বোয়ালখালীতে কোনো কাজে আসছে না যাত্রী ছাউনীগুলো

লাগে যানজট, বাড়ছে দুর্ঘটনা

মনজুর আলম, বোয়ালখালী

বুধবার , ১২ জুন, ২০১৯ at ৬:০৫ পূর্বাহ্ণ
20

যাত্রীদের অপেক্ষা ও বিশ্রামের জন্য পুরো উপজেলা জুড়ে কমপক্ষে অর্ধ ডজনেরও অধিক যাত্রী ছাউনী রয়েছে। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে প্রভাবশালীদের দখলে অথবা পরিত্যক্ত অবস্থায় অনেক আগে থেকেই নষ্ট হয়ে পড়ে আছে এগুলি। সরেজমিনে পরিদর্শনপূর্বক দেখা যায়-উপজেলার গোমদন্ডী ফুলতল চৌরাস্তার মোড়। এটি চট্টগ্রাম কক্সবাজার মহাসড়কের সংযোগ সড়ক। চট্টগ্রাম হয়ে ফুলতল, পটিয়া হয়ে ফুলতল, ফুলতল হয়ে কানুনগোপাড়া ও পশ্চিম গোমদন্ডীসহ উপজেলার নয় ইউনিয়ন ও এক পৌরসভার শত-শত যাত্রী এ স্টেশনে উঠানামা করেন। প্রায় সময় থাকে যাত্রীদের ভীড়। ওই স্থানে যাত্রীদের বসার জন্য নির্মাণ করা হয় যাত্রীছাউনি। কিন্তু সেই যাত্রীছাউনি যাত্রীদের কোন কাজে আসছেনা। যাত্রী ছাউনির ভেতর নোংরা অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে বখাটেদের উৎপাত। যাত্রী ছাউনির ভেতরের একপাশে পানের দোকান। বসতে না পেরে যাত্রীরা রোদ বৃষ্টি উপেক্ষা করে সড়কের ওপরেই দাঁড়িয়ে থাকেন।
একই অবস্থা উপজেলা সদরের যাত্রী ছাউনিতেও। এখানে উপজেলা পরিষদের সামনে কানুনগোপাড়া হাওলা ডিসি সড়কের পাশে রয়েছে এ যাত্রীছাউনি। এখানে যাত্রীদের বসার কোন পরিবেশ নেই। ভেতরে কুকুর বেড়াল আর বর্জ্য। দূর্গন্ধে টেকা দায়। সামনে ভাসমান দোকান। এক পুরাতন কাপড় বিক্রেতা তা দখলে নিয়ে ব্যবসা চালাচ্ছে নির্ধিদ্বায়। উপজেলার ৬টি যাত্রী ছাউনির প্রায় একই চিত্র। রাতের আঁধারে এসব যাত্রী ছাউনি অসামাজিক কার্যকলাপের স্থান হয়ে উঠে বলে অনেকের অভিযোগ। কালুরঘাট ও কানুনগোপাড়া স্টেশনের যাত্রী ছাউনিতে গড়ে উঠেছে এখন ফল,টিভি ফ্রিজ ও মোবাইল সামগ্রীর দোকান । কালুরঘাটে নির্মিত যাত্রী ছাউনির কোন চিহ্ন খুঁজে পাওয়া মুশকিল। যাত্রী ছাউনিরস্থলে গড়ে উঠেছে কুলিং কর্ণার আর মোবাইল সামগ্রীর দোকান। এর আধা কিলোমিটারের মধ্যে হযরত পেতন শাহ(রা)মাজার গেইট এলাকায় থাকা আর একটি যাত্রী ছাউনি এখন সিএনজি অটোরিকশা গ্যারেজ। চারদিকে ময়লা আবর্জনার স্তূপ। এ যাত্রী ছাউনির কয়েকশ গজের মধ্যেই ফুলতল চৌরাস্তার পাশের যাত্রী ছাউনি পরিত্যক্ত অবস্থায় বেদখলে। ফুলতল থেকে আধা কিলোমিটারের মধ্যে উপজেলা সদরের যাত্রী ছাউনি এবং ফুলতল থেকে আধা কিলোমিটারের মধ্যে শাকপুরা চৌমুহনীর যাত্রী ছাউনিটির অবস্থানও শোচনীয়। উপজেলার সব যাত্রীছাউনির চিত্র একই রকম। বেদখল, অপরিষ্কার,দুর্গন্ধ এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বসার অবস্থা না