ভারতীয় হাই কমিশনের মালহার ফেস্টিভাল

বিপ্লব বড়ুয়া

বৃহস্পতিবার , ২৯ আগস্ট, ২০১৯ at ১০:৩২ পূর্বাহ্ণ
26

মালহার ফেষ্টিভাল। এ নামের সাথে আমি নতুন। মালহার নামটি পত্রিকার পাতায় দেখার পর থেকে মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিল। তবে নামের মধ্যে উচ্চমার্গীয় সংগীতের যোগসূত্রের রেশ খুঁজে পাচ্ছিলাম। পরবর্তিতে তেমনটিই হলো। বর্ষার আগমনকে কেন্দ্র করে এই মালহার এর উৎপত্তি। ভারতীয় হাই কমিশন চট্টগ্রামের অনিন্দ্য ব্যানার্জী তা চমৎকার ভাবে ব্যাখ্যা করলেন। শাস্ত্রীয় সংগীতে মালহার একটি প্রধানতম রাগ। ভারতীয় উপমহাদেশে এটির গুরুত্ব অপরিসীম। শাস্ত্রীয় সংগীতের ধারা যারা রপ্ত করেন তাদের কাছে মালহার শব্দটি খুব পরিচিত। কিন্তু তেমন একটা গাওয়া হয়না। কারণ এটি এমন একটি রাগ সুর এবং তালের মধ্যে অনেক কিছু জড়িয়ে আছে। আর এজাতীয় রাগে শ্রোতা পাওয়াও দুস্কর।
বাংলাদেশ ও ভারত সরকার কর্তৃক সংস্কৃতি বিনিময় চুক্তির অংশ হিসেবে এজাতীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবী রাখে। সেদিন চট্টগ্রাম থিয়েটার ইনিষ্টিটিউটের নতুনরুপে সজ্জিত সুবিশাল মিলনায়তনটির আর একটি আসনও বাকী ছিল না। আমার পর যারা প্রবেশ করেছে তারা ঘন্টার পর ঘন্টা ঠাই দাঁড়িয়ে থেকে অনুষ্ঠান উপভোগ করেছে।
ভারতীয় দূতাবাসের সহকারী হাই কমিশনার চট্টগ্রাম এর মি. অনিন্দ্য ব্যানার্জির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন ঘোষণা করেন সংসদ সদস্য ওয়াসিকা অয়েশা খান। প্রধান অতিথি ছিলেন দৈনিক আজাদীর সম্পাদক এম.এ মালেক। বিশেষ অতিথি ছিলেন কাউন্সিলর জহর লাল হাজারী।
অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ ছিল ভারত থেকে আগত প্রখ্যাত সরোদ বাদক পণ্ডিত দেবজ্যোতি বোস এর সুরের বাদন এবং তাঁর সহযোগি তবলা বাদক শুভংকর ব্যানার্জীর অনন্য বাদন আর পণ্ডিত স্বর্ণময় চক্রবর্তির শাস্ত্রীয় সংগীত পরিবেশনা উপভোগ করতে সেদিন সংগীত ও সংস্কৃতিপ্রেমীদের মেলা বসেছিল থিয়েটার ইস্টিটিউটে। স্বর্ণময় চক্রবর্তী পরিবেশন করেন ‘মেঘমাল্লার’ রাগ পরে তাঁর উস্তাদ প্রয়াত নীরদ বরণ বড়ুয়া রচিত ‘ঠুমরী’ গেয়ে মঞ্চ ত্যাগ করেন। তাঁর সাথে বিভিন্ন যন্ত্রীতে ছিলেন তবলায় সবুজ আহম্মেদ, বেহালায় শ্যামল চন্দ্র দাশ, হারমোনিয়ামে প্রমিত বড়ুয়া, তানপুরায় ফাল্গুনী বড়ুয়া ও তিথিনু মার্মা।
পরে মঞ্চে আসেন সরোদ বাদক দেবজ্যোতি বোস। তিনি বলেন, মার্গ সংগীত প্রচারের যে প্রয়াস তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। চিটাগাং-এ আমি আগেও বাজিয়েছি কিন্তু খুব কম জায়গায় এরকম ভালো শ্রোতা পেয়েছি। শিল্পী বলেন, সংগীতের দেশ জাত বলতে কিচ্ছু নেই। সংগীতের সুর পৃথিবীর সর্বত্রই একভাবেই ঘুরে। ভৌগলিক বা রাজনৈতিক বেড়াজাল আমাদের হৃদয়কে কখনো আলাদা করতে পারেনি। হৃদয় সবসময় একই হয়ে রয়েছে। এখানে আসলে সবসময় ভালে লাগে। ধবধবে সাদা পঞ্জিাবী-পায়জামা, মাথায় সাদা চুল মুখে ফ্রেঞ্চ কাটের ষ্টাইলিস্ট দাড়ি শিল্পীকে এক পলক দেখেই যেন শ্রোতারা মুগ্ধ হয়ে গেল। শিল্পীর সহযোগী হিসেবে মঞ্চে আসেন প্রখ্যাত তবলার উস্তাদ শুভংকর ব্যানার্জী, তানপুরায় ছিলেন মুনিত পাল। তিনি দেশ রাগ, আলাপ, ধামারেগদ, দ্রুতগদ বাজিয়ে শোনান। পুরো অনুষ্ঠানেটির সঞ্চালনায় ছিলেন আবৃত্তিকার মিলি চৌধুরী। সবকিছু মিলিয়ে একটি অসাধারণ অনুষ্ঠান উপহার দিয়েছে ভারতীয় হাই কমিশন চট্টগ্রাম। আর চট্টগ্রামের শিল্প-সাহিত্য, সংস্কৃতি অনুরাগীরা উপভোগ করলো অনিন্দ্য সুন্দর এক সুরেলা সন্ধ্যা।

x