বৈলগাঁও চা-বাগানে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা এবার সাড়ে তিন লক্ষ কেজি

কল্যাণ বড়ুয়া মুক্তা, বাঁশখালী

বৃহস্পতিবার , ১০ জানুয়ারি, ২০১৯ at ৪:৫৪ পূর্বাহ্ণ
47

বাঁশখালীর বৈলগাঁও চা বাগানে ক্লোন চা উৎপাদন হওয়ায় এই বাগানটি বর্তমানে দেশের অন্যতম শীর্ষ স্থানে রয়েছে। বাঁশখালীতে অবস্থিত ৩ হাজার ৪ শত ৭২.৫৩ একর জায়গা জুড়ে অবস্থিত এই চা-বাগানটির রয়েছে বিশাল এক ইতিহাস। যা পর্যালোচনা করে দেখা যায় বাগানটির প্রতিষ্ঠার সঠিক তথ্য কারো জানা নেই, লোক মুখে জানা গেছে ১৯১২ সালে ইংরেজরা যখন বাগানটি শুরু করেন তখন বাগানের ম্যানেজার ছিলেন মি: হিগিন।
মাত্র ৮ (আট) একর চা-বাগানটি বাংলাদেশ চা-বোর্ড ১৯৯২ সালে স্বাক্ষরিত চুক্তিপত্র অনুযায়ী চাঁদপুর বেলগাঁও চা-বাগানটি ব্যবস্থাপনার জন্য রাগীব আলীর স্বত্বাধিকারী বাঁশখালী টি কেম্পানীর নিকট হস্তান্তর করেন। অতঃপর চাঁদপুর বেলগাঁও চা-বাগানের মালিকানা ব্র্যাক, বাঁশখালী টি কোম্পানীর নিকট থেকে গত ২০১৫ সালের ৫ নভেম্বর থেকে সিটি গ্রুপ পরিচালিত ফজলুর রহমান গং এর ভ্যান ওমেরান ট্যাংক টার্মিনাল (বাংলাদেশ) এবং ইন্টারন্যাশনাল ওয়েল মিলস্‌ ক্রয় করেন। এ শ্রেণিভুক্ত চা বাগানটিতে ম্যানেজার ১ জন,সহকারী ম্যানেজার ৪ জন,ষ্টাফ ২৬ জন,শ্রমিক ৬০০ জন রয়েছে,সারা বাংলাদেশে ১৬২টি চা বাগানের মধ্যে বাঁশখালী বৈলগাঁও চা বাগানটি গুণগত মান অনুযায়ী ১২ তম এবং চট্টগ্রাম অঞ্চলের মধ্যে ৩য় স্থানে রয়েছে ।বর্তমানে চা বাগান এলাকায় ৬৩৮ একর আবাদী এবং ৫০ একর জায়গায় আগর চাষ করা হয়েছে। চাঁদপুর বেলগাঁও চা-বাগানে শতকরা ৯০ ভাগ ক্লোন চা এবং চায়ের গুণগত মান ভালো। চায়ের উৎপাদন সম্পূর্ণভাবে আবহাওয়া নির্ভর। সেকারণে চা-বাগানের উপযোগী বৃষ্টিপাতের উপর উৎপাদনের তারতম্য হয়। বাগানে ৪০-৫০ টি বন্যহাতি বিচরণের ফলে শ্রমিকদের কাজের বিঘ্ন ঘটে এবং প্রায়ই নতুন আবাদীর বাচ্চা চারাসহ নার্সারির ব্যাপক ক্ষয় ক্ষতি করে। ২০০২ সালে ৮০ হাজার কেজি চা উৎপাদন দিয়ে কার্যক্রম শুরু করা বাগানটি চলতি বছরে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৩ লক্ষ ৫০ হাজার কেজি । তবে তা অনেক ক্ষেত্রে বৃষ্টির কারণে বিঘ্ন হয়ে থাকে । প্রতি বছর জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে চা-পাতা উৎপাদন কম হয়ে থাকে ।
চা বাগানের অভ্যন্তরে ৬ শতাধিক কর্মচারীর নাগরিক সুযোগ-সুবিধা, স্বাস্থ্য সেবা, শিক্ষাসহ অন্যান্য সার্বিক সুযোগ সুবিধা রয়েছে বলে জানান চা-বাগানের ম্যানেজার আবুল বাশার। চা-বাগান কর্তৃপক্ষের নিজস্ব উদ্যোগে প্রতিদিন বাগানের সর্বত্র আধুনিক উপায়ে পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা করা হয় ।
বর্তমান শীত মৌসুম আসতে না আসতেই এই চা-বাগানে পর্যটকরা ভিড় জমাচ্ছে । চা বাগানের যাতায়াতের সড়কটি যথাযথভাবে সংস্কার না হওয়ায় এখানে ঘুরতে আসা পর্যটকদের অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয় । তবে সড়ক সংস্কার কাজ শুরু হলেও তা অজ্ঞাত কারণে বন্ধ রয়েছে। সড়কটি জরুরী ভিত্তিতে সংস্কারের জন্য বাঁশখালীর সাংসদ আলহাজ্ব মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন এলাকাবাসী। বাঁশখালীর বৈলগাঁও পুকুরিয়া সরকার চা বাগান পরিদর্শনকালে বাগানের ম্যানেজার আবুল বাশারের সাথে কথা হলে তিনি জানান, বাঁশখালীর এই বিশাল চা বাগানের চা পাতা সারা দেশে সুখ্যাতি রয়েছে। এই মানের জন্য চা বাগানের কর্মকর্তারা প্রতিদিন অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, আমাদের উৎপাদন যত বৃদ্ধি পায় সরকার রাজস্ব তত বেশি পায়। বর্তমানে চা পাতার বিক্রিত অর্থ থেকে সরকার ১৫% হারে ভ্যাট পান। তবে তিনি বাগানের কিছু সমস্যার কথা উল্লেখ করে বলেন, চা বাগানের চার পাশে ঘেরা বেড়া না থাকায় প্রতিদিন হাতির পাল চা বাগানে ছুটে আসে। ফলে শ্রমিক-কর্মচারীরা প্রায় সময় শংকিত থাকে।
তিনি সরকারি এই রাজস্ব আয়ের অন্যতম চা-বাগানকে আরো বেশি পৃষ্ঠপোষকতার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

- Advertistment -