ভর্তার ক্ষেত্রে তেলের ব্যাপার নেই

নাজমুস সাকিব রহমান।

মঙ্গলবার , ৪ জুন, ২০১৯ at ১১:০১ পূর্বাহ্ণ
1059

মানিক হোসেন বাবু। পেশায় একজন হোটেল ব্যবসায়ী। নগরীর খুলশী,
পাহাড়তলী কলেজ রোডের মেম্বার হোটেলটির বর্তমান উত্তরাধিকার তিনি। ভর্তার জন্য বিখ্যাত এই হোটেল। তার সঙ্গে কথা বলেছেন

সাকিব : মেম্বার হোটেলের বয়স কত এখন?
বাবু : এটার শুরুটা হয়েছিল ১৯৭৪ সালে। আমার বাবা করেছিলেন। আমি আশির দশকের পরে যুক্ত হই। খুব কম বয়স তখন। সে-হিসেবে মেম্বার হোটেলের বয়স এখন চল্লিশ বছরের বেশি হয়ে গেছে।
সাকিব : এখন এখানে একদিনে কত মানুষ খায়?
বাবু : হাজার খানেক থেকে আরেকটু বেশি হওয়ার কথা। আমার হোটেলের কাস্টমার মূলত স্টুডেন্টরা। ভেটেনারি বিশ্ববিদ্যালয়, পোর্ট সিটি বিশ্ববিদ্যালয়, ইউএসটিসি, বিজিএমই’র স্টুডেন্টরা এখানে খায়। যেহেতু আমার হোটেলে খাবারের দাম-টাম একটু কম, ওরা সহজেই এখানে আসে।
সাকিব : চট্টগ্রামের নানা জায়গা থেকে লোকজন এই হোটেলে খেতে আসে। এই ব্যাপারটা কি তারা আপনাকে জানায়?
বাবু : হ্যাঁ। মহেশখালী, ফটিকছড়ি এরকম অনেক দূরের জায়গা থেকে অনেকে এখানে খেতে আসে। তখন আমি নিজেই তাদের খাবার সার্ভ করি। এটা আসলে এমএলএম ব্যবসার মতো। একজনের খেয়ে ভালো লাগলে আরেকজনকে জানায়। এভাবে নামটা ছড়িয়ে গেছে। এখন তো অনেকে খাওয়ার পর ফেসবুকে পোস্ট করে দেয়। সেই পোস্ট পড়েও অনেকে খেতে আসে।
সাকিব : আপনাদের এই হোটেল ভর্তার জন্য বিখ্যাত। বাবু : ১৫-২০ রকমের ভর্তা পাওয়া যায় এখানে। এটা কীভাবে শুরু হলো?
বাবু : আসলে হোটেলের খাবার মানেই মাছ-মাংস; এরকম একটা ব্যাপার আছে। তাছাড়া খাবারে প্রচুর তেলের ব্যবহার নিয়ে অভিযোগ তো আছেই। এটা ভেবেই ভর্তার কথা ভাবা। ভর্তার ক্ষেত্রে তো তেলের ব্যাপার নেই। এটা দামে সস্তা। খেতেও ভালো। সবাই পছন্দ করে।
সাকিব : একটা হোটেল যখন অনেক বছর ধরে চলে, আশেপাশের দোকানগুলোতে এটার একটা প্রভাব পড়ে। মেম্বার হোটেলের প্রভাবটা কেমন?
বাবু : একসময় এখানকার বেশিরভাগ হোটেলেই ফিল্টারের পানির দাম নিতো। মেম্বার হোটেলে আমি পানির দাম রাখি না। এটা ফ্রি খাওয়াই। এ কারণে পাহাড়তলী কলেজ রোডের অনেক হোটেলে এখন ফিল্টারের পানির দাম নেয় না। এটা এক ধরনের প্রভাব বলা যায়। এছাড়া কিছুদিন আগে এখানে একটা খাবারের দোকান হয়েছিল। এসির ব্যবস্থা ছিল সেখানে। দোকানটা চলেনি। এসির বাতাসে তো কাস্টমারের পেট ভরে না।
সাকিব : দৈনিক কতগুলো পদ হয় এখানে?
বাবু : অনেকগুলোই। এটা আসলে বাজারে গিয়ে কী পাচ্ছি, তার ওপর নির্ভর করে। তবে ৩৫ থেকে ৪০টা পদ তো থাকেই। আমি নিজেই এগুলোর দেখাশুনা করি।
সাকিব : এই হোটেলটা আপনার বাবা শুরু করেছিলেন। এখন আপনি আছেন। আপনার পরে কে?
বাবু : এখনো আমি আছি। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত টানা সময় দিতে হয় আমাকে। তবে আমার এক ভাগিনা এখন হোটেলে সময় দিচ্ছে। দেখা যাক, সামনে কী হয়। আপাতত ১০ জনের মতো মানুষ কাজ করছে এখানে।
সাকিব : এই হোটেলটা নিয়ে আপনার কোনো ভবিষৎ পরিকল্পনা আছে?
বাবু : ভবিষৎ পরিকল্পনা তো আছেই। যদি যোগ্য কোনো মানুষ পাই, বিশ্বাস করতে পারবো এমন, তাহলে মেম্বার হোটেলকে নানা জায়গায় নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছে আছে। এখনো সেরকম কাউকে পাইনি।

x