ভি. এস. নাইপল: অভিবাসী সাহিত্যের প্রদীপ্ত প্রতিভা

কানাই দাশ

শুক্রবার , ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ at ৬:৪৪ পূর্বাহ্ণ
57

ভারতীয় বংশোদ্ভুত সুদূর ত্রিনিদাদে জন্ম নেয়া লন্ডন প্রবাসী লেখক, আধুনিক ইংরেজি সাহিত্যের একজন স্বনামখ্যাত ও শক্তিমান ঔপন্যাসিক নোবেল জয়ী ভি. এস. নাইপল গত ১২ আগস্ট লন্ডনে ৮৫ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। অভিবাসী লেখক হিসেবে দীর্ঘ প্রবাস জীবনের বিচিত্র অনুভূতি তাঁর লেখার পরতে পরতে চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে। অভিবাসী লেখক ও সাহিত্যিক হলেও তিনি কোন ধরনের হিপোক্র্যাসিতে বিশ্বাস করতেন না এবং যা অনুভব করতেন তাই তিনি সরাসরি প্রকাশ করতেন সহজাত নৈতিক অবস্থান ও অকুতোভয় দৃঢ়তায়। উপনিবেশ উত্তর দেশগুলোর জীবন ও সংস্কৃতির নির্মোহ সমালোচনা যেমন করেছেন তেমনি মেট্রোপলিটন কালচারের চাকচিক্য ও দ্বিচারিতা তিনি অন্য অনেকের মত নীরবে মেনে নেননি সৃষ্টিশীল সাহিত্যিকের অন্তর্গত নৈতিক তাড়নায়।

ঔপনিবেশিক শাসনের নিগড়ে নিষ্পিষ্ট দেশগুলো শুধু আর্থ সামাজিক দিক থেকেই নয় অব্যাহত দুঃশাসন ও অবদমনের কারণে সাহিত্যসংস্কৃতির দিক থেকেও পশ্চাদপদ বৃত্তাবদ্ধ অচলায়তনে পরিণত হয়। ঔপনিবেশিক শাসক গোষ্ঠীর ভাষা চাপিয়ে দেয়া হয় সে সব দেশে যাতে জাতীয় সংস্কৃতির নির্বিঘ্ন বিকাশ হতে না পারে এবং নিজস্ব সংস্কৃতি ও স্বাজাত্যবোধের দূর্জয় অহমিকা ও তজ্জনিত দ্রোহের আকুতি কোনভাবেই প্রকাশ না ঘটে সাহিত্য সংস্কৃতি সহ জীবনের সব ক্ষেত্রে। উন্নত পশ্চিমা ও ঔপনিবেশিক দেশগুলো নিজেদের দেশে প্রচলিত বাক, ব্যক্তি ও লেখার স্বাধীনতা , মুক্ত চিন্তা, বৌদ্ধিক ও শৈল্পিক স্বাধীনতা, জাতীয় জীবনের সব পর্যায়ে সেকুলার মূল্যবোধ, অবাধ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা কিছুতেই চালু করতে দেয় না নিজেদের শাসিত উপনিবেশগুলোতে শুধু মাত্র তাদের শাসন শোষণ অবারিত রাখার জন্য। এ দ্বিচারিতা তাদের সভ্যতার অহংবোধে লাগে না। এ অনগ্রসর দমবদ্ধ, সংকীর্ণ সাহিত্যিকসাংস্কৃতিক পরিমন্ডল থেকে অনেক শিল্পী সাহিত্যিক চলে যান ঔপনিবেশিক শাসকদের উন্নত দেশগুলোতে সৃৃজনশীল অবাধ উন্মুক্ত পরিবেশে, যেখানে রয়েছে শিল্পীর অবাধ স্বাধীনতা, উন্নত সাহিত্য ও সংস্কৃতির চর্চার পরিবেশ, নিরাপদ ও সমৃদ্ধ জীবনের হাতছানি। এ সংস্কার মুক্ত উদার জীবনবোধের সমাজ ও পরিবেশ দ্বারা প্রলুব্ধ কিছু শিল্পী সাহিত্যিক সেখানে গিয়ে সাহিত্য সাধনা করে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি ও সম্মানের অধিকারী হয়েছে। এঁদের আধুনিক ইংরেজি সাহিত্যে বলা হয় “ঈৎবধঃরাব ঊীরষবং”। তাঁরা যেহেতু মাইগ্রেন্ট বা অভিবাসী হিসেবে উন্নত পশ্চিমা দেশগুলোতে গিয়ে এঁদের ভাষায় সাহিত্যচর্চা করে থাকেন তাই তাঁদের সাহিত্যকেও মাইগ্রেন্ট লিটারেচার বা