‘ভবিষ্যতের চট্টগ্রাম, বিনির্মাণে করণীয়’ নির্ধারণে এবার সভা ডাকছে চসিক

আমন্ত্রণ জানানো হবে মন্ত্রী-সাংসদ, ৩২ সেবা সংস্থাকে

আজাদী প্রতিবেদন

রবিবার , ১১ আগস্ট, ২০১৯ at ৭:৫৩ পূর্বাহ্ণ
232

ভবিষ্যতের চট্টগ্রাম বিনির্মাণে করণীয় নির্ধারণে চট্টগ্রাম থেকে নির্বাচিত মন্ত্রী, নগরীর সংসদীয় আসনের সদস্যদের নিয়ে একটি সভা’র আয়োজন করবে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। আগামী সেপ্টেম্বর মাসে অনুষ্ঠেয় সভায় সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত ৩২টি সেবাসংস্থা, কাউন্সিলর ও পেশাজীবীদের আমন্ত্রণ জানানো হবে। এবং সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো প্রধানমন্ত্রীর নিকট উপস্থাপন করা হবে।
‘ভবিষ্যতের চট্টগ্রাম: আমাদের করণীয়’ শীর্ষক এক সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। গতকাল চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের টাইগারপাসস্থ অস্থায়ী কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় চারটি প্রস্তাবনা এসেছে। এগুলো হচ্ছে- ১০টি খেলার মাঠ সংরক্ষণ করা। পাইলট প্রজেক্টের মাধ্যমে চাক্তাই খাল সংরক্ষণ করা। কর্ণফুলী তীরবর্র্তী উন্নয়ন করা এবং পাইলট প্রজেক্টের মাধ্যমে ফ্লাইওভারের বহুমাত্রিক ব্যবহার নিশ্চিত করা।
সভায় বক্তব্য রাখেন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান জহিরুল আলম দোভাষ। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ইনক্লুসিভ অ্যার্কিটেকচার এন্ড আরবানিজমের নির্বাহী পরিচালক আদনান জিল্লুর মোরশেদ ‘ভবিষ্যতের চট্টগ্রাম: আমাদের করণীয়’
শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন স্থানীয় সরকারের আওতাধীন একটি প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠান কি কি কাজ পরিচালনা করবে তার একটি বিধিবদ্ধ আইন রয়েছে। তবে আইনের ভিতরে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নগরীর নগরবাসীর সেবা প্রদানে সর্বাত্নক কাজ করে যাচ্ছে। চট্টগ্রামের শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও ইতিহাসকে সমুন্নত রেখে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নগরীর বিভিন্নস্থানে খেলার মাঠ, উদ্যান ও জালধার সংরক্ষনের কার্যকরী উদ্যোগ নিয়েছে।
মেয়র আরো বলেন, চট্টগ্রামের উন্নয়ন হলেও সমন্বয়হীনতার কারণে জনগণ সুফল ভোগ করতে পারছে না। কোন প্রকল্প গ্রহণের আগে সেবা সংস্থাগুলোকে সিটি কর্পোরেশনের সাথে সমন্বিত করার পরিপত্র থাকলেও তা কেউ মানেনি। সবাই যার যার মত প্রকল্প নিয়ে বাস্তবায়ন করেছে। উন্নয়নের স্বার্থে এই মুহূর্ত থেকে সমন্বয় করা জরুরি। এই লক্ষ্যে চট্টগ্রামের ভৌগলিকত্ব ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে সামনে রেখে ভবিষ্যতের চট্টগ্রাম বিনির্মানে করণীয় নির্ধারণে ৩২ সেবা সংস্থা, জনপ্রতিনিধি ও শ্রেণি পেশাজীবীদের নিয়ে সমন্বিত বৈঠক আয়োজন করবে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। বৈঠকে নগরীর সংসদীয় আসনের সাংসদ সদস্য, চট্টগ্রামের মন্ত্রী, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষসহ সেবা সংস্থার প্রতিনিধিগণকে আমন্ত্রণ জানানো হবে। আগামী সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ে প্রাথমিক পর্যায়ে এ বৈঠক নগরীর রেডিসন ব্লুতে আয়োজনের কথা ঘোষণা দেন সিটি মেয়র। বৈঠকের গৃহীত সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অবহিতকরণের লক্ষ্যে পরবর্তীতে মন্ত্রী পরিষদ সচিব ও মুখ্য সচিব পর্যায়ে আরেকটি বৈঠক আয়োজন করা হবে বলেও জানান তিনি।
