ভালবেসে ছেড়ে দেব সব অধিকার

বিদ্যুৎ দেব

শুক্রবার , ২৩ মার্চ, ২০১৮ at ৫:০০ পূর্বাহ্ণ
117

কবি কোহিনূর আকতার জীবনকে দেখেন অত্যন্ত সরল দৃষ্টিতে। তিনি উপলব্ধি করেন আবহমান কাল ধরে চলে আসা নিরন্তর প্রাণের প্রবাহ। চীনা দার্শনিক কনফুসিয়াস বলেছিলেন: ‘জীবনটা আসলে খুবই সাধারণ, আমরা নিজেরা তা জটিল করে তুলি।’ মনীষীর এই বাণীটি তিনি অনুধাবন করেন এবং নিজের প্রত্যহিক জীবন প্রণালীর ধারায় তা যুক্ত করেন বিশ্বাস ও অন্তর দিয়ে। উদ্ভিদ ও প্রাণিজগৎ-সবার মধ্যেই চিরন্তন প্রাণের প্রবাহ বয়ে চলে উত্তরসূরিদের মধ্য দিয়ে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম আমরা জীবন যৌবনের নির্যাস গ্রহণ করে চলেছি। মানুষের মন আর প্রকৃতির অনন্ত ভান্ডারকে দারুণভাবে চিত্রণকরেছেন কোহিনুর আক্তার তাঁর কবিতায়। কখনো ছন্দে, আবার কখনো গদ্যে এগিয়ে গেছে তাঁর কাব্যনদী। এই নদীতে সমধারায় প্রবহমান জীবনের গতি। তাই কখনো উচ্ছলতা, আবার কখনো গতিরোধকতা প্রত্যক্ষ করি তাঁর রচনায়। ভালোবাসাকে আঁকড়ে ধরে একবার ভালোবাসাকে ছেড়ে দেওয়ার বৈপরীত্যের ছায়া প্রশংসনীয়। রবীন্দ্রনাথ যেমন বলেছিলেন, ‘যদি আর কারে ভালোবাসো, যদি আর ফিরে নাহি আসো, তবে তুমি যাহা চাও, তাই যেন পাও, আমি যত দুঃখ পাই গো’। ঠিক তেমনি কোহিনুর আকতার বললেন, ‘ভালবেসে ছেড়ে দেব সব অধিকার’। তাঁর কবিতাগুলো সহজিয়া রূপ ধারণ করে পাঠকের মনে দোলা দেয়। তিনি কবিতায় প্রকাশ করেন তাঁর নিজেরই কথা: আমার আছে ব্যথার বোঝা, সুখও কাড়ি কাড়ি/অল্পতে তুষ্ট জীবন, নেই কিছুতে বাড়াবাড়ি।
আবার ‘বিশ্বাসে হারাবো বারবার’ কবিতায় কবিকে দেখা যায় প্রিয়জনের কাছে সমর্পণের অভিপ্রায়। কবি বলেন : আমিও বহমান, নই এঁদোপুকুরণ্ডআমাকে যেতেই হবে, তুমি যাবে যতদূর। বিশ্বাসে হারাবো বারবার। নয়তো একই সাথে ফিরবো আবার!
কোহিনুর আকতার সহজিয়া ধারার কবি। তাঁর লেখায় ধরা পড়ে সমাজের মানুষের দৈনন্দিন রূপ। ‘অন্তর্জালে অন্তঃজলে’ কাব্য গ্রন্থের পর ‘ভালবেসে ছেড়ে দেব সব অধিকার’ পাঠক মনকে আকর্ষণ করবে নিঃসন্দেহে। আমি গ্রন্থটির বহুল প্রচার কামনা করি।

x