অভিবাসী সাহিত্য বলা যায়। তাঁদের কেউ কেউ স্বদেশের সার্বিক পশ্চাদপদতার অন্তর্নিহিত কার্যকারণ বিশ্লেষণ না করে, অবজ্ঞা করে থাকেন ফেলে আসা স্বদেশের পশ্চাদপদ জীবন, সাহিত্যসংস্কৃতির যা অবধারিতভাবে মেট্রোপলিটন সভ্যতার শাসকদের অমার্জনীয় অবহেলা, অত্যাচার ও শোষনের অমানবিক অপরাধ ও চোর্যবৃত্তির ফসল। ঔপনিবেশিক শাসনের অধীনে বেড়ে উঠা আমৃত্যু ভারতীয় সভ্যতা ও সংস্কৃতির নিবেদিত অনুসারী, তীক্ষ্ম সংবেদনশীল ও আত্মমর্যাদা সম্পন্ন কবি ও সাহিত্যিক রবীন্দ্রনাথ “সভ্যতার সংকট” প্রবন্ধে ভারতবর্ষের অনগ্রসর অবস্থা ও এর কারণ প্রাঞ্জলভাবে বর্ণনা করেছেন এ বলে যে “ভাগ্যচক্রের পরিবর্তনের দ্বারা একদিন না একদিন ইংরেজকে এই ভারত সাম্রাজ্য ত্যাগ করে যেতে হবে। কিন্তু কোন ভারতবর্ষকে সে পিছনে ত্যাগ করে যাবে, কি লক্ষ্মীছাড়া দীনতার আবর্জনাকে? একাধিক শতাব্দীর শাসন ধারা যখন শুস্ক হয়ে যাবে তখন কি বিস্তীর্ণ পঙ্কশয্যা দুর্বিসহ নিষ্ফলতাকে বহন করতে থাকবে।” ইংরেজদের শতাব্দীর শাসন ধারা ও ম্যাকিয়াভ্যালি কৌশল ভারতবর্ষকে একটি বিভক্ত, রিক্ত, হিংসাশ্রয়ী, দুর্বিসহ জনপদে পরিণত করেছে। কিন্তু এ দেশে ঔপনিবেশিক শাসনাধীনে শৈশব, কৈশোর ও যৌবন কাটিয়ে পরম পছন্দের দেশ বিলেত চলে যাওয়া ইংরেজি জানা প্রখ্যাত লেখক নীরদ সি চৌধুরী আমৃত্যু উপমহাদেশের আজকের সার্বিক দুরাবস্থার জন্য দায়ী বৃটিশ রাজশক্তির আনুগত্য পোষণ করেছেন আর এদেশের শিক্ষাসংস্কৃতি, জনজীবনকে অবজ্ঞার তাচ্ছিল্যে লাঞ্চিত করেছেন। জীবন সায়াহ্নে পেয়েছেন বৃটেনের রাজকীয় সম্মান। একইভাবে ত্রিনিদাদে জন্মগ্রহণকারী প্রতিভাবান কিছুটা অবশ্য উত্তর ঔপনিবেশিক স্পষ্টবাদী লেখক ও ঔপন্যাাসিক ভি. এস নাইপল তাঁর “ ঞযব গরফফষব চধংংধমব” নামক বইতে উন্নাসিক অবজ্ঞায় বলেছেন “ ঘড়ঃযরহম ধিং বাবৎ পৎবধঃবফ রহ ঃযব ডবংঃ ওহফরবং” আফ্রিকা সম্পর্কেও তিনি বাছবিচার ছাড়াই একই ধরনের কথা বলেছেন। এ রূঢ় মন্তব্যের জন্য ওয়েষ্ট ইন্ডিয়ান বা ত্রিনিদাদের মানুষ তাঁকে সহজে গ্রহণ করতে পারেনি। নোবেল পুরষ্কার প্রাপ্ত আরেক ক্যারিবীয় কবি ডেরেক ওয়ালকট বিদ্রুপ করে “ অঃ ষধংঃ” নামে এক কবিতায় তাকে “ ঠ.. ঘরমযঃভধষষ” (বা রাতের প্রতীক) বলে অভিহিত করে লিখেছেন “ ণড়ঁ ংঢ়রঃ ড়হ ুড়ঁৎ ঢ়বড়ঢ়ষব/ুড়ঁৎ ঢ়বড়ঢ়ষব ধঢ়ঢ়ষধঁফ/ুড়ঁৎ ড়ঢ়ঢ়ৎবংংড়ৎং ষধঁৎবষ ুড়ঁ/ঃযব ঃযড়ৎহং নরঃঃরহম ুড়ঁৎ ভড়ৎযবধফ/ধৎব পড়হঃবসঢ়ঃ, ফরংমঁরংবফ ধং পড়হপবৎহং/”। কিন্তু তিনি নীরদ সি চৌধুরীর মত ইংরেজ ও পশ্চিমের অন্ধস্তাবক ছিলেন না। তিনি “ ঊহরমসধ ড়ভ অৎৎরাধষ”সহ নানা প্রসঙ্গে কলোনিয়াল শাসনের তীব্র নিন্দা করেছেন। প্রশ্ন তুলেছেন ইংরেজদের “ ওহঃবষষবপঃঁধষ যড়ৎরুড়হব ” নিয়ে যা কারো কম থাকলে তাঁদের তিনি পশ্চাদপদ জাতি বলছেন। তিনি অধূনা ইংরেজদেরও তা বলতে দ্বিধা করেননি।

