ভিক্ষুক বেশে ইয়াবা ও ফেনসিডিল বিক্রি!

বরিশাল কলোনিতে ফের আস্তানা গড়ার চেষ্টা, গ্রেফতার ৩

আজাদী প্রতিবেদন

বুধবার , ১৭ অক্টোবর, ২০১৮ at ৬:২৫ পূর্বাহ্ণ
115

মাদক বিরোধী অভিযানে পাল্টে গেছে মাদক ব্যবসায়ীদের অবস্থান, কৌশল, সাথে জনবলও। পুরনো ব্যবসায়ীরা গা ঢাকা দিতেই তাদের কর্মচারীদের একটি অংশ যেমন নতুনদের সাথে যোগ দিয়েছে, একইভাবে নতুন করে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে একটি গ্রুপকে। আর এ সবকিছুই চলছে রেল নিরাপত্তা বাহিনী এবং রেলওয়ে পুলিশের এক শ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারীর সরাসরি তত্ত্বাবধানে। গত দু’দিনের সাঁড়াশি অভিযানে এমন তিন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ, যারা ইতোপূর্বে বরিশাল কলোনীর নিয়ন্ত্রণকারী ফারুক-ইউছুফ সিন্ডিকেটের হয়ে কাজ করতো। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো খায়রুল হক মোল্লা রনি (২৬), তানভির ইসলাম শুভ (২০) এবং মো. আরিফ (২২)। এর মধ্যে আরিফের এক পা নেই। তাদের কাছ থেকে একটি এলজি ও দুই রাউন্ড কার্তুজ, এক হাজার ৭০ পিস ইয়াবা এবং ৩০ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার করা হয়েছে।
সদরঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নেজামউদ্দিন এ প্রসঙ্গে আজাদীকে জানান, বরিশাল কলোনির আগের নিয়ন্ত্রক ছিল মাদক সম্রাট ফারুক ওরফে বাইট্টা ফারুক ও ইউছুফ। ফারুক র‌্যাবের সাথে বন্দুক যুদ্ধে মারা যায়। অন্যদিকে ইউছুফ এক বছর ধরে ব্যবসা ছেড়ে দেশের বাইরে। এ সুযোগে তাদের কর্মচারীদের একটি বড়ো অংশকে টেনে নিয়েছে ফারুকের ভাই শুক্কুর। সাথে নিয়োগ দিয়েছে নতুন ক’জনকে। নতুন পুরাতনের মিশেল ঘটিয়ে রেল স্টেশনের এক নম্বর প্ল্যাট ফরমে তারা গড়ে তুলেছে মাদক কাউন্টার। এর আগে আমরা এমন কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছি, যারা আগের সিন্ডিকেটের হয়ে কাজ করতো। এখন শুক্কুরের সিন্ডেকেটে জয়েন করেছে। কিন্তু আমরা ছাড় দিচ্ছি না। তিনি আরো জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা আমাদের কাছে নতুন সিন্ডিকেটের ১২ জনের নাম বলেছে। তাদের গ্রেপ্তারেও অভিযান অব্যাহত আছে।
সদরঘাট থানার পরিদর্মক (তদন্ত) রুহূল আমীন আজাদীকে বলেন, ২০১৭ সালের ২০ অক্টোবর র‌্যাবের সাথে বন্দুকযুদ্ধে মৃত্যু হয় মাদক সম্রাট ফারুকের। এরপর গত ২০ মে বরিশাল কলোনির মালিপাড়ায় গত বৃহস্পতিবার রাতে র‌্যাবের অভিযানে নিহত হয়েছিলেন আরো দুই মাদক বিক্রেতা। তাদের মৃত্যুর পর ফারুকের ভাই শুক্কুর দখল নেয় বরিশাল কলোনির। ২২ মে সেখানে অভিযান চালিয়ে আবার তিনজন মাদক বিক্রেতাকে ধরে পুলিশ। পুলিশ জানতে পারে ঐ তিনজন ফারুক ইউছুফ সিন্ডিকেটের হলেও দল পাল্টে শুক্কুরের দলে নাম লিখিয়েছে।
তিনি আরো জানান, গত রোববার ও সোমবার আবারো অভিযান চালায় পুলিশ। গ্রেপ্তার করে তিন মাদক ব্যসায়ীকে। তিনি জানান, মাদক ব্যবসায়ী শুক্কুর দীর্ঘদিন ধরে বরিশাল কলোনিতে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ফের আস্তানা গড়ে তোলার চেষ্টা করছিল। পঙ্গু আরিফকে ভিক্ষুকের বেশে বরিশাল কলোনি ও স্টেশন কলোনির আশপাশে বসিয়ে দেওয়া হয়। ভিক্ষুকের বেশে থাকলেও তার কাছে থাকত ইয়াবা-ফেন্সিডিল। মাদকসেবীরা ভিক্ষুককে টাকা দেওয়ার মতো করে ইয়াবা-ফেন্সিডিল কিনে নিয়ে যেত। বিষয়টি জানতে পেরে ভিক্ষুকের বেশে থাকা পঙ্গু আরিফকে গ্রেপ্তারের পর তার দেওয়া তথ্যমতে বাকি দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে ওসি জানান।
সদরঘাট থানার ওসি নেজামউদ্দিন আজাদীকে জানান, আরিফ জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে- ১০ বছর আগে ট্রেনে কাটা পড়ে তার ডান পা বিচ্ছিন্ন হয়। এরপর থেকে সে বরিশাল কলোনিতে মাদক বিক্রির সঙ্গে যুক্ত হয়। সে গ্রেপ্তারকৃত রনির আপন শ্যালক। রনি ও শুভও শুক্কুরের গ্রুপের।

x