ জানুয়ারি, প্রথম আলোর বিনোদন পাতায় বলিউড অভিনেত্রী স্বরা ভাস্করের কথা পড়তে গিয়ে সে শৈশব মনে এল।
স্বরা ভাস্করের মতো ‘ঠোঁট কাটা’ মেয়েটিও চিত্র জগতে তাঁর সঙ্গে ঘটে যাওয়া যৌন হেনস্তা বিষয়ে নীরব ছিলেন বহুদিন। এক পরিচালকের কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ও বাজে প্রস্তাব তাঁকে বছরের পর বছর পীড়া দিয়েছে।
স্বরা এটাকে বলিউডে যুগের পর যুগ ধরে চলে আসা পুরুষতান্ত্রিক রীতি বলে মেনে নিয়ে নিজেকে বাঁচিয়ে চলেছেন। কিন্তু এক নারী সম্মেলনের নারীমঞ্চে এক নারীকে এমন গল্প বলতে শুনে স্বরার মনে হলো এতো তাঁরও গল্প। সেই থেকে তিনিও সোচ্চার। স্বরা বলেছেন, ‘…আমাদের বরাবরই শিক্ষা দেওয়া হয় যে মেয়েদের সহ্য করতে হবে, চুপ থাকতে হবে, বাজে বিষয়গুলি এড়িয়ে যেতে হবে।’ এতদিন তিনি নিজেও তাই করে এসেছেন। কিন্তু এতদিনে নিজের ভুলটি বুঝতে পেরেছেন। ভুল নিয়ে চুপ করে থাকার দিন আর নেই।
নিজের ভুল, নিজেদের ভুল এখন সকলেই বুঝতে পারছেন। ফলে, নারীর জন্য ভাবছেন সবাই। বলছেনও। মাস দুই আগে (নভেম্বর, ২০১৮) যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ‘ডিলোয়েট’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতিসংঘের নারী কর্মীদের এক তৃতীয়াংশ বা ৩৩ শতাংশ গত ২ বছরে কমপক্ষে ১ বার যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন। আক্রমণাত্মক অঙ্গভঙ্গি ও স্পর্শের মতো ঘটনাও ঘটেছে তাঁদের সঙ্গে। মূলত যৌনতা বিষয়ক গল্প, আক্রমণাত্মক কৌতুক, যৌন কর্মকাণ্ড এবং শরীরী অভিব্যক্তিসহ আক্রমণাত্মক মন্তব্য শুনতে বা সইতে হয়েছে এমন মেয়েদের সংখ্যা ৩৮.৭ শতাংশ। বস্তুনিষ্ঠ পরিসংখ্যান এবং দালিলিক প্রমাণের ভিত্তিতে করা ‘ডিলোয়েটে’র এই প্রতিবেদনটি বেশ কৌতূহলোদ্দীপক। বলা হয়েছে যৌন হয়রানির ৩টি ঘটনার দুটি ঘটিয়েছে পুরুষেরা। ৪টি ঘটনার ১টির ঘটিয়েছে ওই কর্মীর ঊর্ধ্বতন তত্ত্বাবধায়ক অথবা ব্যবস্থাপক। আবার প্রতি ১০টি ঘটনার ১টি ক্ষেত্রে সংস্থাটির জ্যেষ্ঠ নেতৃত্ব জড়িত।
এমন একটা ল্যাজে-গোবরে প্রতিবেদনে শেষ পর্যন্ত কি বলা হলো? পদ ও পদবীর জোরে যাঁরা নারীকর্মীদের হেনস্তার সঙ্গে জড়িত তাঁরা কি পুরুষ দলভুক্ত নন? আরও একটি বিষয় লক্ষ্যণীয়। জরিপটিতে তেমন একটা সাড়া মেলে নি। ৩৬৪ জন কর্মীর মধ্যে ১৭ শতাংশ গোপন প্রশ্নোত্তরপত্রের মাধ্যমে মতামত দিয়েছেন। ১৭ শতাংশ অর্থাৎ সিকি শতাংশও নন। এখন ৭৫ শতাংশেরও বেশি যদি উল্টো কথা বলেন তাহলে গড় হিসেবটা কোথায় দাঁড়াবে? তবে হ্যাঁ, জরিপ প্রসঙ্গে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস কর্মীদের একটি চিঠি লিখেছেন। তাতে