ব্যাংক নিয়ে সংসদে তোপের মুখে মুহিত

শুক্রবার , ২২ জুন, ২০১৮ at ৬:০০ পূর্বাহ্ণ
190

চলতি বাজেট অধিবেশনে প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যরা এর আগেও মুহিতের সমালোচনায় মুখর হয়েছিলেন। এর মধ্যে একবার মুহিতকে ‘জাতীয় পার্টির সরকারের অর্থমন্ত্রী’ বলেছিলেন দলটির এক সংসদ সদস্য। তার প্রতিবাদ জানিয়ে মুহিত এই বক্তব্য ফের দিলে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার হুমকিও দিয়েছিলেন। খবর বিডিনিউজের।

২০১৮১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের উপর সাধারণ আলোচনায় সুনামগঞ্জে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান বৃহস্পতিবার মুহিতের উপর ক্ষোভ ঝাড়েন। তিনি বলেন, “প্রতি বছর রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে ঋণের নামে যে লুটপাট, সেই ব্যাংকের মূলধন পুনর্গঠন করতে বরাদ্দ রাখতেন। এ বছর কৌশলের আশ্রয় নিয়েছেন। এই বছর অর্থ মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব বাজেট থেকে ইক্যুইটি রিইনভেস্টমেন্ট ফান্ড নামে ১৫০০ কোটি টাকা রেখেছেন। বাজেটে সরাসরি না এনে কৌশল করেছেন। “এটি হতে পারে না। কিছু মানুষ ঋণের নামে টাকা লুট করবে আর জনগণের করের টাকায় মূলধন সরবরাহ করা হবে, এটা হতে পারে না।”

ব্যাংক খাত সংস্কারে কমিশন গঠন না করায় অর্থমন্ত্রী সমালোচনা করে ফজলুর বলেন, “বাজেট পেশের আগে তিনি বলেছিলেন, ব্যাংক খাতের জন্য কমিশন গঠন করবেন। পরদিন বললেন, তিনি করবেন না। কেন করবেন না? কমিশন করলে বের হয়ে আসত কারা ব্যাংক লুটপাটে জড়িত। “রিজার্ভ থেকে টাকা চুরির ঘটনা ঘটল। এই পবিত্র সংসদে দাঁড়িয়ে ফরাসউদ্দিনের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটির রিপোর্ট প্রকাশ করবেন। তিনি সেটা করেন নাই। সংসদে কথা দিয়ে তিনি কথা রাখেননি। বাক্স ঢেকে রাখেন কেন? কাদের নাম আছে জাতি জানতে চায়।” পুঁজিবাজারে ধস তদন্তে খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ নেতৃত্বাধীন কমিটির দেয়া প্রতিবেদন প্রকাশ না করায়ও অর্থমন্ত্রীর সমালোচনা করেন ফজলুর।

তিনি বলেন, “সেই রিপোর্ট প্রকাশ করলেন না। কাদের স্বার্থে করেন না? কাদের স্বার্থে অর্থমন্ত্রী নিশ্চুপ হয়ে যান। প্রধানমন্ত্রী কি একাই বাংলাদেশকে টেনে নিয়ে যাবেন? আর অর্থমন্ত্রী ব্যাংক চোর, শেয়ার বাজার চোরদের পাহারা দিয়ে যাবেন?

ব্যাংকের টাকা যারা নিয়ে যায় তাদের নাম প্রকাশ হয় না। তাদের নাম বলতে লজ্জা কোথায়? কৃষক ঋণ নিলে মামলা হয় আর ব্যাংক লুটেরাদের নাম প্রকাশ হয় না।”

x