(ভালোবাসা যুগে যুগে)

জেবারুত সাফিনা

বুধবার , ১২ জুন, ২০১৯ at ৫:২৯ পূর্বাহ্ণ
28

: ভালোবাসা শব্দটি আমাদের জীবনের সাথে জড়িত ওতপ্রোতভাবে। তবে এর বহিঃপ্রকাশ কিন্তু সব মানুষের ক্ষেত্রে এক নয়। আর ভালোবাসা যে প্রকাশ করতে হয় এটিও অনেকে জানে না, যারা জানে না চেপে যায়, তারা সারাজীবনে কোন না কোন সময় আক্ষেপ নিয়ে বাঁচে এবং তাদের বুক চিরে আক্ষেপের দীর্ঘশ্বাস জীবনের অবসর মুহূর্তগুলোতে কমবেশি ভোগায় যাকে আমরা বলে থাকি নস্টালজিয়া। এ ভালোবাসায় মানুষের জীবনের প্রেমের কথাটাই ইংগিত করে। তবে ভালোবাসার রয়েছে বিভিন্ন প্রকারভেদ, যেগুলোর ঘাটতি জীবনকে করে দিতে পারে লন্ডভন্ড, যতটা না প্রেম সম্পৃক্ত ভালোবাসার ক্ষেত্রে হয়। যেমন–জন্মের পর আপনি পিতৃস্নেহ /মাতৃস্নেহ থেকে বঞ্চিত হলেন!
এটি এমন একটি ভালোবাসা যা না পেলে পুরো জীবনটাই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হতে পারে। এরপর বলতে পারেন সম্পূর্ণ পারিবারিক আবহে যে ভালোবাসা তাও বড়ো ‘অমূল্য ধন’ যার অভাবে মানুষ হয়ে যেতে পারে ‘মানসিক প্রতিবন্ধী’। এরপর ধরুন পরিবারে যেসব কাজ কায়িক পরিশ্রম ছাড়া হয় না তা আমরা গৃহকর্মীর উপর (তার বয়সটাও বিবেচনায় আনি না) চাপিয়ে দিয়ে একটু ও কি ভেবে দেখি ও একজন মানুষ যার জীবনেও ভালোবাসা প্রয়োজন! ঠিকা ঝি তাদেরও আমরা কায়িক পরিশ্রম করানোর জন্যই নিয়োগ দিয়ে থাকি এবং একবারও কি আমরা ভেবে থাকি ওর বোঝাটা একটু হালকা করে দেই! আমরা এও জানি তারা দিনে অন্তত ৩/৪টা বাসায় কাজ করে একটু ভালো থাকার জন্য। যদি পারি আমি তার কাজ একটু কমিয়ে দিতে,এটিও তার প্রতি আমার ভালোবাসার মাহাত্ম্য। (প্রতিদিন না হলেও মাঝে মাঝে)। এরপর শেষের বাঁশি বাজানোর আগে বলি, “সৃষ্টির সেরা জীব” বলেছেন সৃষ্টিকর্তা আমাদের, সৃষ্টি কিন্তু উনি করেছেন ভালোলাগা থেকে বড়ই ভালোবাসা থেকেই তা না হলে এতো প্রাচুর্য, এতো ভোগের সামগ্রী ছড়িয়ে ছিটিয়ে উনি রেখেছেন আমরা বুঝেও অনেকটা নির্বোধের মতোই ‘জীবন পথ’ মাড়াই কেনো এরকম করি যা করা একেবারেই অনুচিত। আমার ভালোবাসা হারিয়ে গেছে সেই শিশু বয়সে কিছু বুঝে উঠার আগেই তাই বলে আমি যা পাইনি তা আমার সন্তানেরা,আমার প্রতিবেশী, আমার বন্ধু বান্ধব এমন কি আমার যারা পরিচিতজন তাদের সন্তানেরা সেই “দুষপ্রাপ্য অথচ অতীব প্রয়োজনীয়’ ভালোবাসা পেয়ে যাক সারাটা জীবন এই কামনা করে যাব অহর্নিশ।

x