বৈচিত্র্যে ভরা হাঁসের চর

সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে হতে পারে অন্যতম পর্যটন স্পট

ফরিদুল আলম দেওয়ান, মহেশখালী

বুধবার , ১২ জুন, ২০১৯ at ৬:১২ পূর্বাহ্ণ
130

দেশের একমাত্র পাহাড় বেষ্টিত সাগর কন্যা দ্বীপ উপজেলা মহেশখালী । নানা বৈচিত্রময় এ দ্বীপের সৌন্দর্য অপরিসীম ।
দ্বীপের মাঝ খানে ছোট বড় পাহাড় আর চতুর্পাশে সমুদ্র দেখলে যে কারো মন জুড়াবে সহজে । তার মাঝে মহেশখালী দ্বীপের আরেক উপদ্বীপ রয়েছে ধলঘাটা – মাতারবাড়ি। বঙ্গোপসাগরের কূল ঘেঁষে এ উপদ্বীপের সর্ব দক্ষিণে প্রাকৃতিকভাবে জেগে উঠা বিশাল একটি দ্বীপ। শত প্রকারের পাখপাখালী ও জীব বৈচিত্র্যে ভরপুর এ দ্বীপ। ঝাঁকে ঝাঁকে বুনো হাঁস আছে বলে যার নাম করণ করা হয়েছে হাঁসের দ্বীপ। দ্বীপটিকে স্থানীয় অধিবাসীরা শখের বসে বলে থাকেন ইন্দোনেশিয়ার বিখ্যাত বালি দ্বীপ । ধলঘাটা ইউনিয়নের দক্ষিণে বিশাল এ চরটি হাঁসের চর নামে পরিচিতি লাভ করেছে দীর্ঘ কয়েক যুগ পূর্বে । স্থানীয়দের মতে এক সময় এ চরে বিভিন্ন প্রজাতির অতিথি পাখি ও বুনো হাঁসগুলোর বিচরণ ছিল বলে এ চরের নাম রাখা হয়েছে হাঁসের চর ।
এ হাঁসের চরের চতুর্পাশে সমুদ্র এবং এ চরে রয়েছে ছোট বড় অসংখ্য ঝাউ গাছ আর প্যারাবন । এ দ্বীপে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির জীব-বৈচিত্র , তার মধ্যে লাল কাঁকড়া অন্যতম । আর দ্বীপের প্যারাবনের ছোট বড় গাছ গাছালি গুলো সবুজের সমারোহ করে তুলেছে। যা অন্য রকম সৌন্দর্যে ভরপুর।যেটা পর্যটকদের আরো বেশি আকৃষ্ট করে তুলে । ফলে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা রয়েছে ধলঘাটার এ হাঁসের চরে । অন্য দিকে বঙ্গোপসাগরের বড় বড় উর্মিমালার শব্দে যেন পর্যটকদের হাত ছানি দিয়ে ডাকছে । হাঁসের চরের চতুর্পাশে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা অপরূপ লীলা ভূমি এক পর্যটন এলাকা । স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে , বর্তমানে অনেকে এ হাঁসের চরে বেড়াতে এসে তারা বিভিন্ন রকম ছবি তুলে পর্যটকের খায়েস মেটায় । স্থানীয় সচেতন মহলের অভিমত , সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা আর এখানে আসা পর্যটকরা নিরাপত্তা পেলে হাজার হাজার পর্যটক আসবে এ হাঁসের চরে। কিন্তু স্থানীয় কিছু অসাধু লোক রয়েছে তারা প্রতিনিয়ত এ চর থেকে ঝাউগাছ ও প্যারাবন কেটে উজাড় করে ফেলছে । চরের পার্শ্ববর্তী নির্মাণাধীন কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প ভরাটের জন্যও এ হাঁসের চর থেকে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালি উত্তোলন করে নিয়ে যাওয়ায় হুমকির মুখে পড়ছে এ দ্বীপ । ফলে এ বিশাল চরটি রক্ষণাবেক্ষণ না করলে একদিকে যেমন প্যারাবন শূন্য হবে, তেমনি অন্য দিকে বালি উত্তোলনের কারণে আবারো সাগর গর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে প্রাকৃতিক ভাবে জেগে উঠা এ হাঁসের চরটি । অন্যদিকে পরিবেশবিদের মতে এ হাঁসের চরটি সরকার রক্ষা না করলে পরিবেশ ও প্রতিবেশের উপরও ব্যাপক ক্ষতির আশংকা রয়েছে। পরিবেশবিদরা বলেন, এ হাঁসের চরে পরিবেশের ক্ষতিকারক কোন প্রকল্প নির্মাণ না করে এদ্বীপে পর্যটন এলাকা করলে প্যারাবনও রক্ষা হবে কোন পরিবেশেরও ক্ষতি হবেনা। ফলে এ পর্যটন খাত থেকে সরকার প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার রাজস্বও আয় করতে পারবে বলে জানান দেশের পরিবেশবিদরা ।

x