তিনি বলেছেন, অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জাতিসংঘে যৌন হয়রানি বিষয়কে এক করে দেখা সমীচীন নয়। কারণ জাতিসংঘ মানবাধিকার, সমতা ও মর্যাদার মতো বিষয় নিয়ে কাজ করে। তার জন্য ভালো দৃষ্টান্ত চাই। এরই মধ্যে গত মাসে এমন একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইউএনএইডের নির্বাহী পরিচালক মাইকেল সিডিবে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। শেষ খবরটি হচ্ছে যৌন হয়রানি বিষয়ে অভিযোগ জানাতে কর্মীদের জন্য ২৪ ঘণ্টার হেল্পলাইন চালু করেছে জাতিসংঘ। সর্বশেষ উল্লেখ্য হচ্ছে যৌন হয়রানির ঘটনায় জাতিসংঘ জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছে। বিশেষ করে মানবাধিকার, মর্যাদা ও সমতা নিয়ে যেখানে কাজ হয়, যাঁরা কিনা সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে তাদের নীতি অনুসরণ করার হুকুম করে থাকেন তাঁদের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি তো ডাল-ভাতের শামিল বলেই মনে হয়। আবার সেজন্য একটা যেন-তেন যুক্তিও খাড়া করতে হলো! এখন এই ‘জিরো টলারেন্স নীতি’ কি তাঁরা সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ওপর আরোপ করতে পারেন?
আমরা বরং সমতার প্রশ্নে শবরীমালা মন্দিরের বলিষ্ঠ গল্পটাই শুনি।
কি কাণ্ডই না করলেন কেরালার মেয়েরা! শবরীমালা মন্দিরে পুরুষ দেবতা আয়াপ্পার অধিষ্ঠান। এ মন্দিরের পুরোহিত ও পুরুষ ভক্তদের বিশ্বাস দেবতা আয়াপ্পা কৌমার্য-ব্রত ধারণকারী বলে ১০ থেকে ৫০ বছর বয়সের নারীদের এ মন্দিরে প্রবেশ নিষেধ। কেরালা হাইকোর্টের নির্দেশে ১৯৯১ সাল থেকে ওই মন্দিরে ওই বয়সী নারীদের (ঋতুমতী বলে) প্রবেশ আইনগতভাবে নিষিদ্ধ হয়ে যায়। এই প্রথা এবং লিঙ্গ বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে জনস্বার্থে একটি মামলা হয়। গত বছরের সেপ্টেম্বরে সুপ্রিম কোর্টে ওই মামলার যুগান্তকারী রায়ে বলা হয় ধর্মাচরণে নারী-পুরুষে ভেদ করা যায় না। কিন্তু ৪ মাসের মধ্যে ওই বয়সসীমার কোনও নারী ওই মন্দিরের ধারে কাছে যেতে পারে নি। সে ঘটনাটি ঘটে গেল দুহাজার ঊনিশের দোসরা জানুয়ারি বুধবার ভোর বেলায়। দীর্ঘ গিরিপথ হেঁটে ভোর ৪টের সময় বিন্দু ও কনক দুর্গা মন্দিরে প্রবেশ করেন। কৃষ্ণ বস্ত্রাচ্ছাদিত ওই দুই নারী পুলিশের সাহায্য নিয়ে মন্দিরে ঢুকেছেন, টেলিভিশন ভিডিওতে তা দেখা গেল। তামিলনাড়ুর অসামরিক সরবরাহ দপ্তরের কর্মী কনক দুর্গা (৪২) এবং সিপিআই সমর্থক ও কর্মী বিন্দু (৪৪) মন্দিরে প্রবেশের ঠিক আগের দিন কেরালার বামপন্থী ফ্রন্টের উদ্যোগে লিঙ্গবৈষম্যের বিরুদ্ধে