ব্যবসায় আয় নেই বাদলের আয়ের প্রধান উৎস সাংসদ ভাতা

আজাদী প্রতিবেদন

বুধবার , ৫ ডিসেম্বর, ২০১৮ at ৬:৩১ পূর্বাহ্ণ
319

চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও আংশিক) আসনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট মনোনীত প্রার্থী জাসদ নেতা মইনউদ্দিন খান বাদলের বার্ষিক আয় বেড়েছে। ২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দাখিল করা হলফনামায় তিনি বার্ষিক আয় দেখান ৫ লাখ ৮৮ হাজার ২১২ টাকা। গত ২৮ নভেম্বর নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হলফনামায় বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ২৮ লাখ ১১ হাজার ৩৯০ টাকা। অন্যদিকে, রাজনৈতিক কারণে তার বিরুদ্ধে ১৯৭৪ থেকে ১৯৭৭ সালের মধ্যে ফৌজদারি মামলা দায়ের হলেও সেই সকল মামলার তথ্য জানা নেই বলে তিনি হলফনামায় উল্লেখ করেছেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে জমা দেওয়া হলফনামায় আরো দেখা গেছে, বাদলের অস্থাবর সম্পদ রয়েছে ১ কোটি ৬৮ লাখ ৬১ হাজার ৫২৭ টাকার। এর মধ্যে নগদ টাকা (ব্যাংকে জমাসহ) ১ কোটি ৪৫ লাখ ৬১ ৫২৭ টাকা। কোম্পানি শেয়ার ৩ লাখ টাকা, স্থায়ী আমানতে বিনিয়োগ ২ লাখ টাকা এবং ১৮ লাখ টাকা মূল্যের একটি মোটর গাড়ি রয়েছে।
অন্যদিকে, স্থাবর সম্পত্তির মধ্যে ১ একর কৃষি জমি, আড়াই লাখ টাকা মূল্যের ১০২ কানি (৪১ একর) অকৃষি জমি, ১৩ লাখ টাকার একটি ফ্ল্যাট, চা বাগান, রাবার বাগান ও মৎস্য খামারের দাম দেখিয়েছেন ১৬ লাখ টাকা। এছাড়া যৌথ মালিকানার তিনটি পৈত্রিক পুকুর রয়েছে উল্লেখ করলেও সেগুলোর দাম দেখানো হয়নি। আবার একটি পৈত্রিক বাড়ি (দালান) দেখানো হলেও এর আর্থিক মূল্য জানা নেই বলে উল্লেখ করেন মইনউদ্দিন খান বাদল। হলফনামায় স্ত্রীর নামে ৩৭ লাখ ৩৭ হাজার ৩৯৫ টাকা মূল্যের অস্থাবর সম্পদ রয়েছে বলে তথ্য দেন তিনি। তবে, কোনো স্থাবর সম্পদ নেই বলে উল্লেখ করেন। একই সাথে তাঁর স্ত্রী ও তাঁর ওপর নির্ভরশীলদের নামে কোনো ঋণ নেই বলেও হলফনামায় জানান।
এদিকে, দশম নির্বাচনের হলফনামায় এমপি বাদল আয়ের প্রধান দুটি উৎস দেখান কৃষি এবং ব্যবসা। তবে এবার এই দুটি খাত থেকে আয় দেখানো হয়নি। এবার দাখিল করা হলফনামায় পেশা দেখিয়েছেন ব্যবসা/সংসদ সদস্য। তবে ব্যবসা থেকে কোনো আয় দেখাননি তিনি। হলফনামার তথ্যমতে, পেশা (শিক্ষকতা, চিকিৎসা, আইন, পরামর্শক ইত্যাদি) হিসেবে ৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা, চাকুরি/সংসদ সদস্য হিসেবে পারিতোষিক ৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং সংসদ সদস্য হিসেবে অন্যান্য ভাতা হিসেবে বার্ষিক ১৭ লাখ ৬১ হাজার ৩৯০ টাকা আয় দেখিয়েছেন তিনি। সব মিলিয়ে বাদল এবার হলফনামায় বার্ষিক আয় উল্লেখ করেন ২৮ লাখ ১১ হাজার ৩৯০ টাকা। এছাড়া দশম সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় বাদলের ওপর নির্ভরশীলদের আয় ছিল ২ লাখ ৮৪ হাজার ২৬০ টাকা। ৬৫ হাজার ৭৪০ টাকা বেড়ে এবার দাঁড়িয়েছে সাড়ে ৩ লাখ টাকায়।
নিজেকে দুই বারের সংসদ সদস্য উল্লেখ করে নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অর্জনের বিবরণে দেখা গেছে, শিক্ষাক্ষেত্রে অবকাঠামো উন্নয়নে ২০টি ভবন নির্মাণ, মাদ্রাসা ৮টি, শেখ রাসেল কম্পিউটার ল্যাব ৬টি, একটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন, বঙ্গবন্ধু মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি, টেঙটাইল ইনস্টিটিউট, শ্রমজীবী নারীদের ৯০০ শয্যা বিশিষ্ট একটি ডরমেটরি নির্মাণ করেছেন। কর্ণফুলীর ভাঙন রোধ করতে পেরেছেন।
উল্লেখ্য, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে বোয়ালখালী-চান্দগাঁও আসন থেকে বিএনপির মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন শিল্পপতি এম মোর্শেদ খান। ২০০৭ সালে জরুরি অবস্থার সময় কারাগারে গিয়ে দুুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত হলে ২০০৮ সালের নির্বাচনে মনোনয়ন পাননি তিনি। সেই সময় বিএনপির প্রার্থী হিসেবে এরশাদ উল্লাহ চট্টগ্রাম-৮ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তবে সেই সময় ১৪ দলীয় জোটের প্রার্থী হয়ে মইনউদ্দিন খান বাদল সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এছাড়া ২০১৪ সালের নির্বাচনেও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। এবারও মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করবেন।

x