থাকায় যাত্রীদের ব্যবহারের পরিবেশ হারিয়েছে অনেকদিন আগেই। ফলে যাত্রীরা সেগুলো ব্যবহারে তেমন আগ্রহীও নন। কানুনগোপাড়া বাস মালিক সমিতি সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭৯ সালে চট্টগ্রাম কানুনগোপাড়া সড়কে বাস সার্ভিস চালু করা হয়। সে সময় অন্যকোন যানবাহনের বিস্তার না ঘটায় বোয়ালখালীর যাত্রী সাধারণের নগরে যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম ছিল বাস সার্ভিস। সে সময় অর্ধশতাধিক বাস শতাধিকবার নগরীতে যাতায়াত করত। ১৯৮১ সাল থেকে যাত্রীদের বিশ্রামের সুবিধার্থে পর্যায়ক্রমে গড়ে উঠে বোয়ালখালীতে নির্মিত যাত্রী ছাউনিগুলি। দুই হাজার সালের পরে ডাইহাটসু, টুকটুকি ও সিএনজি অটোরিকশার দাপট এ সড়কে অতিরিক্ত মাত্রায় বেড়ে যাওয়ায় ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যায় বাস সার্ভিস। সেই থেকে যাত্রীছাউনীগুলোর অবস্থা ও একই রকম। খোঁজ নিয় জানাগেছে এসব যাত্রী ছাউনির দেখভালের দায়িত্বেও রয়েছেন উপজেলা ও পৌর প্রশাসন। যাত্রীদের অভিযোগ, কর্তৃপক্ষ যাত্রী ছাউনি নির্মাণ করে দায় সেরেছেন এসবের কোন তদারকির কাজে তাঁরা নেই। যদি কর্তৃপক্ষ সজাগ থাকতো তাহলে এসব যাত্রী ছাউনি বেহাত বা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতো না। যাত্রী ছাউনির সামনে সড়কের উপর দাঁড়িয়ে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করা সিরাজুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ছাউনির ভেতরের অবস্থা নোংরা। দুর্গন্ধে বমি আসে। যেসব যাত্রী ছাউনি রয়েছে সবগুলোই নোংরা ও অপরিস্কার। এগুলো ঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণও করা হচ্ছে না। যানবাহনগুলো ছাউনির সামনে না দাঁড়িয়ে এলোমেলোভাবে রাস্তার উপর দাঁড়ায়। ফলে যানজট লেগে যায়। যাত্রীছাউনি ব্যবহার উপযোগী পরিবেশ না থাকায় সড়কে দাঁড়িয়ে যানবাহনে উঠার অপেক্ষা করছেন তিনি। খায়েরুল আমিন নামের একজন চালক বলেন, যাত্রী ছাউনিগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকায় এলোমেলোভাবে সড়কের উপর দাঁড়িয়ে থাকেন যাত্রীরা। ফলে গাড়ি চালকদের সড়কের পাশ থেকে যাত্রী উঠাতে হয়। যাত্রী ছাউনিগুলো সচল করা হলে সড়কে শৃংখলা ফিরে আসতো বলে তিনি মন্তব্য করেন। এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) একরামুল ছিদ্দিক বলেন,যাত্রী ছাউনিগুলি কি অবস্থায় আছে তা দেখে ব্যবস্থা নেয়া হবে। যাত্রী ছাউনিগুলো কেউ যদি অবৈধভাবে দখলে থাকে তাহলে সে বিষয়েও আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং যাত্রী ছাউনিগুলি উদ্ধার করে যাত্রীদের ব্যবহারের উপযোগী করে দেয়া হবে।

x