স্যার বিদ্যাধর সূরজ প্রসাদ নাইপল ১৯৩২ সালে ক্যারিবীয় দ্বীপ ত্রিনিদাদে এক হিন্দু পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতামহ ছিলেন ভারতের উত্তর প্রদেশের এক নিছক দিন মজুর। তাঁকে সহ আরো অনেককে বিদেশী বেনিয়ার দল গৃহহীন ও বাস্তুহীন করে ভাড়াটে শ্রমিক হিসাবে নিয়ে যায় সুদুর ত্রিনিদাদের আখের ক্ষেতে কাজ করার জন্য। যেমন করে আফ্রিকা থেকে পশুপাখির মত জোর করে জাহাজ ভরে অসংখ্য কালো আফ্রিকানদের নিয়ে যাওয়া হয়েছিল ষষ্ঠ ও সপ্তদশ শতাব্দীতে নয়া দুনিয়াকে পশ্চিমাদের বাসোপযোগী করার জন্য। ত্রিনিদাদেই নাইপলের প্রাথমিক শিক্ষা শেষ হয়। ছোটবেলা থেকে তাঁর সাহিত্যের প্রতি অনুরাগ ছিল। পরবর্তীতে ইংল্যান্ডে পড়ার জন্য তিনি বৃটিশ সরকারের বৃত্তি লাভ করেন। ১৯৫০ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে তিনি অক্সফোর্ডের উদ্দেশ্যে লন্ডন যান। তিনি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে গ্র্যাজুয়েশন করেন। পূর্ব পুরুষের জন্মস্থান ভারত, নিজ জন্মস্থান ত্রিনিদাদ বা ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পরবর্তীতে লন্ডনের জীবন ও সংস্কৃতি নাইপলের জীবন দৃষ্টি গঠনে প্রভূত সাহায্য করে। ক্যাথারিন ম্যান্সফিল্ড, জেমস জয়েস সহ অনেকেই ছিলেন এমন ধারার ইংরেজি সাহিত্যের খ্যাতনামা লেখক যাঁরা ছিলেন মূলত “ ঈৎবধঃরাব ঊীরষবং” এবং ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যকে তাঁরা নানাভাবে পুষ্ট করেছেন। নাইপল সহ এসব সাহিত্যিকদের আত্মপরিচয়ের সংকট বিংশ শতাব্দীর ইংরেজি সাহিত্যের বিশেষ করে উত্তর ঔপনিবেশিক সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে। নাইপলের পূর্বপুরুষদের দেশ ভারত, নিজের জন্মভূমি ত্রিনিদাদ কিংবা তাঁর জীবন ও জীবিকার আশ্রয় বা মনোভূমি লন্ডন কোনটাকেই নাইপল একান্ত নিজের বলে ভাবতে পারেননি। তাঁর ফিকশন, ননফিকশন ও অন্যান্য লেখায় বারবার এই আত্মপরিচয়ের সংকট ঘুরে ফিরে এসেছে। ভারত বা ত্রিনিদাদকে ইংরেজ শাসকদের চমশায় দেখলেও নিজেকে পুরো ইংরেজ বলে স্বাভাবিকভাবেই মনে করতে পারেননি এবং এক বিচ্ছিন্নতাবোধ তাঁকে তাড়িত করেছে। এ “ ফরষবসসধ” থেকে তিনি আজীবন ভুগেছেন। তাই ইতিহাস তাঁর কাছে বিশেষ করে তাঁর মত “ পৎবধঃরাব বীরষবং” দের কাছে এক মূর্তিমান বিভীষীকা। জয়েসের ষ্টীফেন যেমন বলছে “ ঐরংঃড়ৎু রং হরমযঃসধৎব যিরপয ও ধস ঃৎুরহম ঃড় ধধিশব” । এঁদের সাহিত্যে মিশে আছে নিজ দেশ ও পূর্বপুরুষদের গ্লানিময় উপাখ্যান, বঞ্চণাজাত এক ধরনের আত্মসচেতনতা, গৃহহীন, বাস্তুহীন, নিরালম্ব জীবনের কথকতা। নাইপলসহ এঁদের কয়েকজন খুব কম বয়সেই দেশ ছাড়া হন “কালচারাল ক্যাপিটেলের ’ বাসিন্দা হবার মোহমুগ্ধ আশায়। বিশ বছর বয়সে জয়েস দেশ ছাড়েন প্যারিসের উদ্দেশ্যে, ক্যাথরিন ১৯ বছর বয়সে লন্ডনের উদ্দেশ্যে নিউজিল্যান্ড ছাড়েন আর নাইপল ১৮ বছর বয়সে ত্রিনিদাদ ছেড়ে লন্ডনে স্থিতু হন। তাঁদের নতুন