(ব্যতিক্রম)

শাকিল মাহমুদ

রবিবার , ২১ জুলাই, ২০১৯ at ৩:৩৬ পূর্বাহ্ণ
8

: আমি যখন এসএসসির পূর্বে স্কুলের হোস্টেলে ছিলাম তখন সুনীল স্যার মাঝে মধ্যে আমাদের হোস্টেল ডিউটিতে পড়তেন। উনার কর্তব্যপরায়ণতা তখন অনুভব করেছি। যতদিনই ডিউটি দিয়েছেন ততদিনই আমি নতুন করে কিছু না কিছু শিখেছি। রাতে থাকতেন আমার বেডে। অথচ আরো দু জন হিন্দু ছাত্র আমাদের হোস্টেলে থাকতো তখন। কিন্তু তিনি আমার বেডে শুয়ে আমাকে আরেকজনের সাথে ডাবলিং এ পাঠাতেন। এবং ফজরের আজান হলে তিনি কনকনে শীতেও সবার আগে উঠে ফ্রেশ হতেন। তারপর সবার বেডের পাশে গিয়ে আদূরে সুরে নামাজের জন্য ডেকে তুলতেন। কেউ যেতে না চাইলে গোপনীয়তা রক্ষার শর্তে উপযুক্ত ওজর শোনাতে হতো। আমাদের মসজিদে পাঠিয়ে তিনি শুয়ে পড়তেন না। আমাদের পিছু পিছু মসজিদের কোনা পর্যন্ত এসে চাদর মুড়ি দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতেন। নামাজ শেষ হলে সবাই যখন বের হতো তখন সুনীল স্যার আমাকে জিজ্ঞেস করতেন সবাই সুন্নত এবং ফরজ ঠিকমতো পড়েছে কিনা। কেউ দুষ্টুমি করে নিতো? দায়িত্ব নিয়ে মুসলিম ছাত্রদেরকে উত্তম জীবনচর্চার জন্য উৎসাহ শুধু তিনিই দিতেন।

x