কেরালায় উত্তরপ্রান্তের শহর কাসরাগড় থেকে দক্ষিণপ্রান্তের থিরুভানতাপুরাম পর্যন্ত ৬২০ কিলোমিটার দীর্ঘ মানববন্ধনটি বিশ্বজুড়ে তোলপাড় তোলে। প্রায় ৩০ লক্ষ নারীর গড়া সে মানবীপ্রাচীর এ যাবতকালের দীর্ঘ মানববন্ধন বটে। মূলত ধর্মীয় জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠীগুলোর নানা অন্যায় উদ্যোগের বিরুদ্ধে লড়াই এর এক দৃপ্ত ঘোষণা ছিল এ মানবপ্রাচীর। প্রাচীরের এক নারী তনুজা ভাত্রাদি বলেন, এ মানববন্ধনের প্রধান ইস্যু শবরীমালা নয়; আমরা নারীপুরুষের সাম্যে বিশ্বাস করি। পাল্টা মানববন্ধনের ডাক দেয় রাষ্ট্রীয় সেবক সংঘ। তাদের সাফ কথা, ধর্মাচরণে প্রথা ও বিশ্বাসকে গুরুত্ব দিতে হবে। কনক দুর্গা ও বিন্দুর মন্দিরপ্রবেশের ঘটনা চাউর হবার পর পর রাস্তায় নেমে যায় হাজার হাজার মানুষ। তারা রাস্তা অবরোধ করে। দোকান পাট সব বন্ধ করে দেয়। পুলিশকে লক্ষ করে হাতবোমা ছোঁড়ে।
এ বিক্ষোভের শিকার কেরালার কৈরালি টিভি চ্যানেলের চিত্র সাংবাদিক শাজিলা। শাজিলা আবদুল রহমান। মার খেয়েছেন তিনি। তাঁর অশ্রুসিক্ত চোখ-মুখের ছবি ভাইরাল হয়েছে অনলাইনে। কিল-ঘুষি এবং আরও নানাবিধ হেনস্তা সত্ত্বেও কর্তব্যে অবিচল শাজিলার ক্যামেরাটি কিন্তু তার স্কন্ধচ্যুত হয়নি। কৈরালি টেলিভিশনের এ ক্যামেরাপারসনের কথা বলতে গিয়ে হেফাজতের সেই তাণ্ডবক্ষেত্র মতিঝিল শাপলা চত্বরে লাঞ্ছিত আমাদের এক বীর কন্যার কথা মনে পড়ছে। এরই মধ্যে শ্রীলঙ্কার নাগরিক শশীকলা (৪৬) ওই মন্দিরে আয়াপ্পা দেবতার মুখদর্শন করে এলেন। শশীকলাকে পুলিশ মন্দিরের ১৮ ধাপ আগে আটকে দিয়েছিল। কিন্তু তিনি দাবি করেন তাঁর জরায়ু নেই। জরায়ু কর্তনের চিকিৎসা-সনদটিও দেখিয়েছেন ওদের। এবং আয়াপ্পা দর্শনের পূর্বশর্ত হিসেবে ৪৮ দিনের উপবাসের শর্তও তিনি পূরণ করেছেন বলে জানান। অতঃপর মাথায় ‘ইবমদি কেত্তু’ (মন্দিরে উৎসর্গী কৃতব্য সামগ্রী) বহন করেই মন্দিরে প্রবেশ করেন-পুলিশের অনুমতি সাপেক্ষে। ট্র্যাজেডিটা হলো ওই কনক দুর্গা (মন্দিরে প্রথম প্রবেশকারী দুই নারীর একজন) প্রাণনাশের হুমকির মুখে কয়েকটা দিন লুকিয়ে থেকে যখন ঘরে ফিরেছেন তখন হামলার শিকার হয়ে তাঁকে যেতে হলো হাসপাতালে। এবং এ হামলাকারী আর কেউ নন, দুর্গার নিজের শাশুড়ি। কনক দুর্গা মন্দিরে প্রবেশের পর বলেছিলেন শুধু ভক্তি নয়, লৈঙ্গিক সমতার প্রশ্নটিও জড়িত এর সঙ্গে। কিন্তু তাঁর শাশুড়ি লৈঙ্গিক সমতা বোঝেন না। নিষিদ্ধ জায়গায় যাওয়ার মধ্যে তিনি অবাধ্যতা এবং এক্ষেত্রে অভক্তিও দেখেন নিশ্চয়ই। দুর্গাদের লড়াই তাই ১০ হাতেরই বটে।
