বৈঠা হাতে রাজপথে নেমে আসে মাঝিমাল্লারা

আজাদী ডেস্ক

বৃহস্পতিবার , ১৪ মার্চ, ২০১৯ at ৬:৩৭ পূর্বাহ্ণ
122

১৯৭১ সালের ১৪ মার্চ ঢাকার উত্তাল রাজপথে ছিল ব্যতিক্রমধর্মী চিত্র। মাঝিমাল্লারা বৈঠা হাতে এদিন রাজপথে নেমে আসে। সেদিনের রাজপথ ছিল মাঝিমাল্লাদের দখলে। সামরিক আইনের ১১৫ ধারা জারির প্রতিবাদে বেসরকারি কর্মচারীরাও বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। জনগণকে গণতান্ত্রিক অবস্থা থেকে বঞ্চিত করার প্রতিবাদে খ্যাতিমান শিল্পী শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন তার ‘হেলালে ইমতিয়াজ’ খেতাব বর্জন করার ঘোষণা দেন।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এদিন নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় বসার ব্যাপারে পূর্বশর্তারোপ করেন। তিনি জানান, যদি প্রেসিডেন্ট দাবি পূরণের ইচ্ছা নিয়ে আলোচনায় বসতে চান, তাহলে আমি বসতে পারি। তবে বঙ্গবন্ধু দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসার আহ্বান জানান। তিনি শর্তারোপ করে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টকে জানিয়ে দেন, বৈঠকে কোনোভাবেই তৃতীয় কোনো পক্ষ উপস্থিত থাকতে পারবে না।
অন্যপক্ষে পাকিস্তান পিপলস পার্টির নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টো বঙ্গবন্ধুর দেওয়া ৬ দফা দাবি প্রত্যাখ্যান করে বিবৃতি দিলেও ঢাকায় এসে বাস্তব অবস্থা উপলব্ধি করে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে অলোচনার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। কেননা তখন পুরো বাংলাদেশ চলছে বঙ্গবন্ধুর অঙ্গুলি হেলনে। যেখানে পাকিস্তানের ন্যূনতম প্রশাসনিক ক্ষমতা নেই।
এদিকে একাত্তরের এই দিনে পাকিস্তানের প্রভাবশালী ন্যাপ (ওয়ালী) নেতা খান আবদুল ওয়ালী পূর্ব পাকিস্তান সফরকালে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে একান্তে আলাপ-আলোচনা করেন। পরে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় বাঙালির আন্দোলন এবং তাদের দাবির প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেন।
একাত্তরের রক্তক্ষরা এই দিনে জাতীয় লীগ নেতা আতাউর রহমান অস্থায়ী সরকার গঠনের জন্য বঙ্গবন্ধুর কাছে দাবি জানান। এ সময় দেশের পত্রিকাগুলোতেও আন্দোলনকে সমর্থন করে সম্পাদকীয় লেখা চলতে থাকে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দীন আহমেদ অসহযোগ আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১৫ মার্চ পালনে ৩৫টি নতুন নির্দেশনা দেন। এ সময় সমগ্র বাংলাদেশ (পূর্ব পাকিস্তান) আওয়ামী লীগ এবং বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে চলতে থাকে।

x