ব্যথা হলেই ক্যালসিয়াম ওষুধ কেন

মুজিবুল হক শ্যামল

শনিবার , ১৩ জুলাই, ২০১৯ at ৬:১২ পূর্বাহ্ণ
666

আবদুল্লাহ বয়স ৪৪। ডাক্তারের কাছে আসছেন দীর্ঘদিন ধরে হাঁটু ব্যথা নিয়ে কষ্ট পাচ্ছেন। তারপর ডাক্তার কিছু না বুঝে একগাদা টেস্ট করাতে প্রেসক্রিপশন ধরিয়ে দিলেন। বললেন টেস্ট করার পর ওষুধ দেবেন। উনি ডাক্তারের কথা মত টেস্টগুলো করতে গেলে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা লাগে।
সবারপক্ষে এতো টাকা খরচ করে টেস্ট করানো সম্ভব না। কেউ করাতে পারছেন কেউ বা করছেন না। তবে বেশিরভাগ মানুষই ডাক্তারের দেয়া টেস্টগুলো ডায়গনস্টিক সেন্টারে করে থাকেন।
টেস্টগুলো করানোর পর তেমন কিছু পায় না, সামান্য ডায়াবেটিস, রক্তে ইউরিক এসিড বা অন্যন্যা। এরপর চেম্বারে পুনরায় আসার পর সেই তথাকথিত ক্যালসিয়াম এক ডিব্বা, ব্যথার ওষুধ, গ্যাসের ওষুধ আরো অনেক কিছু। আবার কিছু ডাক্তার টেস্ট না দিয়ে ব্যথার বা মাসেল রিলাঙজেন ওষুধ দিয়ে থাকেন। কেউ কেউ ভাল হয়, বেশিরভাগই ভাল হয় না, দিনের পর দিন ব্যথা নিয়ে কষ্ট পান।
আবার অনেক ডাক্তার দেখলাম ইনজেকশন দিয়ে ব্যথা কমাতে যান তবে কেউ ইনজেকশনে ভাল হয়, বেশিরভাগ ব্যথা থেকে যায়। সবচেয়ে পরিতাপের বিষয় হল কোন ডাক্তার কোন রোগী থেকে কিন্তু জানতে চান না কিভাবে ব্যথার উৎপত্তি বা কোথা থেকে ব্যথা আসছে। জানতে চান না আপনি কোন পেশায় আছেন বা কিভাবে দিন-যাপন করছেন। এধরনের রোগীরা ভাল না হওয়াতে পাশের দেশ ভারতে চলে যাচ্ছেন বা কেউ ইউরোপ- সিঙ্গাপুরে। বাইরের দেশে যখন চিকিৎসা করাতে যান তখন হাঁটে হাঁড়ি ভাঙ্গার মত অবস্থা, দেশের সব টেস্ট বা চিকিৎসায় গলদ রয়েছে। এ যেন দেশে কোন চিকিৎসা ব্যবস্থা আছে বলে মনে হয় না। আমাদের দেশের বড় বড় ডিগ্রিধারী ডাক্তারগণ রোগীর সাথে কোন প্রকার কথা না বলে চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। প্রায়ই মানুষ এ ধরনের অভিযোগ করেন ডাক্তার কোন ধরনের কথা না বলে ওষুধ দিয়ে দিলেন। আমি মনে করি যখন একজন রোগী ডাক্তারের নিকট আসবেন তখন দুজনের মাঝে সম্পর্কটা হবে বন্ধুর মতো। এটি আমাদের চিকিৎসা সেবায় খুবই দুঃখজনক একটি ব্যপার। আর ক্যালসিয়াম ওষুধ বা ক্যালসিয়াম মানবদেহে দৈনিক শুধুমাত্র ১% দরকার হয় বাকীটা মলত্যাগ ও পশ্রাবের সাথে বের হয়ে যায়। আপনি যতই ক্যালসিয়াম ওষুধ খেয়ে যাচ্ছেন না কেন, কোন কাজে আসবে না শরীরে। আপনি ভাল ক্যালসিয়াম পাবার জন্য কাঁচ কলা, দুধ খেতে পারেন।
আর ব্যথা কখনও ক্যালসিয়ামের অভাবে হয় না, এর জন্য অনেক কারণ রয়েছে। আমার বাস্তব জীবনে ফিজিওথেরাপি সেন্টারে দেখলাম সকল রোগী ক্যালসিয়াম ওষুধ খেয়ে যাচ্ছেন কিন্তু ব্যথা তো যাচ্ছে না। সব রোগীই বলেন স্যার ওষুধ খাচ্ছি ব্যথা যাচ্ছে না। যেকোন ব্যথার চিকিৎসা দিতে হলে আগে রোগের কারণ জানতে হবে কেন হচ্ছে ব্যথা। আর ব্যথার চিকিৎসায় ফিজিওথেরাপি সবচেয়ে কার্যকরী একটি চিকিৎসা, কিন্তু আমাদের দেশে ডাক্তাররা ফিজিওথেরাপি কোন রোগীকে প্রথম অবস্থায় সাজেস্ট করেন না। যখন ব্যথা কমাতে পারেন না বা কমছে না তখন হুজুরের পানি পড়ার মতো করে ফিজিওথেরাপিতে আসতে বলেন। যেকোন ব্যথায় প্রথম অবস্থায় যদি রোগীদের ফিজিওথেরাপি দেওয়া যায় তাহলে, সহজে রোগী ভাল হবে এবং ডেইলি একটিভিটি লিভিং পরির্বতন করা যায়। এছাড়া দেশে আমরা রোগীদের ১০০% সত্য কথা বলার পরও তারা বিশ্বাস করেন না। রোগীরা বলে ফিজিওথেরাপি টাকা যায় কোন কাজ হয় না, শুধু শুধু টাকা নষ্ট এবং যত দিন দিব ততদিন কম থাকে। আমি বলব প্রত্যেকটা চিকিৎসার নির্দিষ্ট একটা সময় আছে। যখন কোমর ব্যথা হবে তখন আপনাকে ১৫-২১ দিন থেরাপিতে আসতে হবে। হাঁটু ব্যথায় ২০-২৫ দিন দরকার পড়ে, আর স্ট্রোক বা প্যারালাইসিস রোগীদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট করে বলা যায় না। কিন্তু রোগীরা কয়েকদিন দেবার পর ভাল লাগলে থেরাপি দিতে আর আসেন না। এই হলো আমাদের দেশের রোগীদের অবস্থা। ব্যথা হলেই আপনি থেরাপি দিতে আসবেন তা কিন্তু ঠিক না। সাথে যাদের হার্টে সমস্যা হয় তারা ন্যাচারাল বাইপাস সার্জারি দিতে পারেন, বক্ষ ব্যধি হলে তারাও, ডায়াবেটিস জনিত ব্যথা, হাত-পা বাঁকা, পায়ের তলাতে ব্যথা আরও অনেক ব্যথা ফিজিওথেরাপিতে সারে। তাই আগামী দিনগুলোতে এ ধরনের রোগীদের ডাক্তাররা ফিজিওথেরাপিতে সাজেস্ট করবেন আশা রাখি।

x