ব্যাংকিং খাতে বেড়েছে আমানতের প্রবৃদ্ধি

শুক্রবার , ৩০ আগস্ট, ২০১৯ at ৮:৩১ পূর্বাহ্ণ
166

প্রবাসী আয় বৃদ্ধি, সঞ্চয়পত্র বিক্রি কমে যাওয়া এবং ঋণ বিতরণে ধীরগতির কারণে দেশের ব্যাংকিং খাতে আমানত বেড়েছে। আগামী কয়েক মাস আমানত বৃদ্ধির এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আভাস দিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ৩০ জুন শেষে আমানতের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১১ দশমিক ৪৮ শতাংশ। ছয় মাস আগে আমানতের প্রবৃদ্ধি ছিল ১১ দশমিক ০৭ শতাংশ। চলতি বছরের মার্চ শেষেও আমানতের প্রবৃদ্ধি ছিল ১০ দশমিক ৯৬ শতাংশ। খবর বাংলানিউজের।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ৩০ জুন শেষে ব্যাংকগুলোর আমানত আন্তঃব্যাংক আমানতের বাইরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৭৭২ দশমিক ১১ বিলিয়ন টাকা। ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষে আমানত ছিল ৯ হাজার ২৪৬ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন টাকা। চলতি বছরের মার্চ শেষে আমানতের পরিমাণ ছিল ৯ হাজার ৩৬৫ দশমিক ৬৩ বিলিয়ন টাকা।
এ বিষয়ে ঢাকা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে সরকার কড়াকড়ি আরোপ করার পাশাপাশি নির্দিষ্ট কয়েকটি বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক আমানতের আকর্ষণীয় মুনাফা দেওয়ায় ব্যাংকিং খাতে আমানত বেড়েছে।
তিনি বলেন, আমানতকারীর আর্কষণ বাড়াতে আবার কিছু কিছু ব্যাংক দীর্ঘমেয়াদি আমানতে দুই সংখ্যার সুদ দিচ্ছে। সরকারের মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য যে অর্থ তা প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স থেকেই পরিশোধ করা হচ্ছে। তাই আমানতের প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। আমানতের প্রবৃদ্ধি টেকসই করতে আমরা সব ধরনের বিনিয়োগ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা বলেন, জুলাই মাস থেকে ব্যাংকগুলোতে আমানত বাড়তে শুরু করেছে। এটি আগামী কয়েক মাস অব্যাহত থাকবে। এই সময় আমানতের প্রবৃদ্ধি ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ।
এদিকে সূত্র জানায়, সঞ্চয়পত্র কিনতে জুলাই মাস থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র ও টিআইএন সনদ বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। বিনিয়োগের সীমা অতিক্রম করায় এরই মধ্যে জাতীয় সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগকারীদের একটি তথ্যভাণ্ডার তৈরি করেছে। জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জুন মাসে ৩ হাজার ২০৮ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে; যা আগের মাসে ছিল ৩ হাজার ২৫৮ কোটি টাকা।
অপরদিকে, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সের প্রবৃদ্ধি ৯ দশমিক ৬৫ শতাংশ রেকর্ড গড়েছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রবাসীরা ১৬ দশমিক ৪২ বিলিয়ন ডলার দেশে পাঠিয়েছেন। আগের বছর রেমিটেন্সের পরিমাণ ছিল ১৪ দশমিক ৯৮ বিলিয়ন ডলার। তবে, ঋণ বিতরণ মানও কিছুটা কমেছে। চলতি বছরের জুন শেষে ঋণ বিতরণের প্রবৃদ্ধি কমেছে ১২ দশমিক ৩৮ শতাংশ; যা ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে ছিল ১৪ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ। তবে চলতি বছরের মার্চ শেষে তা আবার বেড়ে ১৩ দশমিক ১৫ শতাংশে দাঁড়ায়।
চলতি বছরের জুন শেষে ব্যাংকগুলোর মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ হয়েছে ১ লাখ ১৮ হাজার ১৩৩ কোটি টাকা। ২০১৮ সালের ডিসেম্বর শেষে ১ লাখ ১৬ হাজার ৫৩৪ কোটি টাকা ছিল। চলতি বছরের মার্চ শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ১২ হাজার ৫৫১ কোটি টাকা।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ঋণ প্রবৃদ্ধি ধীরগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তার মতে, আগামী মাসে অর্থনৈতিক চাহিদার কারণে ঋণ বিতরণ বাড়তে পারে। তবে, সার্বিকভাবে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার কারণে অ্যাডভান্স-ডিপোজিট র‌্যাশিও (এডিআর) হার অপরিবর্তিত রয়েছে। ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, চলতি বছরের জুন শেষে এডিআর হার ছিল ৭৭ দশমিক ৫১ শতাংশ। ২০১৯ সালের ৩১ মার্চ শেষে তা ৭৮ দশমিক ২৬ শতাংশ।
ব্যাংকিং সূত্রগুলো বলছে, সাধারণ ব্যাংকের জন্য ৮৩ দশমিক ৫০ শতাংশ এডিআর পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। আর শরীয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোর জন্য তা ৮৯ শতাংশ। বর্তমানে এডিআর হার রয়েছে যথাক্রমে ৮৯ ও ৯০ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোকে চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এডিআর উল্লেখিত সীমায় নামিয়ে আনতে হবে।

x