ভাষা আন্দোলনে নারীদের অবদান

মাধব দীপ

শনিবার , ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ at ৫:৫০ পূর্বাহ্ণ
43

সাত-আট বছর হয়ে গেলো আমি আমার কর্মস্থলে ‘বাংলাদেশ স্টাডিজ’ শিরোনামের একটি কোর্স শিক্ষার্থীদের পড়াই। অনিবার্যভাবেই এই কোর্সের আওতায় বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও ভাষা আন্দোলন সংশ্লিষ্ট কয়েকটি টপিক অন্তর্ভুক্ত থাকে। তো, ভাষা আন্দোলন সংশ্লিষ্ট একটি টপিক পড়াতে গিয়ে বলতে গেলে প্রায় প্রতি বছরই শিক্ষার্থীদের কাছে আমার সাধারণ জিজ্ঞাসা থাকে- ওই আন্দালনে অবদান রাখা কমপক্ষে দুইজন নারীর নাম। কিন্তু, কোনোবারই কোনো শিক্ষার্থী এর উত্তর দিতে পারেনি। সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার…পর্যন্ত ঠোঁটের অগ্রভাগে থাকে। কিন্তু, ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী কোনো সাহসী নারীর নাম কেউ বলতে পারে না। সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ অন্যান্যদের মহান আত্মত্যাগকে আমি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার সাথে স্বীকার করেই প্রশ্ন করতে ইচ্ছে করে- নারীদের বীরোচিত অবদানের ইতিহাস কেনো আমাদের এখনও মুখস্থ হয়নি? এর উত্তর আমি আজও মনের ভিতর ছাইচাপা দিয়ে রেখেছি।
কী কঠিনই না ছিলো তখন একজন নারীর বাইরে বেরোনো! তার উপর আবার আন্দোলন-সংগ্রাম!! অথচ এই আন্দোলন সংগ্রামেই নারীর সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল গর্ব করার মতো। ভাষা আন্দোলনে নারীর ভূমিকাগুলোকে গত প্রায় সাড়ে ছয় দশকেও রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি দেয়া হয়নি। অন্তত আমার জানা নেই। চলুন তাহলে জেনে নিই সেইসব মহীয়সি নারীর গৌরবগাথা।
কুমিল্লার এক সংগ্রামী নারী ছিলেন অধ্যাপিকা লায়লা নূর। সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে তাঁর পদচারণা ছিলো ঈর্ষণীয়। ১৯৪৮ সাল থেকে বায়ান্নর সব আন্দোলনেই তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিলো। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে পড়ার সময় থেকেই লায়লা নূর ভাষার জন্য আন্দোলনে যোগ দেন। তাঁর জন্ম ১৯৩৪ সালের ১ অক্টোবর কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার গাজীপুর গ্রামে। ১৯৫৭ সালে ভিক্টোরিয়া কলেজে শিক্ষকতায় যোগ দেন। ১৯৫২ সালে একুশে ফেব্রুয়ারি পালন করতে গিয়ে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে নির্যাতনের শিকার হন। তিনি তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ছিলেন।
১৯৫২ সালে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে যখন ছাত্রজনতা আন্দোলন শুরু করেন তখন দাবানলের মতো তা প্রতিটি জেলায় ছড়িয়ে পড়ে। ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে নড়াইলেও শুরু হয় ভাষা আন্দোলন। সেদিন ছাত্রজনতা আন্দোলনে যোগ দেয়ার জন্য সকল ছাত্রীদের আহ্বান জানালে নড়াইলে মাত্র তিনজন নারী একাত্মতা ঘোষণা করেন ও মিছিলে যোগ দেন। তাঁরা হচ্ছেন- সুফিয়া খাতুন, রিজিয়া খাতুন ও রুবি। রিজিয়া খাতুন তাঁদেরই একজন যিনি এখনও পর্যন্ত কোনো রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাননি। নড়াইল শহরের আলাদাতপুর এলাকায় বর্তমানে তিনি বসবাস করছেন।
