ভালো থাকুক প্রবীণ সদস্যটি

মেহজাবীন পায়েল

রবিবার , ৭ জুলাই, ২০১৯ at ১১:০২ পূর্বাহ্ণ
27

আজকে আমরা টগবগে তরুণ। এক সময় কিন্তু আমরা এমন তরুণ ছিলাম না। আবার সারাজীবনও আমরা এমন তরুণ থাকবো না। একটা মানব শিশুর যখন জন্ম হয়, ধীরে ধীরে সে শিশু বড় হতে হতে একসময় যুবক এবং যুবক থেকে একসময় আবার জীবনের শেষ সময়ে এসে বৃদ্ধ হয়ে যায়।
একজন মানুষের যুবক বয়সে যতটা মানসিক এবং শারীরিক শক্তি বা বল থাকে আস্তে আস্তে বৃদ্ধ বয়সে তা কমে কমে একেবারে তলানিতে এসেই কিন্তু থামে। আর তাই এই বৃদ্ধ বয়স আর সেই শিশু বয়সের পার্থক্য কেবল নির্দিষ্ট কিছু সংখ্যার পার্থক্যই তা বৈ আর কিছুই নয়। অথচ আমরা কি করি, একটা শিশুকে কতটা আদর স্নেহ মায়া মমতা কেয়ারিং ইত্যাদি দিয়ে বড় করি আর তার তুলনায় আমাদের ঘরে আমাদের সাথে আমাদের দাদা-দাদী নানা-নানী অথবা বাবা মা শ্বশুর শাশুড়ী বয়োজ্যেষ্ঠ যারা থাকেন তাদের কতটা বোঝা আমরা মনে করি।
সবাই এক না এটা যেমন ঠিক তেমনি এটাও কিন্তু অস্বীকার করার উপায় নেই ইদানিংকালে আমাদের সমাজের বয়োজ্যেষ্ঠরাই কিন্তু সবচেয়ে বেশী অবহেলিত আর উপেক্ষিত হচ্ছেন। এই আধুনিক যুগে সংসারের স্বামী স্ত্রী দুজনেই যেখানে চাকরি করেন,অতিমাত্রায় ব্যস্ত থাকেন মনে প্রশ্ন উঠতেই পারে কীভাবে দেখাশোনা করবেন আবার ঘরে থাকা বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের!
আরে ভাই,
মনে যদি থাকে ভাব-
অযুহাতের খুব অভাব।
এ কথাটি কিন্তু অতিমাত্রায় সত্যি। ঘরে আপনার সাথে বসবাস করা বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের দেখাশোনা করার জন্য সবার আগে আপনাকে উদার করতে হবে। মনে রাখতে হবে এই উনাদের জন্যই আজকের দিনের আপনি বা আপনার লাইফ পার্টনার। বয়সের জীর্ণতায় আজকে তারা এত অসহায় কিন্তু কোনকালে কোন এক সংসারের হাল তারাও ধরেছিলেন।অসংখ্য কর্মব্যস্ত দিনের পর দিন তারাও পার করে এসেছেন।
সর্বোপরি তারা এখনো মানুষ, তাদের স্বাদ আহ্লাদ ইচ্ছা অনিচ্ছা কিছুই এখনো একেবারে শেষ হয়ে যায়নি।তাদের আবেগ অনুভূতিকে শূণ্য মনে করার কোন উপায়ই আপনার নেই। তাই ঘরে থাকা অন্যান্য সকল সদস্যদের মতন তাদেরও যত্ন নিতে হবে,সময় দিতে হবে। এবং পরিবারের যে কোন ইস্যুতে তাদের মতামতকেও যথাযথ মূল্য দিতে হবে। বয়োজ্যেষ্ঠদের দেখাশোনার সুবিধায় নীচের তালিকাটি ফলো করতে পারেন।
১.পরিবারের অন্য সব সদস্যদের মতন বয়োজ্যেষ্ঠদেরও একটা খাবার তালিকা করে ফেলুন। তারা কি খেতে চায় কি খেতে পারবে ইত্যাদি প্রায়োরিটি দিবেন অবশ্যই।
২. প্রতিদিন অন্তত তিনবেলা পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠদের খোঁজখবর নিন। অফিসে বা অন্য কোথাও থাকলে সেখান থেকেই অন্তত ফোনে খোঁজখবর নিতে পারেন।
৩. বিকেলে নাস্তার টেবিলে বয়োজ্যেষ্ঠদের হালকা পছন্দসই খাবার পরিবেশন করুন এবং তাদের সাথে কিছুক্ষনের জন্য বৈকালিক আড্ডাও দিতে পারেন।
৪. সময় থাকলে এবং সম্ভব হলে প্রাতভ্রমণ এবং বৈকালিক ভ্রমণে তাদেরকে সাথে নিয়ে যান।
৫. প্রতি দু মাস বা প্রয়োজন অনুযায়ী তাদেরকে একবার ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান রেগুলার রুটিন চেক আপের জন্য।
৬. যদি তারা আর নড়াচড়া করতে অক্ষম হন এবং সারাক্ষণ বিছানাতেই থাকেন তবে সম্ভব হলে একজন সার্বক্ষণিক আয়া বা একজন নার্স রেখে দিন।
৭. এবং সবসময়ই তাদের পোশাক-আষাক, ওষুধপাতি এবং হাতখরচের ব্যাপারেও আলাদা যত্নবান হোন।
৮. পরিশেষে বাসায় বাচ্চা থাকলে বয়োজ্যেষ্ঠদের সাথে তাদের নিয়মিত মিশতে দিন। এতে বাচ্চাদের মানসিক বিকাশ যেমন ভালো হবে তেমনি বয়োজ্যেষ্ঠদের সময়ও অনেক ভালো কাটবে।
একটা মানুষের ঝরে পড়ার সময়টাই কিন্তু তার বয়োবৃদ্ধ বয়স। এই সময়ে এসে সব মানুষ একরকম থাকেন না।কেউ অনেক শিশুসুলভ হয়ে যান আবার কারো কারো মেজাজ একটু বেশি খিটখিটে হয়ে যায়। যাই হোক না কেন প্রচণ্ড আন্তরিকতা এবং ধৈর্য্য সহকারে আপনাকেই আপনার পরিবারের এই বয়োবৃদ্ধদের দেখাশোনা করতে হবে।

x