ভাগ্যধন বড়ুয়ার কবিতা

শুক্রবার , ১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ at ৬:১৫ পূর্বাহ্ণ
35

প্রহরায় রেখো সারাক্ষণ
জানি না!
কতোটা অনুরাগ আর কতোটা করুণা
অসহায় করো না,জড়িয়েই থাকো,
হেলানো বেলায় মাঝপথে কেটে পড়ো না!
বিকেলের ছায়া দৈর্ঘ্যে কিছুটা বেড়েছে
আর বেশি দেরি নেই,দিগন্তের বৃত্তচাপ
কালোরঙ ঘন হয়ে বৃক্ষতলে ভিড়
যাই মনে থাক সনে, অনুকম্পা করো,হাসিমুখ রাখো…
ভেলা ভাবি অবলীলায় তোমাকে; ভাসবো-বাঁচবো
জলে ফেলে গেলে সাঁতার না জানা আমার কী হবে বুঝো না?
আমি চলে যাবো ঠিক আশ্বিনের ভোরে;
কিছু কাজ সূচি ধরে বাকির খাতায়
প্রচেষ্টায় আছি, প্রলম্বিত বেদনার পথ…

জানো না!
ভাঙাচোরা মনে তোমার সম্মতিই প্রেরণা
প্রহরায় রেখো সারাক্ষণ, দূরে কোথাও যেও না…

দেখেছি পাতাঝরা বাটালী হেমন্তে

সবুজ বিন্যস্ত সব; পুরনো নিয়মে
মাঝে মাঝে রঙ কমে বিবর্ণ কিছুটা
নিয়ম-আরামে পার হয় বেলা-খেলা
অনেকে জড়িয়ে আছে তবুও একেলা!

সবইতো চেনা লাগে; বহুদিন ধরে দেখা
হেঁটেছি পথের ধারে, একই গন্তব্য
মন্তব্য পকেটে জমা, সামান্য সঞ্চয়
মুখোশ আড়াল জুড়ে অসত্য বয়ান…

আমিও আড়াল হবো বাটালী পাহাড়ে
বৃক্ষশাখা আচ্ছাদনে পাখিদের সহোদর
প্রজাপতি প্রাণবন্তে উড়াবো দু্থডানা
রোদে-ঝড়ে বৃক্ষতলে আদর আশ্রয়।

নিয়তির তরি

নদীঘেরা পলিচরে বসতি আমার ;
কুহু স্বরে পার হই জলের শরীর।
নৌকা ভাসে,শব্দ হাসে,দাঁড়ের সোদর
ভালো লাগে জল,চর,মিহিবালি সুখ…

বর্ষায় বাড়ন্ত দেহ,নুড়িতে আবেগ ঢেলে প্রসব বেদনা
উড়িয়ে-গড়িয়ে এলো পাড়ের সীমায়
পরিমিত নীতি নিয়ে সমরূপে গতি
বেড়াজালে ভিড়ে আমি নিয়তির তরি…

আমারও ঝিমুনি হয় সন্ধ্যার পাঠে
আমারও ঝাঁকুনি হয় বোধের উঠোনে
বুঝে নিতে কিছুক্ষণ অনায়াসে কাটে
ততোক্ষণ মনোতলে তরঙ্গফেনা…

মনে হয় নিয়মের ঘেরাটোপে দিন-রাত
মনে ভাসা কথামালা অবিরাম জায়মান
কানে কেউ বলে যায়;
অধিক সবুজ মন জেগে ওঠা চরে…

আদিম আগুন

গুহাযাপনে পাথর ও আগুনের স্বজন ছিলাম
শুরুতে কুঠিরে রাখা কাঠপোড়া কথা কারে শোনালাম তবে!
ওহো, মনে পড়লো ; ভাসালাম ভাব নুড়িতে গড়িয়ে পড়া জলে…

প্রলেপে মসৃণ হলো অনাবৃত দেহ
দূরত্বের দাঁড়ি মাটি ও আমার
গতির বাতাসে বাড়ে রোদের ওজন
খসে পড়ে ক্ষয়ে যায় একদা সবুজ তরু…

তারপর কতো জল কতো ঢেউ ফেনায়িত কাল
আবরণ যতো বাড়ে ততো নড়ে খুঁটি
তোতাপাখি শিখে নেয় প্রচলিত বোল
খোলের আওয়াজ বলে ; মায়া দে ছায়া দে চুপচাপ রই!

বল্লম আমার দিকে মৃগনাভি খোঁজে কারা রোমশ আঁধারে!
বণিক শিকার করে সোনায় মোড়ানো ভোর, মিহি জ্যোৎস্না
শিখিনি সাঁতার আমি কোন্‌ স্রোতে কতো টান!
ঠোকর খেয়েছি কতো যতোদূর পথের পরিধি…

শ্বাপদসংকুল কালে কার কাছে জানাবো নালিশ?
গুহার আগুন নিয়ে পোড়াবো মুখোশি ইবলিস!

- Advertistment -