(ভণ্ডামি আর কাকে বলে!)

সিরু বাঙালি

বুধবার , ১৫ মে, ২০১৯ at ৫:২২ পূর্বাহ্ণ
251

: মাদার ডে বা “মা দিবস”। এটা কী ? আমরা অনেকে জানি না, এটা হলো মায়ের জন্য “শোক দিবস”। মৃত মায়ের স্মরণ দিবস। আমরা এখন করছি কী ! জীবিত মাকে নিয়েও শোক দিবস পালন করছি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার গ্রাফটন শহরে “আনা মারিয়া জারভিস” নামে এক মহিলার মা মারা যান ১৯০৫ সালে। তিনি তাঁর মাকে এত ভালোবাসতেন যে, শোকে পাগলপ্রায় হয়ে পড়েছিলেন। ১৯০৮ সাল থেকে তিনি মায়ের মৃত্যুদিনে শোক দিবস পালনের জন্য প্রচারণা চালাতে থাকেন। তাঁর আবেদনে ব্যাপক সাড়া পড়ে যায়। সবাই মায়ের জন্য শোক দিবস পালন শুরু করে। প্রথমদিকে এটা ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া, ফিলাডেলফিয়া ও পিনসালভানিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
পরবর্তী সময়ে প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন ১৯১৪ সালে মে মাসের ২য় রবিবারকে “বিশ্ব মা দিবস” ঘোষণা করেন।এখন আমরা করছি কী ? জারভিসের মৃত মায়ের শোক দিবস পালনকে আমরা এখন জীবিত মায়ের শোক দিবসে পরিণত করে ফেলেছি। এটা এখন এতই বাণিজ্যিকরণ হয়েছে, খোদ আনা মারিয়া জারভিস এই ব্যবস্থার নিন্দা করে, তাঁর মা দিবস পালন বন্ধ করে দিয়েছেন। আমার নিজের কথাই বলি। আমার মা মারা গিয়েছেন আজ ২০ বছর। এই ২০ বছরে মাত্র ২০ সেকেণ্ডের জন্যেও আমি মায়ের জন্য দু’ফোটা চোখের জল ফেলিনি। অথচ, মে মাসের ২য় রোববারে ফেসবুকে মায়ের ছবি দিয়ে বুক ফুলিয়ে বলি, এই দেখুন, ইনিই আমার মা। দুনিয়ার সেরা মা।
ভণ্ডামি আর কাকে বলে! আমি এমন মানুষকে জানি, যিনি শ্রাবণ মাসের প্রবল বৃষ্টিতে মাকে লাথি মেরে ঘরের বাইরে ফেলে দিয়েছিলেন। এবার দেখলাম, তিনিও ফেসবুকে মৃত মায়ের ছবি দিয়ে “মা তুমি আমার জান্নাত” লিখে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। বড়ো দুঃখে এটা লিখলাম। ক্ষমা করবেন।

x