বড় দলগুলোকে হারানোর সামর্থ্য রয়েছে বাংলাদেশের

ক্রীড়া প্রতিবেদক

শুক্রবার , ১৪ জুন, ২০১৯ at ৫:২৮ পূর্বাহ্ণ
44

বিশ্বকাপে বেশ কঠিন সময় পার করছে বাংলাদেশ। একটি ম্যাচে জিতলেও হেরেছে দুটি ম্যাচে। একটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়েছে বৃষ্টির কারণে। এখন পরের ম্যাচ নিয়ে চিন্তা করছে বাংলাদেশ। আর সে ম্যাচে টাইগারদের প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ। যে দলটিকে আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজে তিনবার হারিয়েছে বাংলাদেশ। তবে বিশ্বকাপের ওয়েস্ট ইন্ডিজ আর ত্রিদেশীয় সিরিজের ওয়েস্ট ইন্ডিজ এক নয়। তাই এখন বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য পরের ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারানো। যদিও বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে যেতে হলে শুধূ ওয়েস্ট ইন্ডিজ নয় বাংলাদেশকে হারাতে হবে আরো বড় দলকে। বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ হিসেবে স্টিভ রোডস মনে করেন তার শীষ্যদের সে সামর্থ্য রয়েছে বড় দলগুলোকে হারানোর।
এই ইংলিশ কোচের অধীনে এক বছরের বেশি সময় পার করেছে টাইগাররা। এই এক বছরে বাংলাদেশের ক্রিকেটের উন্নতিও বেশ লক্ষণীয়। রোডসের অধীনে বাংলাদেশ দল ২৫টি ওয়ানডে খেলে ১৫টিতে জয় পেয়েছে। এছাড়া প্রথমবারের মতো কোনো বহুজাতিক সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। সবমিলিয়ে বাংলাদেশকে এবার বিশ্বকাপের অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ২০১৭ সালের নভেম্বর থেকে ২০১৮ সালের মে’র মধ্যে যখন পল ফ্যাব্রেস, অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার, টম মুডি এবং আরও বেশ কয়েকজন নামী কোচ যখন বাংলাদেশকে ‘না’ বলে দিলেন, তখন রোডসকেই বেছে নেয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। চন্ডিকা হাথুরুসিংহের সাফল্যের রেশ ধরে রাখার পাশাপাশি তার কাঁধে চেপেছে নিজ দেশে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপে টাইগারদের সাফল্য এনে দেওয়া।
বাংলাদেশ দলটি মূলত পাঁচ স্তম্ভ তথা মাশরাফি বিন মর্তুজা, সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, মাহমুদউল্লাহ এবং মুশফিকুর রহিমের উপর নির্ভরশীল। একটা দীর্ঘ সময় ধরে এই ‘পঞ্চপান্ডবের ধারাবাহিকতাই বাংলাদেশের সাফল্যের মূল অস্ত্র। তবে রোডস এই পাঁচজনের বাইরেও বিকল্প তৈরির চেষ্টা করে যাচ্ছেন। যেমন সৌম্য সরকারকে আরও বেশি স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। ফলে এখন আগের চেয়ে বেশি দায়িত্ব সচেতন হতে পেরেছেন তিনি। মেহেদি হাসান মিরাজ, মোস্তাফিজুর রহমান এবং মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন শুধু পারফরম্যান্স দিয়ে নয়, বরং ধারাবাহিকতার মাধ্যমেই দলে টিকে আছেন তারা। রোডস বলেন, প্রধান কোচ হিসেবে আমার পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রশিক্ষণের সময় মাঠে ক্রিকেটারদের মাঝে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়েছি। কিভাবে তারা সিদ্ধান্ত নেবে এবং নিজেরা শিক্ষা নিয়ে নিজেদের তৈরি করবে। যার কারণেই তরুণ ক্রিকেটাররা কিন্তু এখন মাঠে ভালো পারফর্ম করছে। সবাই আমাদের দলটাকে ভালো বলছে।
টাইগার কোচ বলেন সৌম্য ভালো ছন্দে রয়েছে। লিটন দাস ভালো ফর্মে আছে। যদিও এখনো বিশ্বকাপে একটি ম্যাচও খেলতে পারেননি। সাব্বির ত্রিদেশীয় সিরিজে সেঞ্চুরি পেয়েছে। মিরাজ শেষ দুই-তিন বছর ভালো বল করছে। মোস্তাফিজ, সাইফউদ্দিনও ভালো করছে। তাই বলাই যায় যে আমাদের দলে পারফর্মারদের গভীরতা ধীরে ধীরে বাড়ছে। চলতি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ শুরটা ভালো করেছে। কিন্তু নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পারাজয় আর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বৃষ্টির কারণে পয়েন্ট হারিয়ে কিছুটা ব্যাকফুটে বাংলাদেশ দল। তবে বিগত এক বছরের কথা বিবেচনা করলে রোডস বাংলাদেশ দলকে শক্তিশালী দলের বিপক্ষে শক্ত প্রতিপক্ষ মনে করেন। রোডস বলেন আপনি যদি এই বিশ্বকাপের সবগুলো দলের দিকে তাকান তাহলে দেখবেন কিছু বড় দলের বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়েছি আমরা। তবে এটা ঠিক যে সেই দলগুলোর গভীরতা ও মানের দিক থেকে আমরা এখনো বেশ পিছিয়ে আছি। আমাদের কিছু ক্রিকেটার আছে যারা সর্বাত্মক চেষ্টা করছে নিজেদের উন্নতির জন্য এবং তাদের সেই সক্ষমতাও রয়েছে। আমরা ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্সের সেই গভীরতায় পৌঁছাতে শুরু করেছি। তবে আপনি বলতে পারেন তাদের অভিজ্ঞতা কম বলেই হয়তো পেরে উঠছেন না। রোডস দায়িত্ব নেওয়ার পর ক্রিকেটারদের মাঝে কিছুটা আত্মবিশ্বাসের অভাব দেখা যায়। যার ফলে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে এবং ঘরে মাঠে শ্রীলঙ্কা বিপক্ষে ব্যর্থতার পরিচয় দেয় টাইগারা। আফগানিস্তানের বিপক্ষে টি-২০ সিরিজেও হোয়াইটওয়াশ হয় রোডসের দল। তবে সর্বশেষ বেশ কয়েকটি সিরিজে দারুণ পারফর্ম করে আবারো সেই আত্মবিশ্বাস ফিরে পায় বাংলাদেশ। এখন সে আত্নবিশ্বাসটাকে আরো সামনে এগিয়ে যাওয়ার অপেক্ষায় স্টিভ রোডস।

x