দেশ তাঁদের খুব বেশি গুরুত্ব দেয়নি, জীবন সংগ্রামে তাঁদের ব্যাপৃত থাকতে হয়েছে সারাটা সময়। এক ধরনের শূন্যতা তাঁদের বঞ্চিত করে আত্মিক ও বৌদ্ধিক পরিপূর্ণতা থেকেনাইপলের ভাষায় দেশ ছাড়া মানে “ ধ ভষরমযঃ ঃড় ঃযব মৎবধঃবৎ ফরংড়ৎফবৎ, ঃযব ভরহধষ বসঢ়ঃরহবংং” । ফলে ফেলে আসা দেশ তাঁদের আত্মিক ও মানসিক শূন্যতা ও অবসাদকে তীব্র করে তোলে। বেদনার বালুচরে তাঁরা নিজের ঘর তৈরির নিষ্ফল চেষ্টা করেন। জন্মভূমির স্মৃতিকাতরতা তাঁদের আজীবন তাড়া করে, শেকড়হীন জীবন ও তজ্জনিত এক ধরনের আবেগের দ্বারা সৃজনশীল ভাবনাচিন্তা বাধাগ্রস্ত হয়। মনে পড়ে যায় এলিয়টের কথা “ ইবঃবিবহ ঃযব পড়হপবঢ়ঃরড়হ/অহফ ঃযব পৎবধঃরড়হ/ইবঃবিবহ ঃযব বসড়ঃরড়হ/অহফ ঃযব ৎবংঢ়ড়হংব/ঋধষষং ঃযব ংযধফড়ি”

নাইপল অক্সফোর্ডের পাঠ চুকিয়ে সাংবাদিকতায় যোগ দেন। বিবিসি’র “ক্যারিবীয় কণ্ঠস্বর” নামে একটি নিয়মিত অনুষ্ঠানে যোগ দেন। ১৯৫৫ সালে অক্সফোর্ডে তাঁর সহপাঠী প্যাট্রিসিয়া হেইল এর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। প্যাট্রিসিয়া শিক্ষকতা করতেন ফলে আর্থিক দিক থেকে এই সময়ে কিছুটা নির্ভার হন। এ দম্পতি নি:সন্তান ছিলেন। পঞ্চাশের দশকের শেষের দিকে নাইপল ত্রিনিদাদের জীবন ও সংস্কৃতি উপর পর পর তিনটি উপন্যাস লেখেন। সেগুলো হল “ ঞযব গুংঃরপ গধংংবঁৎ” (১৯৫৭), “ ঞযব ঝঁভভৎধমব ড়ভ ঊষারৎধ” (১৯৫৮), ঞযব গরমঁবষ ঝঃৎববঃ (১৯৫৯)। এ তিনটি উপন্যাসকে নাইপল বলেছেন শিক্ষানবীশের কাজ আসলে যা ছিল আরো বিশাল ও বিস্তৃত কাজের প্রস্তুতি পর্ব। দু’বছর পর ১৯৬১ সালে বের হয় তাঁর গধমহঁস ঙঢ়ঁং, জগদ্বিখ্যাত উপন্যাস “অ ঐড়ঁংব ভড়ৎ গৎ. ইরংধিং”এতে তাঁর ও পরিবারের আত্মপরিচয় ও সংকটের বিষয় উঠে আসে। এদিক থেকে এটাকে অনেকটা বলা যায় “ ধঁঃড়নরড়মৎধঢ়যরপধষ ভরপঃরড়হ”। মাতৃভূমি ত্রিনিদাদ, তাঁর নিজের ও পিতার জীবনকে কেন্দ্র করে লেখা এ উপন্যাসের মূল চরিত্র মোহন বিশ্বাস আসলে তাঁর বাবা শ্রী প্রসাদ। তিনি নিজেও সাহিত্যিক ছিলেন যাঁর লেখা গল্প সংকলন “ ঞযব অফাবহঃঁৎবং ড়ভ এঁৎঁফবা” নাইপলকে প্রাণিত করে। শ্রীপ্রসাদ তাঁর ছেলে নাইপলকে আরেক বিখ্যাত ভারতীয় কমনওয়েলথ লেখক আর. কে. নারায়ণের লেখার সাথে পরিচয় করিয়ে দেন। “ গৎ. ইরংধিং ” উপন্যাসের মোহন বিশ্বাসের চার ছেলে মেয়ে। প্রথম দু’জন আনন্দ আর নাইপল। প্রভাবশালী শ্বশুড়বাড়ির লোকজন দ্বারা পরিবেষ্টিত মোহনবাবু সারাজীবন কঠোর পরিশ্রম করে একটি বাড়ি করতে পারলেন নাএই যড়সবষবংংহবংং মোহনবাবুকে অস্থির করে তুলে। শেষ জীবনে অনেক কষ্ট করে বহু দেনা করে তৈরি করলেন একটি বাড়িযা তাঁর এক বিশাল কীর্তিস্তম্ভ। কিন্তু দেনার দায়ে জর্জরিত থাকেন তিনি। বিদেশে অবস্থানরত ছেলেরা সাহায্য করতে এগিয়ে এল না, এগিয়ে এল মেয়ে সাভি। সে পিতাকে দায়মুক্ত করে এবং মোহন বিশ্বাস শান্তিতে, স্বস্তিতে নিজ বাড়িতে মৃত্যুবরণ করেন। এ বাড়ির প্রসঙ্গ নাইপলের লেখায় বারবার ঘুরে ফিরে এসেছে। এ বাড়ি হল মর্যাদা, নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা ও সৌন্দর্যের প্রতীক। তাঁর প্রথম দিকে দুটি উপন্যাসে বাড়ির প্রসঙ্গ এসেছে। এসেছে পরিণত সময়ের লেখা “ঞযব গরসরপ গবহচএ। “ ঞযব গরমঁবষ ঝঃৎববঃ” এ তাঁর নিজের বাড়ি ছিল এমন একটি আশ্রয় যেখানে তিনি বড় হয়েছেন সবার সাথে, যেখান থেকে জগত চরাচরকে দেখা যেত, উপলব্ধি করতেন চারদিকের মানুষের জীবন ও সংস্কৃতি। “ঞযব গুংঃরপ গধংংবঁৎ এ গণেশের নতুন বাড়ি সম্প্রীতি ও আপোষের প্রতীক। “ঞযব গরসরপ গবহচ এ যাত্রীদের কয়েকটি বাড়ি দেখি যেগুলো ছিল পথহারা পথিক, হাল ভাঙা জাহাজের বিপদগ্রস্ত যাত্রীদের নিরাপদ আশ্রয় ও নিরাপত্তার প্রতীক। “অ ঐড়ঁংব ভড়ৎ গৎ. ইরংধিংচএঐড়ঁংবচহল পারিবারিক ঐক্য ও নিরাপত্তার প্রতীক। “গৎ. ইরংধিংচএর কাছে নিজ বাড়িটি মধ্যবিত্ত সুলভ উচ্চাকাংখার ব্যাপার নয় সেটা তাঁর জীবনের সামর্থ্য ও সাফল্যের প্রতীক, সার্থক পিতা হিসেবে যা তিনি রেখে যেতে চান সন্তানদের জন্য। এখানে তাঁর বাড়ি তাঁর পরিচয়ের স্মারক মাত্র।

১৯৬২ তে ক্যারিবীয় সংস্কৃতি ও সামাজিক সংকট নিয়ে লেখেন “ঞযব গরফফষব চধংংধমবচ এবং ১৯৬৯ এ লেখেনঞযব ষড়ংং ড়ভ ঊষফড়ৎধফড়চ, ১৯৬৩ সালে তাঁর পূর্ব পুরুষের জন্মস্থান ভারত সফর করে ১৯৬৪ সালে লেখেন “অহ অৎবধ ড়ভ উধৎশহবংংচ। ভারতের উপর পরে আরও দুটি বই তিনি লিখেন “ওহফরধ: অ ড়িঁহফবফ ঈরারষরুধঃরড়হচ (১৯৭৭) এবং “ওহফরধ: অ সরষষরড়হ সঁঃরহরবং হড়চি(১৯৯০) নামে। ১৯৭২ সালে ভারত মহাসাগরের দ্বীপ রাষ্ট্র মৌরিতাসকে নিয়ে লেখেন ঞযব ঙাবৎপৎড়ফিবফ ইধৎধপড়ড়হ। জনবহুল ঐ ছোট্ট দ্বীপ রাষ্ট্রটিকেই তিনি “ঝষধাব ঢ়বহচ বা ইধৎধপড়ড়হ বলেছেন। এ বইটি তার সমাজ ভাবনা ও বিশ্ব দৃষ্টিভঙ্গীর পরিচয় তুলে ধরে। ১৯৬৭ সালে প্রকাশিত হয় “ঞযব গরসরপ গবহচ। এটি তাঁর একটি উৎকৃষ্ট লেখা। ঔপনিবেশিক শাসনে জর্জরিত ত্রিনিদাদের মানুষের জীবনভাষ্য তিনি অসাধারণ রূপময়তায় তুলে ধরেছেন এ বইয়ে । এ বই সম্পর্কে নাইপল বলেছেন “ওঃ রং হড়ঃ ধনড়ঁঃ সরসরপং. ওঃ রং ধনড়ঁঃ পড়ষড়হরধষ সবহ সরসরপশরহম ঃযব পড়হফরঃরড়হ ড়ভ সধহযড়ড়ফ, সবহ যিড় যধফ মৎড়হি ঃড় ফরংঃৎঁংঃ বাবৎুঃযরহম ধনড়ঁঃ ঃযবসবংবষাবংচ এখানে বৈপরীত্য হল যে উপনিবেশ পূর্ব সময়কে তিনি মনে করেন, শুদ্ধতা ও সমৃদ্ধির সময় যা তিনি “ঞযব গরসরপ গবহচ এ তুলে ধরেছেন আবার উপনিবেশের কারণে সৃষ্ট সার্র্বিক পশ্চাদপদতাকে তিনি সংশ্লিষ্ট দেশের “অনতিক্রম্য অপদার্থতা” বিবেচনায় সে দেশের মানুষের ক্ষোভ বিক্ষোভকে প্রত্যাখান করেন। উপনিবেশ পরবর্তী সময়ে সব দিক থেকে তিনি নিষ্পেষিত দেশগুলোর পুনর্জাগরনের কাজটি যে বিশ্ব বাস্তবতায় কত কঠিন তা মাতৃভূমি থেকে বিচ্ছিন্ন নাইপলের মত পন্ডিতরা বুঝতে চান না। পূর্ব পুরুষদের জন্মভুমি ভারত নিয়ে তাঁর আগ্রহ থাকা স্বাভাবিক। ১৯৬৩ সালে