ব্ল্যাক হোল হোয়াইট হোল

আখতারুল ইসলাম

বুধবার , ১৮ এপ্রিল, ২০১৮ at ৬:০৩ পূর্বাহ্ণ
98

আকাশে উড়তে উড়তে ধীরে ধীরে ইচ্ছে শক্তি ও জীবনী শক্তি কমে আসে লিডা’র। টেলসা বার বার বলছে ডিওনে উপগ্রহে নভোযানটি ল্যান্ড করতে। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে শনি গ্রহের উপগ্রহ ডিওনে অবস্থান নেয় তারা।

লিডা একটা সোপা আকৃতির পাথরের টুকরায় বসে।

টেলসা বলল, কী রে বসলি কেন?

খুব ক্লান্ত লাগছে?

পানি খাবি?

হ্যাঁ বলতেই বোতলে এক চুমুক দিয়ে, মনে হল লিডার জীবনী শক্তি ফিরে এলো।

হাঁটতে শুরু করে লিডা ও টেলসা।

ডিডা বলল, যদি আমরা কোন ব্ল্যাক হোলের কবলে পড়তাম, তবে আর রক্ষা হত না।

ঠিক বলেছিস, টেলসার উত্তর। যার প্রবল আকর্ষণে তার কেন্দ্রে টেনে নিয়ে আটকে রাখবে। বেরোনোর পথ পাবে না।

বেরোনোর পথ পাবো না মানে কী, মৃত্যু অবধারিত?

জানিস তো সেখান থেকে কোনো বস্তু বা কণা এমনকি আলোও নির্গত হতে পারে না। এসব তারা থেকে আলো বের হতে পারে না বলে আমরা দেখতে পাই না। মহাকর্ষীয় আকর্ষণ বোধগম্য হবে, এজন্য তো একে কৃষ্ণগহ্বর বা কৃষ্ণবিবর বলে।

ঐ দেখ কেপলা আসছে।

কীরে তোরা, আর বলিস না, ব্ল্যাকহোল আমাদের মহাযানের গতির কিছুই করতে পারেনি। কিন্তু!

কিন্তু কি? কেপলারের প্রশ্ন।

হোয়াইট হোল!

মানে?

মানে গতকাল সকালে আমি আর টেলসা মহাশূন্যে দুজনে টাইটানে যাচ্ছিলাম।

হঠাৎ হোয়াইট হোলের মুখে।

তারপর!

তারপর আবার কী? যা হবার তাই হল?

হোয়াইট হোল হলো ব্ল্যাকহোলের সম্পূর্ণ বিপরীত এর মুখে পড়তেই ছিটকে প্রবল বেগে এই যানে বিভিন্ন গ্রহে উপগ্রহে ঘুরছি। শেষ পর্যন্ত ডিওনে।

কেবলা বলল, মহাশূন্যে কোন নক্ষত্রের মৃত্যু হলে তার সব ধরণের পদার্থ কেন্দ্রে ঘণীভূত হয়। ফলে এর মহাকর্ষ বল এত বেশি হয়ে যে পাশে থাকা সব বস্তুকণাকে টেনে নেয়। এমনকি আলোক রশ্মি ও প্রবল আকর্ষণে সেই ব্ল্যাকহোলে গিয়ে আটকে যায়, তা থেকে বেরোনোর উপায় থাকে না। এ ব্ল্যাক হোল দেখা যায় না। অনেক সময় বিপুল শক্তির কেন্দ্রীভূত হলে বিস্ফোরণ ঘটে। যাকে ছোট বিগব্যাং বলা যেতে পারে।

টেলসা বলে, আরে রাখ এসব কথা, তা তো জানি।

প্লিজ বল!

কেপলা শোন, তুই যে ব্ল্যাক হোলের কথা বলছিস তার সম্পূর্ণ বিপরীত হল হোয়াইট হোল। যার আশেপাশে পড়ছে এই বিশাল মহাশূন্যে আলোর সাদা স্রোতে তুমি হারিয়েও যাবে? এমন কী প্রাণীরা অদৃশ্য হয়ে যায়। আলোর এতো বেগ?

অদৃশ্য হবে কেন?

আলোর প্রচন্ড ক্রিয়ায় প্রাণীর চারপাশে আলোর কণা ফোয়ারার মত ঘিরে ফেলে, তখন অদৃশ্য কণা বস্তু বলে দৃষ্টিভ্রম হয়।

টেলসা বলল, চল, তোর ক্লান্তি দূর হয়েছে?

হয়েছে।

আমাদের জন্য সৌরজগতের ছায়াপথে মিল্কওয়ে গ্যালাক্সির পাশে বড় মহাকাশ স্টেশনে সবাই অপেক্ষা করছে। বার বার সংকেত পাঠাচ্ছে।

চল, উঠি!

কিন্তু আমার ভয় করছে।

কীসের ভয় লিডা।

যদি আবার হোয়াইট হোলের প্রবল গতির মুখে পড়ি অন্য কোন গ্রহ নক্ষত্রের বা উপগ্রহে গিয়ে ছিটকে পড়ি, তখন!

তাইতো টেলসা, গুড আইডিয়া, তোমার তো চমৎকার ধারণা,

কেপলা বলল, না বন্ধুরা, আকাশের অবস্থা দেখে, তেমন মনে হচ্ছে না।

টেলসা ও লিডা, আস্তে আস্তে মহাকাশযানে ওঠে। উঠতে উঠতে হাত নাড়িয়ে বিদায় জানায় কেপলাকে।

কেপলা সোফা সদৃশ্য পাহাড়ের চেয়ারে বসে হাত নেড়ে বিদায় দিতে দিতে, টেলসা ও লিডাকে নিয়ে মহাবিশ্বে মহাশূন্যে মিলিয়ে যায় তাদের মহাকাশযানটি।

x