ভাষা আন্দোলনে আরেক অগ্রণী নারী ড. সুফিয়া আহমেদ। নারী ভাষা সৈনিকদের অন্যতম সুফিয়া আহমেদের রয়েছে জীবনে আন্দোলনের রোমাঞ্চকর নানা স্মৃতি। জীবনে অনেক বিস্তৃত তাঁর কাজের পরিধি। আর প্রতিটি ক্ষেত্র থেকেই সযত্নে তিনি সফলতা তুলে এনেছেন। সুফিয়া আহমেদের বাবা ১৯৪২ থেকে ১৯৪৩ পর্যন্ত নিয়মিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ল’ বিভাগে ক্লাস নিতেন। সেই সময় মনের অজান্তেই শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন তিনি। ১৯৬১ সালে তাঁর দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন আলোর মুখ দেখে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে যোগ দেন তিনি। ওই বিভাগের অধ্যাপক নিযুক্ত হন ১৯৮৩ সালে। একজন অনন্য শিক্ষাব্যক্তিত্ব হিসেবে দেশের বাইরেও সুফিয়া আহমেদ পরিচিত। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশেও তিনি অধ্যাপনা করেছেন। শিক্ষা ও গবেষণা-সংক্রান্ত বিষয় ছাড়াও তিনি সংস্কৃতি, নারী উন্নয়নে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার প্রতিনিধি হয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেছেন। ১৯৫২ সালে তিনি তুরস্কে পাকিস্তান সাংস্কৃতিক প্রতিনিধিদলের ছাত্রী সদস্য হিসেবে পূর্ব পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করেন।
আরেক নারী ভাষাসৈনিক তৎকালীন ফেনী মহকুমার শশ্মদ ইউনিয়নের জাহানপুর গ্রামের ড. শরিফা খাতুন। জন্ম ১৯৩৬ সালের ৬ ডিসেম্বর। ১৯৫১ সালে নোয়াখালী সদরের উমা গার্লস স্কুল থেকে তৎকালীন ম্যাট্রিক পাস করেন। ১৯৫৩ সালে ইডেন কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক, ১৯৫৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ে অনার্স এবং ১৯৫৮ সালে এমএ পাস করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে স্কুলের ছাত্রী থাকাকালীন ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের দু’একটি মিছিলেও তিনি অংশ নেন। তখনো ভাষা আন্দোলন শুরু হয়নি। ১৯৪৭ সালের আগস্টে দেশভাগের পর ভাষা আন্দোলন প্রসঙ্গটি প্রকাশ্যে আসে। মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ৪৮ সালে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার ঘোষণা দেন। তখন আন্দোলনটা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। স্কুলের ছাত্রীরা সে মিছিলে অংশ নেয়। মূল আন্দোলন ঢাকায় হলেও ওই সময় বাংলা ভাষার ব্যাপারে বাঙালিদের মধ্যে একটা জাতীয় চেতনা তৈরি হয়ে গিয়েছিল।
প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিন ’৫২-এর ২৭ জানুয়ারি জিন্নাহ’র ঘোষণার পুনরাবৃত্তি করেন। পাকিস্তানের সে সময়ের নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রীর এ ঘোষণার পরপর আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাাম পরিষদ ৩০ জানুয়ারি এক ধর্মঘট আহ্বান করে। ৩১ জানুয়ারি আওয়ামী মুসলিম লীগ সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে ঢাকা বার লাইব্রেরিতে সর্বদলীয় এক সভা হয়। সভায় ২১ ফেব্রুয়ারি প্রদেশব্যাপী অর্থাৎ পূর্ব পাকিস্তানে হরতালের ডাক দেয়া হয়। গঠিত হয় সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ।
১৯৫৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি আরেকটি বড় ধরনের ঘটনা ঘটে। অনেক ছাত্রী গ্রেফতার হয়। অনেককেই সেদিন ১৪৪ ধারা ভাঙার দায়ে পুলিশ ট্রাকে উঠিয়ে নিয়ে যায়। সেদিন গ্রেফতার হওয়া ছাত্রীর সংখ্যা ছিল ২০ থেকে ২১ জন। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের অধ্যাপক লায়লা নূরও ছিলেন তাঁদের সঙ্গে। ছিলেন শরীফা খাতুনও। ’৫৫-এর ২১ ফেব্রুয়ারি ছাত্রীরা গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে সরকারের টনক নড়ে। পরের বছর বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয় পাকিস্তান সরকার। ৫৬ সালের সংবিধানে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দেয়।