ভারত ভ্রমণ করে তিনি ভারতকে “ অহ অৎবধ ড়ভ উধৎশহবংংচ হিসাবে দেখছেন। সে অন্ধকার, কুসংস্কার ও কুপমন্ডকতার অন্ধকার। স্বাধীন ভারতের প্রাণপুরুষ, সত্যিকার অর্থেই আধুনিক, বিজ্ঞানমনস্ক প্রগতিশীল ব্যক্তিত্ব ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহর লাল নেহেরু তখনও বেঁেচ ছিলেন। বিশাল ভারতে তিনি একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক কাঠামো গড়ে তুলে ধর্মন্ধতা ও কুসংস্কারাচ্ছন্নতাকে ধীরে ধীরে অপসারন করতে ব্রতী হয়েছিলেন দেশি বিদেশি অন্ধকারের প্রতিক্রিয়াশীল শক্তির বাধার সম্মুখে দাঁড়িয়ে। এ অন্ধকারের জন্য তো নাইপলের দৃষ্টিতে “সভ্য দেশগুলোর” শতাব্দীর শাসন ধারা অনেকাংশে দায়ী। পোলিশ বংশোদ্ভুত ইংরেজি লেখক জোসেফ কনরাডের উল্লিখিত উধৎশহবংং এর সাথে কিন্তু এর অনেক পার্থক্য রয়েছে। নাইপল বলছেন এ অন্ধকার দেশ হিসাবে ভারতের, মানুষ হিসাবে ভারতের জনগণের। কিন্তু তিনি ভারতের আলোর দিক দেখলেন না, এর প্রাচীন সাহিত্য, সংস্কৃতি ও দর্শন ভাবনায়, অনন্য সাধারণ আধ্যাত্মভাবনায়, সবাইকে আপন করে নেয়ার অন্তর্নিহিত শক্তির সাধনায়। শক হুন দল পাঠান মোগল কে একীভুত করার ভারতীয় ঔদার্র্য তাঁর মনে পড়ল না। সাংস্কৃতিক বহুত্ব্ববাদ চর্চার প্রাচীন পীঠস্থান ভারত “অহ অৎবধ ড়ভ উধৎশহবংংচ হতেই পারে না যদিও অতি সম্প্রতি ক্ষমতায় আসা নরেন্দ্র মোদীরা সেই উদার ঐতিহ্য জোর করে ভারতবাসীকে ভুলিয়ে দিতে চাইছে। কনরাডীয় ফধৎশহবংং কিন্তু ইউরোপীয় বণিকদের লোভ, মুনাফা ও শোষণের ফলশ্রুতিতে যে সৃষ্ট, তা যে বিদেশী বেনিয়াদের মুনাফার উদগ্র লোভ থেকে উদগত তা তিনি স্পষ্ট করেছেন ঐবধৎঃ ড়ভ উধৎশহবংং এ। ১৯৭৯ সালে লিখিত “অ ইবহফ রহ ঃযব ৎরাবৎচ এ নাইপল মবুতুর জায়ারের কথা বলেছেন কিন্তু জায়ারের দূরবস্থার জন্য দায়ী শ্বেতাঙ্গ শাসনের কথা এড়িয়ে গেলেন, শাসক আর শাসিত উভয়কে দায়ী করে। কিন্তু কনরাড কঙ্গোঁর ক্ষেত্রে দায়ী করলেন পশ্চিমা বণিক সভ্যতাকে। জীবনের বহতা নদীর বাঁকে বাঁকে ক্ষমতাশালীরা যে মানুষের জীবনকে মুনাফা ও শাসনের স্বার্থে নিয়ন্ত্রণ করে তা তিনি উল্লেখ করেছেন কিন্তু অসহায় সাধারণ মানুষের যে কোন ঠাঁই এ জগতে, পশ্চিমের মাৎসন্যায় নীতিতে নেই এ সত্য নাইপল যেন সভ্যতার স্বাভাবিকতা বলেই মানছেন।

পাকিস্তান , ইরান সহ মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার কিছু মুসলিম দেশ ঘুরে ১৯৮১ সালে লিখলেন “ অসড়হম ঃযব নবষরবাবৎং: অহ ওংষধসরপ ঔড়ঁৎহবুচ। এ বই নিয়ে বিতর্ক শুরু হয় এবং রুশদীর “সাটানিক ভার্সেস” এর মত না হলেও এ বিতর্ক তাঁকে ইসলাম বিদ্বেষী হিসাবে চিহ্নিত করে । পরে তিনি ইবুড়হফ ইবষরবভ নামে, ইসলাম ধর্ম বিষয়ে আরো একটি বই লেখেন। এতে তিনি বিশ্বাস ও মর্যাদার দিক থেকে অনারব ও ধর্মান্তরিত মুসলিমদের আরবের মুসলমানদের চাইতে খর্ব করে দেখান। কৌতুহলের ব্যাপার হলো ১৯৯৬ সালে প্রথম স্ত্রী মারা যাবার পর তিনি তাঁর চাইতে ২৫ বছরের ছোট নাদিরা বানু আলভি নামে পাকিস্তানি এক মুসলিম মহিলাকে বিয়ে করেন এবং ইবুড়হফ ইবষরবভ বইটি নবপরীনিতা স্ত্রীকে উৎসর্গ করেন। এখানে ধর্ম বিষয়ে তাঁর নিরাসক্ত দৃষ্টিভঙ্গি ও নিষ্পৃহতা পরিস্ফুটিত হয়। কোন ধর্মের প্রতি বিদ্বেষ নয় বরং ধর্মের নামে বহিরঙ্গের গোঁড়ামি ও তামাশাকে তিনি স্বভাবসুলভভাবেই তীব্র ভাষায় কটাক্ষ করেছেন। নাইপলের এসব ভ্রমণ বৃত্তান্ত বা অন্যসব ননফিকশনকে তিনি ফিকশনের পর্যায়ে নিয়ে গেছেন অপূর্ব দক্ষতায়। বস্তুত তিনি সাহিত্যে ননফিকশনকে ভরপঃরড়হধষরংবফ করেছেন, আত্মজীবনীকে রূপ দিয়েছেন ধঁঃড়নরড়মৎধঢ়যরপধষ ভরপঃরড়হ এ, গৎ. ইরংধিং তা আমরা দেখেছি।

১৯৭১ সালে রচিত উপন্যাস “ওহ ধ ঋৎবব ঝঃধঃব” এর জন্য তিনি ইংল্যান্ডের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ “বুকার” পুরষ্কার লাভ করেন। এ বইতেও তিনি রাজনীতি ও নন ফিকশনকে ফিকশনে রূপ দেন। তিনটি গল্পের সমাহারে রচিত এই ফিকশনে তিনি ঐড়সবষবংংহবংং কে একটি মানবিক সমস্যা হিসাবে উল্লেখ করে এটাকে বইয়ের কেন্দ্রীয় বিষয়ে উন্নীত করেন। বাস্তুহারা মানুষের উদ্বেগ, কষ্ট এখানে বড় করে দেখানো হয়েছে। নাইপল বইটি সম্পর্কে বলছেন, এটি চড়বিৎ ্‌ চড়বিৎষবংংহবং এর বিশ্বজনীন সমস্যা নিয়ে লিখিত। ১৯৮৭ সালে বের হয় তার অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপন্যাস অহ ঊহরমসধ ড়ভ অৎৎরাধষ। অন্য যে কোন লেখার চাইতে বইটির বিষয়বস্তু জটিল। উপন্যাসের আদলে লেখা বইটি ভ্রমণ বৃত্তান্ত, কল্প কাহিনী এবং আত্মকথা মিলে একাকার। উপন্যাসের নামেই বুঝা যায় এটি স্থানচ্যুতির যন্ত্রণা ও কষ্টের উপাখ্যান। ত্রিনিদাদ থেকে লণ্ডনে আসার কাহিনী ও লন্ডনের অভিজ্ঞতা নিয়ে এটি রচিত। ত্রিনিদাদে বেড়ে উঠা এক তরুণের লেখক হয়ে উঠার আকাংখাজাত নৈতিক, মানসিক, আগ্রহের পটভূমিতে লন্ডনের মেট্রোপলিটন আবহে তাঁর মনোজগতের রহস্যময় বা বহরমসধঃরপ প্রতিক্রিয়ার শৈল্পিক প্রকাশ এর বিষয়বস্তু। আবার শেষ অধ্যায়ে বোনের মৃত্যুতে ১৯৮৩ সালে লন্ডন থেকে দীর্ঘদিন পর বোনের হিন্দু রীতিতে অনুষ্ঠিত অন্ত্যেষ্টিক্রিয়াতে অংশগ্রহণ করতে ত্রিনিদাদে এসে এসব রিচুয়ালস এর প্রাসঙ্গিকতা ও যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন এবং সব মিলিয়ে এক বীঢ়ধঃৎরধঃব ংবহংরনরষরঃুর প্রকাশ আমরা এখানে দেখি, যা একই সময়ে বহরমসধঃরপ ও কৌতুহলোদ্দীপক। সাংস্কৃতিক বহুত্ববাদের প্রতি নাইপলের অনুরাগ এখানে লক্ষ করা যায়। ১৯৮৯ সালে তিনি “স্যার” উপাধিতে ভূষিত হন। আবার এ বই প্রকাশের ১৪ বছর পর ২০০১ সালে তিনি সাহিত্যে বহুল প্রতীক্ষিত “নোবেল পুরষ্কার” পান। নোবেল কমিটি পুরষ্কারের সম্মাননায় উল্লেখ করে “সংবেদনশীল আখ্যান এবং নীতিনিষ্ঠ পরীক্ষণকে একত্র করে তিনি এমন সব কাজ করেছেন যেগুলো আমাদের বাধ্য করেছে নির্যাতিত ইতিহাস সমূহের উপস্থিতি দেখতে”। একথা শুধু ঊহরমসধ নয় অন্যান্য উপন্যাস বিশেষ করে অ ঐড়ঁংব ভড়ৎ গৎ. ইরংধিং এর জন্য প্রযোজ্য।