শেষ করবো আমাদের আজকের দুর্গাদের গল্প দিয়ে। যুক্তরাজ্যের ই-ক্লিনিকাল মেডিসিন নামের একটি জার্নাল পরিচালিত এক গবেষণা নিবন্ধে বলা হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারী কম বয়সীরা আশঙ্কাজনক হারে মানসিক অবসাদে ভুগছে। অবাক করার মতো বিষয়টি হলো মেয়েরাই এতে ভুগছে বেশি। গবেষণা নিবন্ধটির পরিচালনা-প্রধান এবং গবেষক যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের এপিডেমিওলজি অ্যান্ড পাবলিক হেলথ বিভাগের অধ্যাপক ইয়েভনি কেলি বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের ফলে যে কিশোর-কিশোরীরা অবসাদে ভুগছে তাদের মধ্যে মেয়েদের ক্ষেত্রে তা যদি হয় ৫০ শতাংশ তবে ছেলেদের ক্ষেত্রে তা ৩৫ শতাংশ। শুধু তাই নয় মেয়েদের ক্ষেত্রে অবসাদ যতটা দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে ছেলেদের ক্ষেত্রে অতটা নয়। সবচেয়ে বড় কথা গবেষণার ক্ষেত্রে দৈনিক ৫ ঘণ্টার বেশি সময় যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করার ফল এক্ষেত্রে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। আমরা জানি, আমাদের কিশোরী-তরুণীরা ৫ ঘণ্টার অনেক অনেক বেশি সময় ধরে কাজটি করছে। অবসাদ-বিধ্বস্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া এক ছাত্রীর সর্বনাশের শেষ সীমায় তলিয়ে যাবার কাহিনী সম্প্রতি একটি দৈনিকে এসেছে। অথচ এরাই (তরুণেরাই) দেশের বর্তমান-ভবিষ্যত সব। মেয়েরা শুধু দেশের বা জাতির নয় তারা নারী সম্প্রদায়ের জন্যও আশার আলো। ‘অবসাদ’ শব্দটি তার বিধ্বংসী পরিণতি নিয়ে ধরা পড়েছে জটিলেশ্বর মুখোপাধ্যায়ের একটি গানে। সে গানে (অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং কালজয়ী গান) বলা হয়েছে, উষ্ণ মরুর অভিশাপ লয়ে/ ভেঙে গেছি আমি অবসাদ ক্ষয়ে…। বিরহে ভেঙে যাবার কথা এসেছে গানে। অবসাদের কারণ যখন বিরহ তখন প্রাপ্তি অপার হতেই পারে। এমন একটি গানের বাণী সে সাক্ষ্যই দিচ্ছে। কিন্তু ফেসবুক বা ইন্টারনেটে বা মেসেঞ্জারে বুঁদ হয়ে পড়ে থেকে অবসাদে ভেঙে যাওয়ার পরিণতি সর্বনাশের শেষ দেখিয়ে দিচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ক্ষতিকারক দিকগুলো সম্পর্কে অর্থবহ তুমুল প্রচারণা চাই, চাই সামাজিক আন্দোলন, বিজ্ঞজনদের কাছ থেকে সঠিক পরামর্শ এবং যথাযথ রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ। মানছি আমাদের তরুণদের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র একটি অংশ মেধার স্বাক্ষর রাখছে নানাক্ষেত্রে কিন্তু এদের সিংহভাগ ভেসে গেলে কি হবে সমাজের, দেশের, রাষ্ট্রের? এবং তরুণীরা ভেসে গেলে আমরা ভেলা পাবো কোথায়?

Advertisement