সিডিএ চেয়ারম্যান জহিরুল আলম দোভাষ বলেন, ভবিষ্যতের চট্টগ্রাম আমাদের করণীয় বিষয়ে উপস্থাপিত প্রতিবেদন অনুযায়ী বাস্তবায়ন করা গেলে চট্টগ্রাম একটি পর্যটন নগরী হিসেবে সবার কাছে খ্যাতি অর্জন করবে। এ লক্ষ্যে তিনি সরকারের সাথে দেনদরবারের উপর গুরুত্বারোপ করেন।
আদনান জিল্লুর মোরশেদ তার প্রবন্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং দ্রুত বর্ধনশীল নগর হিসেবে চট্টগ্রামের জলাশয়, নগরজুড়ে বিস্তৃত খাল সমূহের স্বাভাবিক জল প্রবাহ নিশ্চিত করা, উন্মুক্ত চত্বর এবং জনচত্বরগুলোকে সংরক্ষণ এবং জনগণের জন্য কার্যকরভাবে ব্যবহারের উপযোগিতা নিশ্চিত করার বিষয়ে উপস্থাপন করেন। এছাড়া নগরের যানজট নিরসন বা সহনীয় পর্যায়ে কমিয়ে আনার স্বার্থে জংশনসমূহের কার্যকর পরিকল্পনা প্রণয়নের বিষয়েও আলোচনা করেন।
আদনান জিল্লুর মোর্শেদ বলেন, চট্টগ্রাম নগরের ভবিষ্যত নিয়ে সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বকে এক টেবিলে আসতে হবে। ভবিষ্যত চট্টগ্রাম বিনির্মাণে বস্তুনিষ্ঠ ও ফলাফলমুখী আলোচনা করা দরকার। বিশ্বের উন্নত নগরগুলোতে নিজস্ব ইতিহাস, ঐতিহ্য ও ইমেজকে সামনে রেখে উন্নয়ন করা হয়েছে। এর ফলে নগরগুলো নিজস্ব স্বকীয়তায় উন্নয়ন মডেল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। এর জন্য সকলের সম্মিলিত উদ্যোগ নিতে হবে। ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে আমরা কেমন চট্টগ্রাম রেখে যাবো- আমাদের জীবদ্দশায় যদি পরিকল্পিত, উন্নত, স্বকীয় একটি চট্টগ্রামের স্বপ্ন তাদেরকে দেখাতে না পারি তাহলে ব্যর্থতার গ্লানিই বয়ে যেতে হবে আমাদের।
তিনি আরো বলেন, চট্টগ্রাম একটি ঐতিহ্যবাহী শহর ছিল, যার সম্ভাবনাগুলো অতীতে আমরা কাজে লাগাতে পারিনি। আজ চট্টগ্রামের দুটি সেবা সংস্থার অবিভাবককে আমরা একত্রিত করতে পেরেছি। এর মাধ্যমে আমাদের নতুন দ্বার খোলার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আজ আলোচনার মাধ্যমে সম্ভাবনার যে সূত্রপাত এখানে ঘটেছে। চট্টগ্রামের সব সেবা সংস্থাকে নিয়ে আমরা এটাকে আরেকটি আলোচনার পর্যায়ে নিয়ে যাবো। সেই আলোচনাকে আমরা রাজধানীতে নিয়ে যাবো। সেই সাথে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিতে আনতে হবে, চট্টগ্রামের সম্ভাবনাকে কিভাবে কাজে লাগানো যায়। ভবিষ্যতে বাসযোগ্য চট্টগ্রাম নগরীর কিভাবে আমরা স্বপ্ন দেখতে পারি এবং সেই স্বপ্নকে কিভাবে বাস্তবায়ন করতে পারি, সেটা আমরা আলোচনার মাধ্যমে এগিয়ে নিয়ে যাবো।
সভায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা, মেয়রের একান্ত সচিব আবুল হাসেম, প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ এ কে এম রেজাউল করিম ও সিডিএ’র প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ শাহিনুর ইসলাম খান, স্থপতি ফজলে ইমরান চৌধুরী, সুস্থ নারী- সমৃদ্ধ জাতির নির্বাহী পরিচালক সাদিয়া আহমেদ ও সিডিএ’র কর্মকর্তা মো. শামিম উপস্থিত ছিলেন।

x