ডায়াসপোরা বা পরবাসী চিন্তা অভিবাসী সাহিত্যের একটি প্রধানতম বিষয়। সাংস্কৃতিক বহুত্ববাদে সমর্পিত ঔপন্যাসিক নাইপল তাঁর অধিকাংশ ফিকশন, ট্র্যাভেলগ ও অন্যান্য কাহিনি ও লেখায় এই ডায়াসপেরাকে সামনে নিয়ে এসেছেন। এ চেতনাকে অতুলনীয় পরিবেশনায় মূর্ত করে তুলেছেন। প্রান্তিক মানুষদের নিয়ে এসেছেন পাদপ্রদীপের আলোয়। তিনি ছিলেন স্পষ্টবাদী এবং তিনি কোন বিষয়ের সত্যাসত্য নিয়ে দ্বিধায় ভুগতেন না, যা বুঝতেন তাই স্পষ্ট করে বলতেন। ভারত ও মুসলিম দেশগুলো ঘুরে যা তিনি বুঝেছেন, যা দেখেছেন তাই প্রকাশ করেছেন দ্বিধাহীন চিত্তে বলছেন, “ও ধস ঢ়ধংংরড়হধঃব ধনড়ঁঃ ধপপঁৎধপু . ও রিষষ হবাবৎ ধষঃবৎ ধ ড়িৎফ ঃযধঃ ঢ়বড়ঢ়ষব ংঢ়ড়শব. ও ঃধশব রঃ ফড়হি নু যধহফ. ও ফড় হড়ঃ পযধহমব রঃ.

সারা জীবন নানা বিতর্কে তিনি জড়িয়ে ছিলেন তাঁর রূঢ় সব মন্তব্যের জন্য। তিনি নারী সাহিত্যিকদের নিয়েও নিন্দামন্দ করতে ছাড়েননি। এমনকি ঔধহব অঁংঃবহ কে নিয়ে বলেছেন “ঝযব ফরংঢ়ষধুবফ ধ ংবহঃরসবহঃধষ ংবহংব ড়ভ ঃযব ড়িৎষফচ এমনকি একবার বলেছেনঅষষ ভবসধষব ৎিরঃরহম রং ংবহঃরসবহঃধষ ঃড়ংযচ

একজন লেখক যা লেখেন তা তো তাঁর নিজের জীবনেরই অভিজ্ঞতা ও পরিবেশের প্রতিচ্ছায়া মাত্র। নাইপল রূপোর চামচ মুখে জন্ম নেননি। নানা দিক থেকে তাঁর জীবন ছিল সংগ্রাম মুখর। ত্রিনিদাদের নিম্নবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করে নানা অভাব ও সংকটের মাঝে নিজের মেধা বলে বৃত্তি নিয়ে লন্ডন যান উচ্চ শিক্ষার জন্য। পৃথিবী ছিল তাঁর কাছে ধুসর। অবিশ্বাস, হতাশা ও ছলনায় ভরা ছিল চারপাশের জীবন ও জগত। কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যাবসায় তাঁকে জীবনযুদ্ধে জয়ী করেছে। তিনি মেধার শক্তিতে বিশ্বাস করতেন না। তিনি বলতেন তাঁর লেখার মান ও শৈলী তাঁর কঠোর শ্রমের ফসল। তাঁকে পছন্দ করুক আর না করুক সবাই একবাক্যে ইংরেজি ভাষার উপর তাঁর অসাধারণ কারুকাজ আর শৈলী নিয়ে প্রশ্ন তোলেনি। তিনি বলতেন “গু ংঃুষব রং সু ঃযড়ঁমযঃচ ঠিক অনুরূপভাবে সমকালীন বিশ্বের সমাজ ও জীবন নিয়ে তাঁর ভাবনা সম্পর্কে অনেকের দ্বিমত থাকলেও তাঁর লেখার মধ্যে সর্বত্র ছিল এক মানবিক উৎকন্ঠা ও সরল অভিব্যক্তি। চৎবঃবহংরড়হ শব্দটি ছিল তাঁর ভীষণ অপছন্দের । এজন্য অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় সাম্মানিক ডি. লিট প্রদানের সময় তাঁকে “ঝযধৎঢ় বুবফ ড়নংবৎাবৎ ড়ভ যঁসধহরঃুচ বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর ঘোর সমালোচক সালমান রুশদি এ বলে শ্রদ্ধা জানান যে, “ডব ফরংধমৎববফ ধষষ ড়ঁৎ ষরাবং ধনড়ঁঃ ঢ়ড়ষরঃরপং, ধনড়ঁঃ ষরঃবৎধঃঁৎব ধহফ ও ভববষ ধং ংধফ ধং রভ ও লঁংঃ ষড়ংঃ ধ নবষড়াবফ ড়ষফবৎ নৎড়ঃযবৎ.

x