বোয়ালখালী মহাজোটে ১০ বছর পর ঐক্যের সুর

আজ প্রথম বৈঠক, নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত

মনজুর আলম, বোয়ালখালী

বৃহস্পতিবার , ৬ ডিসেম্বর, ২০১৮ at ৫:১৬ পূর্বাহ্ণ
136

আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে দীর্ঘ ১০ বছর পর বিবদমান বোয়ালখালী উপজেলা আওয়ামী লীগ ও মহাজোটের মধ্যে ঐক্যের সুর বেজে উঠেছে। আজ বৃহস্পতিবার প্রথম বৈঠকের মাধ্যমে এ প্রক্রিয়া শুরু করা হবে বলে জানান দলের অনেকেই। তবে দীর্ঘদিন পর এ প্রক্রিয়ায় খুশী নেতাকর্মী অনেকেই।
জানা যায়, একসময় দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমেদ ও সহ-সভাপতি এস এম আবুল কালামকে ঘিরে বোয়ালখালী উপজেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠন দু’ধারায় বিভক্ত থাকলেও ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দ্বিধাবিভক্ত এ আওয়ামী লীগ একমঞ্চে দাঁড়িয়ে ‘নৌকা’ প্রতীকের পক্ষে মাঠে নামে একসাথে। দলীয় এ ঐক্যের কারণে দীর্ঘ ৩৫ বছর পর জয় পায় নৌকা প্রতীক। সাংসদ হন মহাজোটের শরিকদল জাসদের কেন্দ্রীয় কার্যকরী সভাপতি মঈনউদ্দিন খান বাদল। নির্বাচনের পরে দল ক্ষমতাসীন হলে মহাজোটের এ তিন শীর্ষ নেতার মধ্যে নতুন করে আবারো দেখা দেয় মতবিরোধ। এ সময় সাংসদ মঈনউদ্দিন খান বাদলের সাথে কালাম সমর্থিত অংশটি যোগ হয়ে মোছলেম বিরোধী শক্ত অবস্থান গড়ে তোলে এলাকায়। পাল্টা-পাল্টি উপজেলা কমিটিও দেয় দু’গ্রুপ। দু’গ্রুপের ক্ষোভ প্রকাশ্যে রূপ নেয়।
২০০৯ সালের ১৪ নভেম্বর। তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হকের উপস্থিতিতে বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙের একটি অনুষ্ঠানে দু’গ্রুপের মধ্যে মঞ্চ দখল ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এমন কি সভা শেষে সাংসদের গ্রামের বাড়িতে মন্ত্রী ও অতিথিদের মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন থাকলেও মোছলেম গ্রুপের বাধার মুখে মন্ত্রী ও অতিথিদের না খেয়েই ফিরে যেতে হয়েছে। মূলত সেই থেকেই প্রকাশ্যে রূপ নিতে থাকে বাদল-কালামের সাথে মোছলেম গ্রুপের দ্বন্দ্ব। গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইকে কেন্দ্র করে ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জমান জাবেদের সাথে সৃষ্ট মোছলেম উদ্দিনের মতবিরোধে কিছুটা শক্তি পায় কালাম-বাদল গ্রুপটি। এ গ্রুপে তখন তস দিতে শুরু করেন মন্ত্রী জাবেদ। ২০১৫ সালে বাদল-কালাম গ্রুপ আয়োজিত বোয়ালখালীর এক সভা থেকে মোছলেম উদ্দিনকে ‘সওদাগর’ আখ্যা দিয়ে তাঁর কঠোর সমালোচনা করে যান মন্ত্রী জাবেদ। এর পর থেকেই তুষের আগুনের মত দ্বিগুণ হারে জ্বলতে থাকে এখানকার বিবদমান এ দু’গ্রুপ। জ্বালানি বন্ধ করার চেষ্টায় এক পর্যায়ে ২০১৬ সালে এস এম আবুল কালামকে কুয়েতের রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দেয় সরকার। এ দিকে মোছলেম গ্রুপ ও কিছুটা দূরত্ব কমিয়ে আনে মন্ত্রী জাবেদের সাথে। একই বছর জাবেদ-মোছলেম মিলে বোয়ালখালী উপজেলা পরিষদ সম্মুখে অপর এক সভার মাধ্যমে টা-টা দেয় বিরোধী শিবিরকে। এ সময় বাদলের নেতৃত্বে এ গ্রুপ কিছুটা স্লথ হলেও নিস্তার পায়নি অপর গ্রুপের অবিরাম বাকযুদ্ধ ও একে অপরের বিরুদ্ধে বিষোদগার থেকে। যা নমিনেশন সাবমিটের আগ পর্যন্তও বজায় ছিল। তবে গত ২৯ নভেম্বর মহাজোট প্রার্থী মঈনুদ্দিন খান বাদল সস্ত্রীক মোছলেম উদ্দিনের বাসায় যাওয়ার পর থেকেই বরফ গলা শুরু হয়। যার অংশ হিসেবে আজকের এ বৈঠক। এ ব্যাপারে বোয়ালখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম জহিরুল আলম জাহাঙ্গীর এসব ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বড় দলে বিবেদ মতভেদ থাকতেই পারে। তবে আগামীতে নৌকার বিজয়ের ব্যাপারে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ। তাই আজকের এ সভা। আদর কমিউনিটি সেন্টারে আহুত এ সভায় সভাপতিত্ব করবেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. নুরুল আমিন চৌধুরী এবং জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমদ প্রধান অতিথি থাকবেন বলে জানান তিনি। অপরদিকে অন্য অংশের সভাপতি ও সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা আহমদ হোসেন ও এস এম সেলিম জানান, আগামী নির্বাচনে নৌকাকে বিজয়ী করতে ও জাতীয় স্বার্থে সব ভেদাভেদ ভুলে সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা এ সভায় অংশগ্রহণ করবেন।

x