ব্যাটে সেরা মেট্রোর সাদমান, বলে চট্টগ্রামের নাঈম

স্পোর্টস ডেস্ক

শুক্রবার , ৯ নভেম্বর, ২০১৮ at ৯:৩৬ পূর্বাহ্ণ
12

২০তম জাতীয় ক্রিকেট লিগের পর্দা নেমেছে গতকাল। এবারের লিগে ব্যাট হাতে আলো ছড়িয়েছেন ঢাকা মেট্রোর তরুণ ওপেনার সাদমান ইসলাম। অন্যদিকে বল হাতে শীর্ষে ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগের তরুণ অফস্পিনার নাঈম হাসান। ১০ ইনিংসে ৬৪৮ রান নিয়ে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক সাদমান ইসলামের সেঞ্চুরি ছিলো ২টি। এছাড়া ৩ হাফ সেঞ্চুরিতে তার রানের গড় ৬৪.৮০। সর্বোচ্চ স্কোর ১৮৯ রান। ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত রান করা তুষার ইমরান আছেন দ্বিতীয় তালিকায়। জাতীয় দলে খেলা এই ক্রিকেটারের ব্যাট থেকে এই আসরে ৩ সেঞ্চুরি ও ১ হাফ সেঞ্চুরিতে এসেছে ৫১৮ রান। খুলনা বিভাগের ক্রিকেটার সৌম্য সরকার ১ সেঞ্চুরি ও ৪ হাফ সেঞ্চুরিতে ৪৭১ রান করে তৃতীয় অবস্থানে আছেন। চলতি মৌসুমে সর্বোচ্চ রান করেও কিছুটা আক্ষেপ নিয়ে লিগ শেষ করতে হয়েছে সাদমান ইসলামকে। দ্বিতীয় রাউন্ডে ঢাকার বিপক্ষে ফতুল্লাতে সাদমানের সুযোগ ছিল ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি তুলে নেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ। কিন্তু ১৮৯ রানে আউট হয়ে হতাশায় পুড়েছেন চলতি মৌসুমে।
সেই আক্ষেপের কথা তিনি জানালেন, ‘একটা আপেক্ষ অবশ্য আছে। ডাবল সেঞ্চুরি করার সুযোগ ছিল, কিন্তু করতে পারিনি। সামনের মৌসুমে এমন সুযোগ পেলে কাজে লাগানোর চেষ্টা করবো।’ ৬৪৮ রান করা সাদমান জানালেন সাতশোর ঘরে রানকে নিয়ে যেতে পারলে খুশি থাকতেন আরও বেশি, ‘আরও কিছু রান যোগ হলে ভালো হতো। সাতশোর বেশি রান হলে বেশি ভালো লাগতো। এবার হয়নি, আগামী মৌসুমে আরও বেশি রান করার চেষ্টা করবো।’ লিগে ব্যাটিংয়ে সাদমান আলো ছড়ালেও বোলিংয়ে আলোচনায় ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগের নাঈম হাসান। ৯ ইনিংস বল করে তুলে নিয়েছেন ২৮ উইকেট। ঢাকা মেট্রোর আরাফাত সানিও সমান সংখ্যক ইনিংসে বোলিং করে নিয়েছেন ২৩ উইকেট। তৃতীয় অবস্থানে থাকা রাজশাহীর ফরহাদ রেজা ১২ ইনিংসে নিয়েছেন ২২ উইকেট। অল্প কিছু অভিজ্ঞতা নিয়ে জাতীয় লিগ খেলতে নেমে ব্যাটসম্যানদের রীতিমতো খাবি খাইয়েছেন ১৭ বছর বয়সী নাঈম। তবুও কিছুটা আক্ষেপ ছিলো ডানহাতি এই অফস্পিনারের কণ্ঠে, ‘৯ ইনিংসে ২৮ উইকেট পেয়েছি ভালো লাগছে। তবে সবগুলো ম্যাচ খেলতে পারলেও লক্ষ্যের কাছে পৌঁছাতে পারতাম। আমার লক্ষ্য ছিল ৪০-৪৫ উইকেট।’ মাত্র ১৫টি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা থাকা নাঈম চারদিনের ক্রিকেটে বুঝতে শিখেছেন সবশেষ বিসিএল খেলে। প্রাইম ব্যাংকের হয়ে মাঠে নেমে রাজ্জাকের সঙ্গে থেকেই চারদিনের ম্যাচ সম্পর্কে ধারনা নিয়েছেন, ‘চারদিনের ম্যাচ আমি বুঝতাম না। সবশেষ বিসিএলে প্রাইম ব্যাংকের হয়ে খেলে চারদিনের ম্যাচ সম্পর্কে ধারনা পেয়েছি। রাজ্জাক ভাইরা আমাকে অনেক সাহায্য করেছে। এবার মুমিনুল ভাই অনেক সাহায্য করেছে। চারদিনের ম্যাচ এখন ভালো বুঝি। কখন কীভাবে বোলিং করতে হবে শিখে গেছি।’
নাঈমের সেরা বোলিং ইনিংস ১০৬ রানের বিনিময়ে ৮ উইকেট, যা তিনি তুলে নিয়েছিলেন গেল ২২ অক্টোবর ঢাকা বিভাগের বিপক্ষে। এক ম্যাচ কম খেলে ২৩ উইকেট নিয়ে নাঈমের পরেই আছেন ঢাকা মেট্রোর বাঁহাতি অফ স্পিনার আরাফাত সানি। তার সেরা বোলিং ইনিংস ৫৭ রানের বিনিময়ে ৭ উইকেট। গেল ৮ অক্টোবর ফতুল্লায় ঢাকা বিভাগের বিপক্ষে উইকেটের এই পসরা সাজিয়েছিলেন তিনি। এক ম্যাচ বেশি খেলে ২২ উইকেট নিয়ে তিনে রাজশাহী বিভাগের ফরহাদ রেজা।

x