ভাষা সংগ্রামী অধ্যাপক চেমন আরা ১৯৫১ সালে ঢাকার সরকারি কামরুন্নেসা বালিকা বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিক, ১৯৫৩ সালে ইডেন কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাস করেন এবং পরবর্তী সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় ১৯৫৬ সালে বিএ অনার্স ও ১৯৫৭ সালে এমএ পাস করেন। তিনি সক্রিয়ভাবে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন।
১৯৪৮ সাল থেকেই ‘তমদ্দুন মজলিস’-এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে আন্দোলনে সরাসরি অংশ নেন। ১৯৩৫ সালের ১ জুলাই চেমন আরার জন্ম চট্টগ্রাম শহরের চান্দগাঁও থানার ঐতিহ্যবাহী মৌলভি বাড়িতে। বাবা এ এস এম মোফাখ্‌খর ছিলেন বিভাগ পূর্বকালে কলকাতা হাইকোর্টের একজন খ্যাতিমান আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ এবং মা দুরদানা খাতুন ছিলেন একজন গৃহিণী। নারায়ণগঞ্জের নবীগঞ্জ বালিকা বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে তাঁর কর্মজীবন শুরু। অতঃপর বেশ কয়েকটি কলেজে অধ্যাপনা শেষে ১৯৯৩ সালে তিন তিতুমীর কলেজ থেকে অবসর নেন। সরকারি চাকরি থেকে অবসর নিয়ে কিছুদিন কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদীতে অবস্থিত ডা. আব্দুল মান্নান মহিলা কলেজের প্রিন্সিপাল হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। সাপ্তাহিক সৈনিকে ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম গল্প।
ভাষাসংগ্রামী প্রতিভা মুৎসুদ্দি ১৯৪৮ সালে অষ্টম শ্রেণিতে অধ্যয়নকালে মুহম্মদ আলী জিন্নাহ উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার পক্ষে প্রদত্ত বক্তব্যের প্রতিবাদ মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন। তখন তিনি চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার মহামুনি এ্যাংলো পালি ইনস্টিটিউটের ছাত্রী। ১৯৩৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর তিনি রাউজানের মহামুনি পাহাড়তলী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবার নাম- কিরণ চন্দ্র মুৎসুদ্দি ও মায়ের নাম- শৈলবালা। তিনি ১৯৫১ সালে ম্যাট্রিক, ১৯৫৩ সালে চট্টগ্রাম কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট এবং ১৯৫৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে অনার্স পাস করেন। রাজনৈতিক কারণে যথাসময়ে এমএ পরীক্ষা দেয়া সম্ভব হয়নি, ফলে ১৯৫৯ সালে এমএ পাস করেন। ১৯৬১ সালে ময়মনসিংহ মহিলা শিক্ষাপ্রশিক্ষণ কলেজ থেকে বিএড ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৬১ সালে কক্সবাজার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু। ১৯৬২ সালে গাজীপুর জেলার জয়দেবপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে যোগদান করে বছরখানেক সেখানে শিক্ষকতা করেন। ভারতেশ্বরী হোমসে অর্থনীতির প্রভাষক হিসেবে ১৯৬৩ সালে যোগদান করেন এবং একমাস পর ভাইস প্রিন্সিপাল পদে উন্নীত হন। ১৯৬৫ সালে ওই প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল এবং ১৯৬৭ সাল থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে প্রিন্সিপালের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি কুমুদিনী ট্রাস্টের পরিচালক হিসেবেও দীর্ঘদিন কর্মরত ছিলেন। এই কল্যাণময়ী নারী ভাষাসংগ্রামী আমাদের সমাজের এক মহান আদর্শ ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।
