বৌদ্ধ ধর্মের প্রভাব ভারতবর্ষকে নয় বিশ্বকে বিপুল অবদানে সমৃদ্ধ করে

অনোমার স্মারক বক্তৃতায় মুহিবুল আজিজ

রবিবার , ১১ আগস্ট, ২০১৯ at ৮:১৬ পূর্বাহ্ণ
13

অনোমা সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী আয়োজিত বেণীমাধব-ফণীভূষণ ত্রয়োদশ স্মারক বক্তব্য গত ৯ আগস্ট চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের বঙ্গবন্ধু হলে অনুষ্ঠিত হয়। ‘বৌদ্ধধর্ম এবং বাঙালি জীবন-চেতনা’ বিষয়ের উপর স্মারক বক্তা ছিলেন-চবি বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. মহিবুল আজিজ। তিনি বলেন, গৌতম বুদ্ধের আবির্ভাব এবং তাঁর বৌদ্ধ ধর্মের প্রভাব কেবল ভারতবর্ষকেই নয় গোটা বিশ্বকে বিপুল অবদানে সমৃদ্ধ করে। বাঙালি জীবন-চেতনার ঐতিহাসিক-সামাজিক-সাংস্কৃতিক এবং রাজনৈতিক স্বরূপ বিশ্লেষণ করতে গেলে দেখা যাবে বৌদ্ধধর্মের প্রাসঙ্গিকতা সেখানে অনিবার্য শুধু তাই নয়, বাঙালির স্থানিক ও কালিক জাতিগত বিবর্তনের রেখাপাতে অমোচনীয় ছাপ বহন করে বৌদ্ধ ধর্ম ও বৌদ্ধ সংস্কৃতি। বৌদ্ধধর্ম সমাজ চরিত্রে কেবল সাম্যই আনবার চেষ্টা করলো না, বরং ভারতীয় জীবন প্রবাহকে সঠিক চিন্তা কর্মের অনুগামী করে তুলতে চাইলো। ভারতবর্ষের দূর পূর্ব প্রান্তে গড়ে ওঠা বাঙালির জাতিসত্তার নির্মাণেও প্রবলভাবে সক্রিয়তা সৃষ্টি করলো বৌদ্ধধর্ম। সেই সক্রিয়তার রূপ কালক্রমে চিহ্নিত হয় ভিন্নতায়। বিশ্বে সকল জাতিরই রয়েছে স্বতন্ত্র জীবন-চেতনা যেটি গোত্র-বর্ণ-ধর্ম প্রভৃতির এক অন্যতর ব্যঞ্জনা, যেটি জাতিসমূহের একের সঙ্গে অন্যের পারস্পরিক পার্থক্যেরও একটি উপাদান। বাংলা জনপদে এবং বাঙালি সত্তায় বৌদ্ধধর্ম তেমনি এক উপাদান। সংগঠনের সভাপতি, সাহিত্যিক অধ্যাপক বাদল বরণ বড়ুয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ড. প্রণব কুমার বড়য়া। আলোচক ছিলেন সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. ইলু ইলিয়াস, সাহিত্যিক সত্যব্রত বড়ুয়া, ইউএসটিসির প্রাক্তন উপাচার্য প্রফেসর ডা. প্রভাত চন্দ্র বড়ুয়া। স্মারক বক্তৃতামালার উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রাক্তন লায়ন্স জেলা গভর্নর লায়ন রূপম কিশোর বড়ুয়া। অ্যাডভোকেট জিকু বড়ুয়ার সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য দেন মহাসচিব আশীষ কুমার বড়ুয়া। বক্তব্য দেন উত্তম কুমার বড়ুয়া চারু, সুভাষ চন্দ্র রাজবংশী, তুষার কান্তি বড়ুয়া, বিপ্লব বড়ুয়া, প্রবাল বড়ুয়া ও পিউ বড়ুয়া। উদ্বোধনী সংগীত পরিবেশন করেন রাত্রী বড়ুয়া ইমন ও অরণিকা দাশ। প্রধান অতিথি ড. প্রণব কুমার বড়ুয়া বলেন, ভারতীয় ইতিহাসে বৌদ্ধ সভ্যতার ইতিহাস সুপ্রাচীন। গৌতম বুদ্ধের বাণী ছিল সর্বজনীন। প্রত্যেক প্রাণীর প্রতি ছিল অসীম মমত্ববোধ। বুদ্ধ অহিংসানীতি ধারণ করে বিশ্বব্যাপী মানুষকে সত্যের পথে জাগ্রত করেছিলেন। বুদ্ধের ধর্ম মানব প্রেমের ধর্ম, জ্ঞানীর ধর্ম। সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে বুদ্ধের ধর্মকে জানতে হবে। যাদের জ্ঞান নেই, শিক্ষা নেই তারা চোখ থাকতেই অন্ধ। মহান মুক্তিযুদ্ধের বিনিময়ে অর্জিত ধর্মনিরপেক্ষতার যে বাংলাদেশ আমরা পেয়েছি তা অত্যন্ত গৌরবের। এ সম্মান টিকিয়ে রাখতে তিনি সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

x