অপর এক নারী ভাষাসংগ্রামী রওশন আরা। তিনি সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের আহ্বানে ভাষা আন্দোলনে অংশ নেন। সরকার পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য ২০ ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধারা জারি করে। এ সময় যেসব ছাত্রছাত্রী ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করাকেই আন্দোলনের জন্য প্রয়োজন মনে করেন, রওশন আরা ছিলেন তাঁদের মধ্যে একজন। বাগেরহাট জেলার বাদেকাড়াপাড়া গ্রামের মেয়ে হালিমা খাতুন। তাঁর জন্ম ১৯৩৩ সালের ২৫ আগস্ট। ১৯৬৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব নর্দান কলোরাডো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষার ওপর পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। মুসলিম গার্লস স্কুল ও বাংলাবাজার গার্লস স্কুলের ছাত্রীদের আমতলায় নিয়ে আসার দায়িত্ব ছিলো হালিমা খাতুনের ওপর। ১৪৪ ধারা ভাঙার পক্ষে বক্তব্য দেয়ার পরপরই স্লোগানে কেঁপে ওঠে আমতলা। ‘রাষ্ট্র ভাষা বাংলা চাই’- স্লোগনে মুখরিত হয় চারপাশ। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী- ১৪৪ ধারা ভেঙে প্রথম বের হয় মেয়েদের ৪ জনের একটি দল। জুলেখা, নূরী, সেতারার সঙ্গে হালিমা খাতুনও ছিলেন তখন। তাঁদের ওপর পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও লাঠিচার্জ করতে থাকে। এ টিয়ার গ্যাসের যন্ত্রণা সহ্য করে স্লোগান দিতে-দিতে এগিয়ে যান তাঁরা কিন্তু বেশি দূর এগুতে না পেরে ঢাকা মেডিকেল কলেজের মধ্যে ঢুকে পড়েন। এক পর্যায়ে পুলিশ গুলি চালালে হতাহতের ঘটনা ঘটে। হতাহতদের মেডিকেল কলেজে নিয়ে আসা হয়। হালিমা খাতুন তাঁর সাথীদের নিয়ে বিভিন্ন রকম সেবা ও সহযোগিতার মাধ্যমে আহতদের সুস্থ করে তোলার চেষ্টা করেন।
এ রকম আরও অনেক নারী ভাষা আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে গেছেন। প্রকৃতপক্ষে- পুরুষের পাশাপাশি নারীর অংশগ্রহণমূলক অবদানের কারণেই আজ আমরা বাংলায় কথা বলতে পারছি। লাভ করেছি বাংলা ভাষার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। ইউনেস্কো আমাদের ভাষা আন্দোলনের প্রতি সম্মান জানিয়েই ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এটি বাংলা ভাষা ও বাঙালির জন্য একটি বিরাট সম্মানের বিষয়। যেমন- সম্মান ও গর্ব করার বিষয় তাতে আমাদের নারীদের অংশগ্রহণ।
তাই, ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখা নারীদের কথা বলতে হবে। বারবার বলতে হবে। একাডেমিকভাবে বলতে হবে। গল্পচ্ছলেও বলতে হবে। প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই ইতিহাস মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের মতোই অবশ্যপাঠ্য করতে হবে। নইলে তা হবে তাঁদের মহান অবদানকে অস্বীকার করার সামিল। দেশের প্রধানমন্ত্রী নারী, স্পিকার নারী, শিক্ষামন্ত্রী নারী, নির্বাচিত ও সংরক্ষিত আসনে নির্বাচিত অর্ধশতাধিক নারী সাংসদ, এমনকি বিরোধী দলেও নারী নেতৃত্বের কমতি নেই। কিন্তু তারপরও পুরুষতন্ত্রের প্রাবল্য ও প্রচলিত ঐতিহাসিক কড়চা ভাষা আন্দোলনে আমাদের নারীদের বীরোচিত অবদানকে ছায়াচ্ছন্ন করে রেখেছে। আমার শিক্ষার্থীরা বাদেও শিক্ষিত, উচ্চ শিক্ষিত অনেককেই অনেকবার জিজ্ঞেস করেছি, কিন্তু কেউ একজন ভাষা আন্দোলনে অবদান রাখা কমপক্ষে দুইজন নারীর নাম তাৎক্ষণিকভাবে বলতে পারেন না। এর ভার কে নেবে? এই লজ্জার দায় কার?
তথ্যঋণ: দেলোয়ার জাহিদ, বাংলাদেশ হেরিটেজ মিউজিয়াম এর সভাপতি

x